পাবনায় ছাত্রীনিবাসে ঢুকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা, প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার ঘটনায় পাবনা-নগরবাড়ি মহাসড়ক অবরোধ করে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। প্রক্টর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বার বার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করলেও গুরুত্ব দেননি তারা।

শনিবার দুপুর একটার দিকে এ কর্মসূচির পালন করা হয়। পুলিশ ইতোমধ্যে অভিযুক্ত বখাটে আসিফ ইকবাল চিন্ময়কে গ্রেফতার করেছে।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওবায়দুল হক বলেন, শুক্রবার রাতে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় শহরের রাধানগর মহল্লার একটি ছাত্রীনিবাসে ঢুকে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে হাত ধরে টানাটানিসহ শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়। এ সময় ওই বখাটে ছাত্রীদের বিভিন্নভাবে উত্যক্ত করে। এ ঘটনায় রাধানগর ডিগ্রী বটতলা এলাকার আমিরুল ইসলামের ছেলে অভিযুক্ত আসিফ ইকবাল চিন্ময়কে (২৭) পুলিশ রাতেই গ্রেফতার করা হয়।

এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার দুপুর ক্যম্পাসে সহপাঠিরা বিক্ষোভ করেন এবং সকল শিক্ষার্থীর নিরাপত্তার দাবি জানান। পাশাপাশি বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা পাবনা-নগরবাড়ি মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে এক ঘণ্টা পর তারা অবরোধ তুলে নেন। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সুষ্ঠু দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পদত্যাগও দাবী করেন।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানান, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্রী পাবনা শহরের রাধানগর ডিগ্রী বটতলায় ঝর্ণা ভিলা ছাত্রীনিবাসে থেকে লেখাপড়া করে। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে মদ্যপ অবস্থায় আসিফ ইকবাল চিন্ময় নামের এক বখাটে ওই ছাত্রীনিবাসে জোর করে ঢুকে সেখনকার ছাত্রীদের আজেবাজে কথাসহ বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করে। এ সময় চিন্ময় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ৪র্থ বর্ষ (৭ম ব্যাচ)’র এক ছাত্রীর হাত ধরে টানাটানি করে এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়। অন্যান্য ছাত্রীদের চিৎকারে ছাত্রী নিবাসের মালিক ফরিদুল ইসলাম ভুট্টু ও তার স্ত্রী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।

পরে শিক্ষার্থীরা বার বার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করেও গুরুত্ব দেননি। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় একটি ছাত্রীনিবাসে ঢুকে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তেমন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তাই আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রক্টরসহ সকল প্রশাসনিক পদের কর্তাদের পদত্যাগ দাবী করছি।

অর্থনীতি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক জানান, এত বড় ধরনের একটি ঘটনার পরেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কেন গুরুত্ব দেয়নি, সেটি আমাদের বোধগম্য নয়। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন করছেন এটি তাদের যৌক্তিক দাবী বলেও জানান তিনি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পাবনা ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রতীম কুমার দাস। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা আমাদের মোবাইলে খবর দিলে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করি এবং থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেন।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরো জানান, অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আমরা অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত চিন্ময়কে গ্রেফতার করেছি। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে কোর্টের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হবে।

পূর্ববর্তি সংবাদপুলিশের এএসআইয়ের বিরুদ্ধে শিক্ষিকার সংবাদ সম্মেলন
পরবর্তি সংবাদনাটোরে রাস্তার কুড়িয়ে পাওয়া ফল খেয়ে শিশুর মৃত্যু