ইসলাম টাইমস ডেস্ক : দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় বাল্যবিয়ে পড়ানোর অপরাধে হাফেজ মোশাররফ হোসেন নামের এক ইমামকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তিনি উপজেলার বিনাইল ইউনিয়নের আয়ড়ামোড় জামে মসজিদের ইমাম।
অন্যদিকে বাল্য বিয়ের আয়োজক দুই পরিবারের অভিভাবকদের আইনের মুখোমুখি না করে শুধু বিয়ে পড়ানোর দায়ে ইমামকে কারাগারে পাঠানোয় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় মুসল্লিরা।
গতকাল মঙ্গলবার বিরামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজমুন নাহার কুন্দন গ্রামের মোকলেছার রহমানের মাদরাসাপড়ুয়া ছাত্রীকে (১৬) বাল্যবিয়ে পড়ানোর অপরাধে এই দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফোর্সসহ নাজমুন নাহার উপস্থিত হন এবং বাল্য বিয়ে পড়ানোর অভিযোগে হাফেজ মোশারফ হোসেনকে গ্রেফতার করেন এবং কারাদণ্ড দেন নাজমুন নাহার।
হাফেজ মোশারফ হোসেন ফুলবাড়ি উপজেলার মিরপুর গ্রামের মৃত তফিল উদ্দিনের ছেলে।
বিরামপুর থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, বাল্যবিয়ে পড়ানোর দায়ে গ্রেফতারকৃত হাফেজ মোশারফ হোসেনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, আটককৃত ইমামকে ২০১৭ সালের বাল্যবিয়ে নিরোধ আইনের ৯ ধারা অনুযায়ী ৬ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। অথচ একই আইনে বলা হয়েছে, ‘যুক্তিসংগত কারণে মা-বাবা বা আদালতের সম্মতিতে ১৬ বছর বয়সে কোনো নারী বিয়ে করলে সেই ক্ষেত্রে তিনি ‘অপরিণত বয়স্ক’ বলে গণ্য হবেন না।’ মাননীয় আদালত কী এমন যুক্তিসঙ্গত কারণ ছিলো কী না বা ‘বিশেষ কোনো পরিস্থিতি’ রয়েছে কী না তা জানতে চেয়েছেন?
একই আইনে বাল্য বিয়ে সংশ্লিষ্ট পিতা-মাতাসহ অন্যান্য ব্যক্তির ক্ষেত্রে বাল্য বিয়ের জন্য অনধিক ২ বছর ও অন্যুন ৬ মাস কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো ৩ মাস কারাদণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে।
তাহলে শুধু বিয়ে পরিচালনার দায়ে ইমামকে গ্রেফতার করা হলো? উভয় পরিবারের অভিভাবকদের কেনো জবাবদিহি বা বিচারের আওতাভূক্ত করা হলো না? বাল্য বিয়ের মূল আয়োজক যদি আইনের হাত থেকে রেহাই পেয়ে যান, তাহলে অনুরোধ রক্ষাকারী একজন নিরীহ ইমামকে কেন জেলে যেতে হবে? -এই প্রশ্ন এখন সচেতন অনেক নাগরিকের।
















