শিক্ষককে ক্লাস থেকে বের করে নবীনদের র‌্যাগিং

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শিক্ষককে ক্লাস থেকে বের করে দিয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের র‌্যাগ দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রবীন্দ্র নজরুল কলাভবনের ২০৪নং কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের জুনিয়রদের কাছে লাঞ্ছিত হয়েছেন স্নাতকোত্তর ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী।

এদিকে এ ঘটনায় বিভাগীয় সভাপতি বরাবর মৌখিক অভিযোগ জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এক ছাত্রী। এর প্রেক্ষিতে বিভাগের পক্ষ থেকে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী এবং বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ৪০-৫০ জন শিক্ষার্থী সদ্য ভর্তি হওয়া ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের বিভাগের ২০৪নং কক্ষে ডাকেন। এ সময় নবীনদের পরিচয় হওয়ার নাম করে বিভিন্নভাবে মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী শারমিন (ছদ্ম নাম) গণমাধ্যমকে জানান, সিনিয়ররা ক্লাসে এসে আমাদের নাম-পরিচয় জানতে চান। আমরা নাম পরিচয় বলার পরেও একাধিকবার একই প্রশ্ন করা হয়। সবার সামনে দাঁড়িয়ে গান করা, বেঞ্চের ওপর দাঁড় করানো হয়। এছাড়া ছাত্রীদের ডেকে প্রপোজ করতে বলা হয়। এমনকি কেউ যদি প্রপোজ করে তাহলে কী করবে? এবং কারও সঙ্গে কখনো কোথাও ঘুরতে গিয়েছি কিনা এমন প্রশ্নও করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ওই ছাত্রী।

এদিকে বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আজগর হোসেন নবীনদের ক্লাস নিতে গেলে র‌্যাগিংকারীরা তাকে ৫ মিনিট পর ক্লাসে আসতে বলেন। ক্ষুব্ধ হয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান ওই শিক্ষক। পরবর্তীতে ১০ মিনিট পরে আবারও তিনি ক্লাসে যান। এ সময় র‌্যাগিংকারীরা নবীনদের সঙ্গে তাদের কথা আছে এজন্য বিভাগীয় শিক্ষককে দ্রুত ক্লাস শেষ করতে বলে।

এ বিষয়ে ওই শিক্ষক বলেন, ‘আমি ক্লাসে প্রবেশ করার পর শিক্ষার্থীরা আমাকে দ্রুত ক্লাস শেষ করতে বলেন। এতে আমি একটু প্রেশারাইজড হয়েছি। তাই আমি তাদেরকে কথা শেষ করতে বলে চলে আসি। পরে ওই ক্লাসে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির কথা শুনে অন্যান্য শিক্ষকদের সঙ্গে সেখানে যাই।’

এর আগে র‌্যাগিংয়ের খবর শুনে ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী ২০৪নং কক্ষে যান। তারা নবীন শিক্ষার্থীদের র‌্যাগ দিতে নিষেধ করে। এ সময় র‌্যাগিংকারীরা সিনিয়রদের অপমান করেন বলে অভিযোগ করেন স্নাতকোত্তর বর্ষের শিক্ষার্থীরা।

স্নাতকোত্তর শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ক্যাম্পাসে র‌্যাগিং নিষেধ থাকায় তাদেরকে আমরা র‌্যাগ দিতে নিষেধ করি। এ সময় তারা আমাদের কথা না শুনে ছাত্রলীগ কর্মী রাব্বীকে ফোন দিয়ে ডেকে আনে। রাব্বী আমাদের সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হয়। এ সময় রাব্বী আমাদের বলে, এখানে কে সিনিয়র? আমিই ইংরেজি বিভাগের সব।

তবে এ বিষয়টি অস্বীকার করে রাব্বী বলেন, ‘আমি এটি বলিনি। আমি বরং মীমাংসা করেছি।’

পরে এক ছাত্রী বিভাগের সভাপতির কাছে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা পরিচয় হওয়ার নাম করে তাদের মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ দেন। এর প্রেক্ষিতে বিভাগের পক্ষ থেকে প্রফেসর মিয়া রাসিদুজ্জামানকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, সহকারী অধ্যাপক ইসমেত জেরিন ও ইয়াকুব আলী।

বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. সালমা সুলতানা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিভাগের স্বাভাবিক কার্যক্রম গুটি কয়েক শিক্ষার্থীর কারণে নষ্ট হতে পারে না। আমরা তাদেরকে ডেকে প্রাথমিকভাবে সতর্ক করেছি এবং শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটির সিদ্ধান্তের আলোকে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পূর্ববর্তি সংবাদবাংলাদেশে আরও ৩১ রোহিঙ্গাকে পাঠাতে চায় ভারত
পরবর্তি সংবাদবাংলাদেশে ঢুকে অস্ত্র ফেলে পালালো ২ বিএসএফ