‘তৃতীয়পক্ষ’ বলে একজন মানুষ আলেমদের ক্ষতি করছেন : আল্লামা সাজিদুর রহমান

তাবলিগ জামাতের চলমান সংকট নিরসনের প্রথম ধাপ হিসেবে সরকার অভিন্ন ইজতেমার সিদ্ধান্ত দিয়েছে। এতে সম্মত হয়েছেন তাবলিগ জামাতের উভয়পক্ষের মুরব্বিগণ। উলামায়ে কেরাম সরকারের এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন। তবে দীর্ঘদিনের চলমান দ্বন্দ্ব ও সংঘাতের কথা স্মরণ করে অনেকেই নানা ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

আসলেও এসব আশঙ্কা কতোটা যৌক্তিক? সব মিলিয়ে কেমন হবে এবারের ইজতেমা? আর কেমনই বা হবে সেখানে উলামায়ে কেরামের অংশগ্রহণ? এসব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন দেশের বরেণ্য আলেম, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জামিয়া দারুল আরকাম আল ইসলামিয়ার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল এবং ঐতিহ্যবাহী জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়ার শায়খুল হাদিস আল্লামা সাজিদুর রহমান।  সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন আতাউর রহমান খসরু।


 

ইসলাম টাইমস : আস সালামু আলাইকুম!

আল্লামা সাজিদুর রহমান : ওয়ালাইকুমুস সালাম!

ইসলাম টাইমস : এ পর্যন্ত সাদপন্থীদের সাথে দেশের বহু স্থানে সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। টঙ্গীর ইজতেমা মাঠেও ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। এরপর উভয়পক্ষের একসঙ্গে ইজতেমা করলে তা কেমন হবে?

আল্লামা সাজিদুর রহমান : আশা করি, ভালোই হবে। কারণ, আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, (অর্থ) ‘সমঝোতাই কল্যাণ’। আমার খেয়াল মিমাংসার পথে এগিয়ে যাওয়াই ভালো হবে। আমরা উভয়ে দীনের জন্য কাজ করি। তাই উভয়পক্ষ যদি কিছুটা ছাড় দিয়ে সমঝোতার দিকে যেতে পারি সেটা আমাদের জন্য, দীনের জন্য ও দেশের ভাবমূর্তির জন্য ভালো হবে ইনশাআল্লাহ!

ইসলাম টাইমস : কিন্তু মাঠে যাওয়ার আগে বা পরে যদি পুরাতন দিনের রাগ-ক্ষোভ জেগে ওঠে?

আল্লামা সাজিদুর রহমান : যেহেতু এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী জড়িত এবং উভয়পক্ষের মুরব্বিরা এক সাথে ইজতেমা করতে সম্মত হয়েছেন। তাই উভয়পক্ষই ধৈর্য্য ও সংযমের পরিচয় দেবেন। উভয়পক্ষ ইজতেমা সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে আন্তরিক হবেন –এমনটিই আশা করছি।

ইসলাম টাইমস : সাদপন্থী অনেকেই দাবি করছেন, ইজতেমায় যেন উলামায়ে কেরাম ও মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করতে না পারেন।

আল্লামা সাজিদুর রহমান : যারা এমন দাবি করছেন তারা ভুল করছেন। ইজতেমা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। উম্মতের সব মানুষ ইজতেমায় অংশগ্রহণের অধিকার রাখে। সুতরাং কে আসবে আর কে আসবে না তা শর্তাধীন করা ঠিক নয়। মাওলানা সাদ আসতে পারবেন না, কারণ তিনি একজন বিতর্কিত মানুষ।

ইসলাম টাইমস : তাদের দাবি উপেক্ষা করে যদি মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষক ইজতেমায় যান এবং বিপদে পড়েন?

আল্লামা সাজিদুর রহমান : আগামীকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উলামায়ে কেরামের সঙ্গে প্রশাসনের বৈঠক হওয়ার কথা। সেখানে এই বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হবে। আজ বেফাকের বৈঠকেও আলোচনা উঠেছিলো যে, ছাত্র-শিক্ষকদের ইজতেমায় যাওয়ার সাধারণ অনুমতি থাকবে কী না? সেখানেও বলা হয়, আগামীকালের বৈঠক এবং সামনের পরিস্থিতি বিবেচনা করে ছাত্র-শিক্ষকদের অংশগ্রহণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ইসলাম টাইমস : সাদপন্থীরা উলামায়ে কেরামকে তৃতীয়পক্ষ বলছে। আবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে ইজতেমা পরিচালনার জন্য গঠিত কমিটিতে উলামায়ে কেরামকে রাখা হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে উলামায়ে কেরামের ভূমিকা কী হওয়া উচিৎ?

আল্লামা সাজিদুর রহমান : উলামায়ে কেরামকে তৃতীয় পক্ষ বলছেন মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ। তাবলিগ ইস্যুতে উনি যে ভূমিকা পালন করছেন তাতে উলামায়ে কেরামের ক্ষতি হচ্ছে। তৃতীয়পক্ষ বলতে কিছু নেই। উলামায়ে কেরাম মুসলিম উম্মাহর মুসলিহ (সংশোধনকারী, কল্যাণকামী)। নবী আ.-এর দায়িত্ব ছিলো ইসলাহ করা। এখন উলামায়ে কেরামের দায়িত্ব উম্মাহর কেউ ভুল করলে তা সংশোধন করা। উলামায়ে কেরাম তা না করলে কে করবে?

উলামায়ে কেরাম আগেও কখনো ইজতেমার পরিচালনায় ছিলেন না। তারা আগে যেমন সাধারণ মানুষের কাতারে গিয়ে বসতেন, এখনও সাধারণ মানুষের কাতারে গিয়ে বসবেন। আমি শুনেছি, ফরীদ মাসঊদ সাহেব বলেছেন, ছাত্ররা আলাদা বসবে। এটা ঠিক না। এটা অন্যায়। আমরা এর সাথে একমত নই।

ইসলাম টাইমস : এবারের ইজতেমার বয়ানে কোন কোন বিষয়ে লক্ষ্য রাখা দরকার?

আল্লামা সাজিদুর রহমান : আগে যেমন আম তাবলিগি উসুল (তাবলিগের চিরায়ত রীতি) অনুযায়ী বয়ান হবে। কাউকে আঘাত করা বা খোঁচা দেওয়ার দরকার নেই। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ যেন বজায় থাকে সেই চেষ্টা সবারই করা উচিৎ। পরস্পর সহনশীল না হলে আমাদের দ্বীনি কাজেরই ক্ষতি হবে।

ইসলাম টাইমস : দীর্ঘ সময় ও মূল্যবান মতামতের জন্য ধন্যবাদ। আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন।

আল্লামা সাজিদুর রহমান : আল্লাহ আপনাদেরকেও উত্তম প্রতিদান দিন।

পূর্ববর্তি সংবাদ‘এরকম কোনোদিন প্রত্যাশা করি নাই, যেটা এবার আমরা দেখলাম’
পরবর্তি সংবাদদুর্নীতি বিরোধী অভিযানে আছে চিন্তার খোরাক