‘এখনকার আলেম-সাহিত্যিকদের অনেকের কাজেই ‘সাহিত্য হয়ে ওঠার’ ব্যাপারটা থাকে’

কুষ্টিয়ার ছেলে শামীম আহমাদ। হিফজুল কুরআন ও দাওরায়ে হাদীস সম্পন্ন করে এখন শিক্ষকতা করছেন ঢাকার একটি মাদরাসায়। ৩৩ বছর বয়সী এক স্বপ্নবান সাহিত্যসেবী। গদ্যের ভাষায়, বিশেষত গল্প লেখায় তার হাত বেশ মসৃণ ও সচল। খ্যাতি ও আওয়াজ কম, কিন্তু কাজের নিভৃতির সঙ্গে লেগে আছেন তরুণ এই আলেম-লেখক। ভাষার মাসের আয়োজনে ইসলাম টাইমসের পক্ষে তার সামনাসামনি হয়েছেন আবু তাশরীফ ।


 

ইসলাম টাইমস: কয়টা বই আপনার বেরিয়েছে? কী বই- অনুবাদ না মৌলিক?

শামীম আহমাদ : এ পর্যন্ত ৫টি বই বের হয়েছে। ৩টিই অনুবাদ। ২টি বই কিছুটা মৌলিক। মূল লেখার সঙ্গে আরো কিছু পাঠ করে সংযোজন করেছি। নিজের মতো করে লিখেছি।

ইসলাম টাইমস : আপনি তো আসলে গল্প লেখেন। গল্পের কোনো বই বের হয়নি?

শামীম আহমাদ : না, এখনো বের হয়নি। গল্প লিখেছি প্রচুর। বিভিন্ন সাহিত্যপত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে সেসব গল্প। প্রকাশকদের সাথে আলাপও হয়েছে-হচ্ছে। বিভিন্ন বই অনুবাদের ব্যাপারে যে আগ্রহ, গল্পের বই প্রকাশের ব্যাপারে সে আগ্রহ তাদের দেখা যায় না। ৩টি গল্পের বই প্রস্তুত। উপন্যাসও আছে। এখনো বই রূপে বের হয়নি। আশা করছি, সামনে বের হবে।

ইসলাম টাইমস : আপনার গল্পে ধারা বা গদ্যের কাজের পাশাপাশি মেসেজও কি কিছু থাকে?

শামীম আহমাদ : মেসেজটা থাকে সূক্ষ্মভাবে। খুব বড় করে মেসেজ দিতে চাইলে গল্প ভারাক্রান্ত হয়ে যায় অনেক সময়। ইসলামী জীবন, সুন্দর জীবনের প্রতি এক ধরনের মেসেজ বা পরিণতি থাকে গল্পগুলোতে। আর ভাষার আধুনিকতা ও স্বাদ নিয়ে তো মনোযোগী থাকতেই হয়।

ইসলাম টাইমস : তরুণ আলেমদের সাহিত্য নিয়ে আপনার মূল্যায়ন বা ভাবনাটা কী?  এ সময়ে কেমন হচ্ছে কাজ,সাহিত্যচর্চা?

শামীম আহমাদ : এখনকার আলেম-সাহিত্যিকদের অনেকের কাজেই ‘সাহিত্য হয়ে ওঠার’ ব্যাপারটা থাকে। রচনার বিষয় ধর্ম বা সমাজ যাই হোক, লেখাটা সুখপাঠ্য হওয়া-সাহিত্য হওয়া এই চেষ্টাটা চোখে পড়ে। এটা খুবই আশাব্যাঞ্জক।

ইসলাম টাইমস : আলেমদের কথাসাহিত্য বা শিল্পীত কাজগুলোর গ্রন্থবদ্ধ প্রকাশের ব্যাপারটা কেমন? সৃজনশীল কাজগুলো প্রকাশে কী ধরনের প্রতিকূলতা দেখেন?

শামীম আহমাদ : সৃজনশীল লেখকের মূল কাজগুলোর প্রকাশনাটা হয় না, কম হয়। সৃজনশীল সাহিত্য সেবক নিজ থেকে যে কাজটা করেন সেটার প্রতি প্রকাশকদের আগ্রহ কম। বিভিন্ন বইপত্রের অনুবাদ করে দিলে সেটা দ্রুত প্রকাশ হয়ে যায়। তাদের দেওয়া কাজ করতে থাকলেও প্রকাশে কোনো সমস্যা হয় না। নিজের শিল্পীত কাজটা পড়ে থাকে। এ অবস্থাটা হয়তো একদিন কাটবে।

ইসলাম টাইমস : আপনি গল্প লেখা বন্ধ করে দেবেন? কী ভাবছেন?

শামীম আহমাদ : না, আমি ব্যাপারটা নিয়ে হতাশ না। গল্প লিখে যাব। নানা রকম ধারা ও মেসেজ সামনে রেখে কাজ করব। ইনশাআল্লাহ আমার নিজস্ব সাহিত্যচেষ্টা বা গল্পের বইও বের হবে।

ইসলাম টাইমস : ফেব্রুয়ারি এলে ভাষাচর্চার প্রসঙ্গটা আসে। আলেম সাহিত্যসেবীদের তো ভাষাচর্চার সঙ্গে আরো বিবেচনাও থাকে। এসময় বইমেলা হয়, নানা রকম বই প্রকাশ হয়। আপনি কী ভাবছেন?

শামীম আহমাদ : বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্লাটফর্মগুলোতে আমাদের যাওয়া দরকার। সুযোগও থাকা দরকার। সুযোগ নেওয়াও দরকার। সাধারণ শিক্ষাধারার ছাত্রদের চেয়ে কওমি মাদরাসার ছেলেরা গড়ে এবং হারে বাংলাভাষার সৃজনশীল বই বেশি পড়ে-দেখে। ১০০ জন ছাত্রের মধ্যে স্কুল-কলেজের ৫ টি ছেলে সৃজনশীল সাহিত্য পড়লে মাদরাসার ক্যাম্পাসে ২০ জন ছাত্র সেটা পড়ে। তাই ভাষা ও সাহিত্যের যতগুলি প্লাটফর্ম আছে, সে জায়গাগুলোতে মাদরাসার ছাত্র ও আলেমদের ভালো অবস্থান থাকা দরকার। এটার চেষ্টাও দরকার।

ইসলাম টাইমস : বাংলা ভাষার মূলধারার সাহিত্য পড়তে পড়তে অনেক তরুণ তো আবার চিন্তায়-রুচিতে একটু ছিটকে পড়তে থাকে বলে অভিযোগ-অনুযোগ আছে। আপনার কী মনে হয়?

শামীম আহমাদ : আদর্শ বা আলেমসুলভ চিন্তাভঙ্গি থেকে বিচ্যুত হলে তো আলেমদের সাহিত্য করে কোনো লাভ নেই। এমন সাহিত্য তো দেশে প্রচুর। আদর্শের জায়গাটা ঠিক রেখেই সাহিত্যের সৃজনশীল শাখাগুলোতে কাজ করতে হবে। এ জায়গাটায় তরুণদের যত্নবান থাকতে হবে।

ইসলাম টাইমস : একদম শুরুর দিকের প্রশ্ন। লেখালেখির প্রতি আগ্রহটা কখন কীভাবে জাগলো মনের মধ্যে?

শামীম আহমাদ : হেফজখানায় যখন পড়তাম, তখন থেকেই শুরু। অবসর সময়ে গল্পের বই পড়তাম। নাসীম হিজাযীসহ বিভিন্ন গল্পের বই। আমাদের একজন উস্তাদ ছিলেন মাওলানা আবদুস সালাম সাহেব। তিনি উৎসাহ দিতেন।

ইসলাম টাইমস : লেখালেখির শুরু কখন? কিছু কিছু হাতচর্চা?

শামীম আহমাদ : আমার বয়স তখন ১৫/১৬ বছর। ২০০১ সালের দিকে। প্রথম বর্ষে পড়ি। তখনই আদর্শ নারী, রহমানী পয়গাম, রহমত এসব পত্রিকায় লেখা পাঠাতাম। লেখা ছাপা হতো। উৎসাহিত হতাম। সেভাবেই শুরু।

ইসলাম টাইমস : সময় দেওয়ার জন্য শুকরিয়া।

শামীম আহমাদ : আপনাকেও অনেক শুকরিয়া।

পূর্ববর্তি সংবাদসিলেটের দরগাহ মাদরাসার মুহতামিম সড়ক দুর্ঘটনায় আহত, সকলের কাছে দোয়া কামনা
পরবর্তি সংবাদচা-চক্রে যাচ্ছেন না জানিয়ে ঐক্যফ্রন্টের চিঠি