আবরার আবদুল্লাহ ।।
ইউরোপজুড়ে মুসলিম বিদ্বেষ বাড়ছে দিনদিন। ইসলাম ধর্ম, ইসলামি মূল্যবোধ ও বিশ্বাস, ইসলামি সংস্কৃতির উপর হামলার ঘটনা বাড়ছে পশ্চিমা বিশ্বে। এর ভেতরেই কিছু মানুষ ইসলাম ও ইসলামি সংস্কৃতির পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন নিয়মিত।
তুর্কি বংশোদ্ভূত ‘সিগডেম কে’ তেমনই একজন মুসলিম নারী। ৩৫ বছর বয়স্ক এই নারী ২০১৬ সাল থেকে কর্মক্ষেত্রে নারীর হিজাব পরিধানের অধিকারের জন্য লড়াই করছেন।
যিনি ড্রাগস্টোর কোম্পানি চেইন মুলারে চাকরি করতেন। হিজাব পরিধান করায় তাকে চাকরিচ্যূত করা হয়। বলা হয়, হিজাব পরিধান কোম্পানির কর্ম-কৌশলের পরিপন্থী। চাকরিচ্যূত হওয়ার পর স্থানীয় শ্রম আদালতে মামলা করেন তিনি। বেভারিয়ান শ্রম আদালত তাকে চাকরিতে বহাল করার নির্দেশ দিলেও কোম্পানি উচ্চ আদালতে আপিল করে। উচ্চ আদালত আপিলের শুনানি খারিজ করে দেন।
এরপর কোম্পানি জার্মানির কেন্দ্রীয় শ্রম আদালতে আবেদন করে। আদালত গত ৩০ জানুয়ারি মামলাটি ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতে পাঠিয়ে দিয়েছে। অনুরোধ করেছেন, যেনো মানবাধিকার আদালত পূর্ণ সতর্কতার সাথে চাকুরে ও নিয়োগদাতার উভয়ের জন্য আইনি সমাধান প্রদান করেন।
আশার কথা হলো, ২০১৭ সালে এক মামলার রায়ে ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত যৌক্তিক কারণ ছাড়া কর্মচারিদের হিজাব বা এমন কোনো ধর্মীয় পোশাক পরিধানে বাধা দিতে পারবে না চাকরিদাতা –বলে মত প্রদান করেন। যৌক্তিক কারণের ব্যাখ্যায় বলা হয় যদি কোথাও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয় এবং ব্যবসায়িক মন্দার কারণ হয়ে দাঁড়ায় তবে ধর্মীয় পোশাক নিষিদ্ধ করার সুযোগ থাকবে।
সিগডেমের আইনজীবী বলছে, কোম্পানি নিরাপত্তা ঝুঁকি বা ব্যবসায়িক ক্ষতির কোনো কারণ প্রমাণ করতে পারেনি।
সিগডেম বলেন, হিজাব পরিধান করা মুসলিম নারীর ধর্মীয় অধিকার। ধর্মীয় বিবেচনা বাদ দিলেও একজন নারী তার পোশাক নির্বাচনের অধিকার রাখেন। জার্মান সংবিধান নারীর এই ব্যক্তি ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। সুতরাং আমি আমার অধিকারের জন্য লড়াই করবো।
সূত্র : ডেইলি সাবাহ ও টিআরটি ওয়ার্ল্ড
















