ইসলাম টাইমস প্রতিবেদন: তাবলিগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমা সফল করে তুলতে পুরো দমে কাজ চলছে। ময়দানের কাজ শুরু হচ্ছে শিগগির। আশা করা যাচ্ছে, আজ রাত কিংবা আগামিকাল সকালের মধ্যেই কাজ শুরু হয়ে যাবে। জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত থেকেই আলমী শুরার অনুসারী তাবলিগের মুরুব্বি ও ওলামায়ে কেরামের সাথে ইজতেমার দায়িত্বপ্রাপ্ত যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, গাজীপুর সিটির মেয়র জাহাঙ্গীর আলম ও পুলিশ কর্মকর্তাদের আলোচনা হয়। ইজতেমা ময়দানের কাজ ও শৃংঙ্খলা বিষয়ে সেখানে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। সে হিসেবে আজ বুধবার সন্ধ্যায় তাবলিগ জামাতের উভয় পক্ষের মুরুব্বিদের নিয়ে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত পাকাপাকি করে লিখিত নেওয়ার কথা রয়েছে।
আলমী শুরার অনুসারী ও সাদ বিরোধী, ইজতেমা ময়দানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, প্রথম পর্যায়ে ইজতেমার কার্যক্রম ১৪ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শুরু হয়ে যাবে। উভয় পক্ষের সাথীদের মিলেমিশে ময়দানের প্রস্তুতির কাজ করলে বিরোধ ও বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা থাকায় শুধু আলমী শুরার তাবলিগের সাথীরা ময়দান প্রস্তুতের খেদমতে যুক্ত থাকবে। ইজতেমার আগে সাদপন্থীদের ময়দানে যাওয়ার কোনো বিষয় থাকবে না।
সূত্র জানান, নানা রকম বিশৃংঙ্খলার শঙ্কা, হতাশা ও দ্বিধা দূর করতে মুরুব্বিরা প্রশাসনের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হয়ে শনিবার মাগরিবের মধ্যে আলমী শুরার তাবলিগি সাথীদের ইজতেমা সমাপ্ত করবেন। সাদপন্থী তাবলিগের সাথীরা পরের দিন ময়দানে আসবে। তিনি জানান, সাদ অনুসারীরাও সম্ভবত নির্ধারিত দু্ই দিনের পর শেষের দিকে একদিন সময় বাড়িয়ে নেবেন।
তিনি জানান, তাবলিগ জামাতের মুরব্বি ও উলামায়ে কেরাম সব রকম দ্বিধাদ্বন্দ্ব ভুলে ১৪,১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি ইজতেমা সফল করে তুলতে তাবলিগের সব পর্যায়ের সাথীদের আহ্বান জানিয়েছেন। মুরব্বিরা সাদপন্থীদের সাথে সাধারণ তাবলিগি সাথীদের মেলামেশা কিংবা বিরোধ-সংঘাত এড়াতে যথাযথ শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন।
আলমী শুরা ও ওলামায়ে কেরামের অনুসারী সাথীরা শনিবার সন্ধ্যায় অল্প সময়ের মধ্যে ইজতেমার ময়দান ছেড়ে কীভাবে যার যার জায়গায় যাবেন?’ এ প্রশ্নের উত্তরে সূত্রটি জানায়, বিদেশি মেহমানরা শনিবার রাতে হজক্যাম্প, কাকরাইল মসজিদসহ উত্তরার কোনো কোনো মসজিদে অবস্থান করবেন। আর ময়দানে চিল্লার জন্য জামাতবন্দী সাথীরা টঙ্গী, উত্তরাসহ ঢাকার বিভিন্ন মসজিদে শনিবার রাতের জন্য রোখ করবেন। এরপর সেখান থেকে বিভিন্ন এলাকায় জামাত চলে যাবে।
আলমী শুরার অনুসারীদের ইজতেমার প্রথমাংশে ভারত-পাকিস্তানের মুরুব্বিদের আসার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, এ ব্যাপারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। দেশজুড়ে ইজতেমা কামিয়াব করতে তাবলিগের সাথীদের তৈরি হতে মুরুব্বিরা আহ্বান জানিয়েছেন।
















