ইসলাম টাইমস ডেস্ক: রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে অপহৃত কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সাগরকে (২২) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের কালীমন্দিরের কাছাকাছি নির্জন স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব। পাশাপাশি শাহবাগ এলাকায় মুক্তিপণের ২৫ লাখ টাকা নিতে এলে অভিযুক্ত অপহরণকারীকে আটক করা হয়। গতকাল রবিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তারকৃত যুবকের নাম মো. তাহিরুল ইসলাম ওরফে পারভেজ। তিনি শরীয়তপুরের ডামুড্যা এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে। তিনি বিএ পাস করে বেকার জীবন যাপন করছেন বলে র্যাবের কাছে দাবি করেন।
জানা যায়, সাগর গত ১৯ জানুয়ারি বিকেল ৫টার দিকে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা মসজিদে নামাজ আদায় করতে যান। কয়েক ঘণ্টা পরেও বাসায় ফিরে না আসায় মোবাইল ফোনে ছেলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন তাঁরা। কিন্তু সাগরের নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ওই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে ছেলের মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে অচেনা এক ব্যক্তি তাঁকে জানান, সাগরকে তিনি অপহরণ করেছেন। ২৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে ওই ব্যক্তি তাঁকে ৭২ ঘণ্টা সময় দেন।
মোহাম্মদ হোসেন র্যাবকে আরো জানান, কিছুক্ষণ পর ফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে আবারও ২৫ লাখ টাকা দাবি করেন ওই ব্যক্তি। একই সঙ্গে মুক্তিপণ না দিলে তাঁর ছেলেকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। তিনি ২১ জানুয়ারি যাত্রাবাড়ী থানায় একটি অপহরণ মামলা (নম্বর-৬৭) দায়ের করেন।
র্যাব কর্মকর্তা মেজর আশরাফুল হক বলেন, অপহরণের অভিযোগ তাঁদের কাছে আসার পর উদ্ধার অভিযানে নামেন তাঁরা। অভিযানের সময় সাগরের পরিবারের সদস্যরা মোবাইল ফোনে ‘অপহরণকারীর’ সঙ্গে যোগাযোগ রেখে আসছিল। মুক্তিপণের টাকা নিয়ে তাদের কখনো যাত্রাবাড়ী, আবার কখনো নারায়ণগঞ্জ যেতে বলা হয়। কদিন ধরে এভাবে সাগরকে নিয়ে ‘অপহরণকারী’ বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করে। সর্বশেষ গতকাল বিকেলে টাকা নিয়ে সাগরের বাবাকে শাহবাগে আসতে বলা হয়। সেখানে ২৫ লাখ টাকা নেওয়ার সময় হাতেনাতে তাহিরুলকে আটক করা হয়।
র্যাব বলছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাহেরুল বলেছেন যে টাকার জন্যই তিনি সাগরকে অপহরণ করেছেন। এ ঘটনায় তাঁর সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না সেটা এখনো জানা যায়নি। তবে ঘটনাটি তারা তদন্ত করে দেখছে।
অভিযান পরিচালনাকারী র্যাব-১০-এর উপ-অধিনায়ক মেজর মো. আশরাফুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, তাঁদের ধারণা এ অপহরণের সঙ্গে কোনো বড় চক্র জড়িত। না হয় অন্য কোনো রহস্য আছে।
















