ইসলাম টাইমস ডেস্ক: স্ত্রীর সঙ্গে রাগ করে আত্মহত্যা করেছেন চট্টগ্রামের ড. আকাশ। আত্মহত্যা কোনো সমাধান নয়। এটি যন্ত্রণাকে কমায় না, বরং আরো বাড়ায়। কিন্তু তারপরও কেন ড. আকাশ আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন? তার সামনে কি আত্মহত্যা ছাড়া কি আর কোনো রাস্তা খোলা ছিল না?
জানা যায়, একাধিক পুরুষের সঙ্গে স্ত্রীর দিনের পর দিন অবৈধ সম্পর্কের কারণে দীর্ঘ দিন ধরে মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছিলেন ডা. মোস্তফা মোরশেদ আকাশ। যন্ত্রণা এতটা প্রকট হয়ে উঠেছিল যে, শেষ পর্যন্ত স্ত্রীকে পাপের পথ থেকে ফেরাতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন তরুণ সম্ভাবনাময়ী এ চিকিৎসক।
মৃত্যুর আগে স্ত্রী তানজিলা হক মিতুর উদ্দেশে ফেসবুকে শেষ স্ট্যাটাস দেন ডা. আকাশ। তাতে তিনি লিখেন, ‘ভালো থেকো আমার ভালোবাসা, তোমার প্রেমিকদের নিয়ে’। এ স্ট্যাটাস দিয়েই শরীরে বিষাক্ত ইনজেকশন পুশ করে আত্মহত্যা করেন ডা. আকাশ।
অতি আধুনিকতার নামে উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনই এখন পারিবারিক সম্পর্কগুলো ভেঙে দিচ্ছে। সামাজিক বিষয়াদিতে ধর্মীয় অনুশাসন অমান্য করা এসব সামাজিক সংকটের প্রধান কারণ। ফেইস বুকে দেওয়া ডা. আকাশের স্ট্যাটাসেও বিষয়টি ফুটে ওঠেছে ।
স্ত্রীর প্রতি অভিমানী ডা. আকাশ লেখেন- ‘আমার শাশুড়ি দায়ী এসবের জন্য, মেয়েকে আধুনিক বানাচ্ছে। একটু বেশি বানিয়ে ফেলেছে। উনি চাইলে এখনো সমাধান হতো।
কথা হল আত্মহত্যাই কি আকাশের শেষ অবলম্বন ছিল? স্ত্রীর অপকর্মগুলো জানার পর ডা. আকাশ স্ত্রীকে শরীয়াহ মোতাবেক তালাক দিতে পারতেন। কিন্তু তা না করে তিনি আত্মহত্যা করলেন, যা ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় উভয় দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুতর অপরাধ। আত্মহত্যার মাধ্যমে তার নিজের ক্ষতি হয়েছে শুধু তা নয়, তার পরিবারও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাষ্ট্রও একজন চিকিৎসক হারিয়েছে।
এ জন্য দাম্পত্য কলহ অসহনীয় হয়ে গেলে তখন তালাকের সুযোগ ইসলামে রয়েছে। আত্মহত্যা বা নির্যাতন কোনো সমাধান নয়।
বিবাহের মোহর ও তালাক প্রসঙ্গে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি হল ‘বিবাহ যেহেতু মানবজীবনের অন্যতম অনুষঙ্গ, তাই ইসলামে বিবাহের বিষয়টি খুবই সহজ করা হয়েছে। ইসলামে মোহরের ক্ষেত্রে সুন্দর নির্দেশনা রয়েছে।অনেক বড় অঙ্কের মোহর ধার্য করা যেমন শরীয়তে কাম্য নয়, তেমনই তা একেবারে তুচ্ছ ও সামান্য হওয়াও উচিত নয়। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ ও সাহাবায়ে কিরামের সাধারণ রীতি এ ক্ষেত্রে উত্তম আদর্শ।’
বিভিন্ন মাধ্যমে জানা গেছে ডা. আকাশের বিয়ের মোহর ছিল ৩৫ লাখ টাকা। তালাক দিলে যা পরিশোধ করতে হত। মোটা অংকের এ টাকার জন্য তিনি স্ত্রী মিতুকে হয়তো তালাক দেননি। এমন কথাও উঠে এসেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ড. আকাশের সামনে এই অসহনীয় দাম্পত্য জীবন থেকে বের হয়ে আসার সহজ রাস্তা ছিল। কিন্তু বড় অঙ্কের সামাজিক মোহর নির্ধারণের কুপ্রথাটি তার সামনের সেই রাস্তাটিকে সঙ্কুচিত করে দেয়। তালাক না দেওয়ার আরো অনেক কারণ থাকতে পারে। কিন্তু বড় অঙ্কের মোহর অন্যতম একটা কারণ।
















