সরকার স্বাধীন গণমাধ্যমকে সন্দেহের চোখে দেখে : মাহফুজ আনাম

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার’র সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন বলেছেন, “২৫ বছরের সম্পাদনার জীবনে আমি এখনো সরকারকে বোঝাতে পারিনি স্বাধীন সাংবাদিকতা সরকারের নিজস্ব স্বার্থের জন্যই কতটা প্রয়োজন। এখনো সরকার আমাদের সন্দেহের চোখে দেখে। মনে করে স্বাধীন সাংবাদিকতা একটা বিরক্তিকর ব্যাপার। এক ধরনের উৎপাত। সরকারের ভুল ধরিয়ে দিয়ে সমালোচনা করলে তারা মনে করে আমরা তাদের ভাবমূর্তি নষ্ট করছি। অথচ তারা বুঝতে চায় না আমরা তাদের ভালোর জন্যই এই কাজ করি। এই আস্থাটাই আমরা সাংবাদিকরা এখনো পর্যন্ত অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছি।”

বুধবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের ৭ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

মাহফুজ আনাম আরও বলেন, “আমরা সাংবাদিকরাই সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ও স্বাধীন চেতনা থাকাটা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা উপলদ্ধি না করে নিজেদের সুবিধার জন্য বিভিন্ন দল-মতের পক্ষে লেজুড়বৃত্তি সাংবাদিকতা করি। স্বাধীন সমাজের জন্য সাংবাদিকদের স্বাধীন এবং সমালোচক মন থাকাটা অত্যন্ত জরুরী। এজন্য সাংবাদিকদেরকে প্রতিনিয়ত সমালোচক মন তৈরির চর্চা করতে হবে। তৈরি করতে হবে সব কিছু নিয়ে প্রশ্ন করার গুণ। কেননা একজন সাংবাদিকের সবচেয়ে বড় গুণ হল প্রশ্ন করা।”

সাংবাদিকতাকে পৃথিবীর সবচেয়ে সম্মানজনক এবং রোমাঞ্চকর পেশা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “সাংবাদিকরা হচ্ছে সমাজের শোষিত এবং লাঞ্ছিত শ্রেণির মানুষের প্রতিনিধি। তারা যদি তাদের হয়ে কথা না বলে তবে কে বলবে? তাদের হয়ে কথা বলার মন মানসিকতা নিয়েই তরুণ প্রজন্মকে সাংবাদিকতায় আসতে হবে।”

আলোচনা সভায় ড. গোলাম রহমান বলেন, “সাংবাদিকতার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সাথে পেশাগত জীবনের বিস্তর ব্যবধান। সাংবাদিকতার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনগুলো এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হচ্ছে। সংগঠনগুলো বিভিন্ন দাবি দাওয়া আদায়ে যতটা কার্যকর সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে ততটা কার্যকর ভূমিকা পালন করছে না।”

সকাল এগারোটায় জাবির কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হয় বর্ণাঢ্য র‌্যালী। র‌্যালী শেষে সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার ড. গোলাম রহমান এবং ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার’র সম্পাদক মাহফুজ আনামকে প্রদান করা হয় আজীবন সম্মাননা।

প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর এই অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিভাগটির সহকারী অধ্যাপক আমিনা ইসলাম, শেখ আদনান ফাহাদ, সালমা আহ্মেদ, হাসান মাহমুদ ফয়সল, সুমাইয়া শিফাত, মীর মো.ফজলে রাব্বি, প্রভাষক নিষাত পারভেজ ও শিবলী নোমান এবং বিভাগটির বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।

পূর্ববর্তি সংবাদঘুষের টাকাসহ ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আটক 
পরবর্তি সংবাদদক্ষিণ আফ্রিকায় মসজিদে গুলিবর্ষণ, নিহত ১