আয়ের উৎস ছাড়াই তাদের স্ত্রীরা কোটিপতি

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: চট্টগ্রামে কাস্টমস কর্মকর্তাদের দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে অনুসন্ধানে নেমেছেন দুদক কর্মকর্তারা। তাই চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্মকর্তার কোটিপতি স্ত্রীদের দিন কাটছে দুদক আতঙ্কে। কারণ, অভিযোগ রয়েছে, আয়ের উৎস ছাড়াই চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্মকর্তাদের স্ত্রীরা কোটিপতি বনে গেছেন।  কাস্টমস কর্মকর্তারা শেষরক্ষার ঢাল হিসেবে স্ত্রীদের নামে ব্যাংকে তাদের জ্ঞাত আয়বহির্ভুত অর্জিত সম্পদ জমা করছেন।

দুদক বর্তমানে চট্টগ্রাম কাস্টমসের প্রায় অর্ধশত দুর্নীতি মামলার তদন্ত করছে বলে জানা গেছে । সবক’টি মামলায়ই চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের স্ত্রীরা আসামি।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য গণমাধ্যমকে জানান, দেশের চট্টগ্রাম কাস্টমসের বেশির ভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের স্ত্রীরা কোটিপতি। এমনকি কোনো রকম আয়ের উৎস না থাকলেও স্ত্রীরা কোটিপতি বনে গেছেন।

গত ১০ জানুয়ারি ৬ লাখ ঘুষের টাকাসহ চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের রাজস্ব কর্মকর্তা নাজিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে দুদকের চট্টগ্রাম জেলার সমন্বিত টিম। এরপর গত ১৬ জানুয়ারি ও ২২ জানুয়ারি দুই দফায় একদিন করে রিমান্ডে থাকা নাজিম উদ্দিনের কাছ থেকে দুর্নীতির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে বলে জানিয়েছে দুদক।

২০১৭ সালের ১৯ মে কাস্টমস কর্মকর্তা আবদুল মমিন মজুমদারকে গ্রেপ্তার করে দুদক। তার বিরুদ্ধে করা মামলায় অভিযোগ করা হয়, আবদুল মমিন মজুমদার এবং তার স্ত্রী সেলিনা জামান পরস্পর যোগসাজশে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।

একই বছরের মে মাসে ৪৪ লাখ ৮৮ হাজার ১৬৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের সাবেক আপ্রেইজার আবুল কালাম আজাদ ও তার স্ত্রী মাসুমা আক্তারের বিরুদ্ধেওও মামলা করে দুদক। সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে কাস্টমসের প্রিভেন্টিভ শাখার সুপারিনটেনডেন্ট মনজুরুল হক চৌধুরীর স্ত্রী আকতার জাহান লাইলীর বিরুদ্ধেও মামলা করে সংস্থাটি।

সূত্র জানায়, বৈধ কোনো আয়ের উৎস না থাকা সত্ত্বেও দেড় কোটি টাকার মালিক বনেছেন গৃহিণী রাফেয়া বেগম। তার স্বামী চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের একজন কর্মচারী। একইভাবে আড়াই কোটি টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সমপদ অর্জনের অভিযোগে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের কর্মচারী এসএম জাহাঙ্গীর আলম ও তার স্ত্রী রাফেয়া বেগম ওরফে নাজমা হায়দার রাফিয়ার বিরুদ্ধেও করা দুর্নীতি মামলারও তদন্ত করছে দুদক।

এদিকে পরিবারের ১১ জনের নামে সাড়ে ৬ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ রাখার অভিযোগে কাস্টমসের সহকারী কমিশনার শরীফ আল আমীনের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে মামলা করেছেন দুদক। এ মামলায় আল আমীনের স্ত্রীসহ তার পরিবারের ১১ জনকে আসামি করা হয়। মামলাটি এখনো তদন্তাধীন।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের সাবেক উচ্চমান সহকারী রফিকুল ইসলাম পাটোয়ারি ও তার স্ত্রী শাহীনের বিরুদ্ধে দুদকের দায়েরকৃত মামলায় সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৮৮ লাখ ৯০ হাজার ৫৯৬ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।

এছাড়াও কাস্টম কর্মকর্তা আবদুল মমিন মজুমদার ও তার স্ত্রী সেলিনা জামান পরস্পর যোগসাজশে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেন। এ ছাড়াও ৪০ লাখ ২৩ হাজার ৮৫৮ টাকার সম্পদ গোপনের অভিযোগ থাকায় দুদক তাদেরকে গ্রেপ্তার করে।

দুদক কর্মকর্তা লুৎফুল কবীর চন্দন ইউএনবিকে বলেন, কাস্টমস কর্মকর্তাদের বেশিরভাগই তাদের অবৈধ আয়ের মালিক বানিয়েছেন স্ত্রীকে। দায় এড়াতে তারা এ কৌশল নিলেও আমরা মামলার আসামি করছি স্বামী-স্ত্রী দু’জনকেই। তবে বেশিরভাগ কাষ্টমস কর্মকর্তারা নিজেদের শেষরক্ষা করতেই স্ত্রীকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তাদের নামে ব্যাংকে সম্পদ জমা করেছেন। সেই বিষয়টিও দুদক গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছে।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ছদ্মবেশে বিভিন্ন সরকারি ও আধা সরকারি অফিস ও হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঘোরাফেরা করছে। দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, নিয়মভঙ্গকারী ও দুর্নীতিবাজদের ধরতেই তাদের এ অভিযান।

পূর্ববর্তি সংবাদভোলায় মুয়াজ্জিনের লাশ উদ্ধার
পরবর্তি সংবাদকলকাতায় ধর্মঘটে বসেছেন মমতা