পঞ্চগড় ডিসি অফিসে বৈঠক : তীব্র প্রতিবাদের মুখেও হচ্ছে কাদিয়ানি ইজতেমা

আবরার আবদুল্লাহ ।।

মুসলমানদের তীব্র প্রতিবাদের মুখেও হচ্ছে পঞ্চগড়ের কথিত কাদিয়ানি ইজতেমা। আজ পঞ্চগড়ের ডিসি অফিসে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এমনটিই সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে ইজতেমার উপর কিছু বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে প্রশাসন।

ডিসি অফিসের বৈঠকে অংশগ্রহণকারী মাওলানা আবু তাহমিদাহ ইসলাম টাইমসকে এই তথ্য জানিয়েছেন।

আজ বিকাল ৪টায় গঞ্চগড় ডিসি অফিসে এই বৈঠক শুরু হয়ে বিকাল ৫টায় তা শেষ হয়।

তিনি বলেছেন, আজকের বৈঠকে কাদিয়ানিরা ইজতেমা করতে পারবে বলেই সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে তা করতে হবে প্রতিবছরের মতো এবারও স্বল্প পরিসরে।

তিনি জানান, আজকের বৈঠকে ৫টি সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাহলো, ক. প্রতিবছরের মতো স্বল্প পরিসরে ইজতেমা করতে পারবে কাদিয়ানিরা।

খ. ইজতেমা উপলক্ষ্যে মুসলিম এলাকায় কোনো প্রচারণা চালাতে পারবে না এবং ইজতেমায় অংশগ্রহণের ব্যাপারে কোনো ধরনের উৎসাহ ও প্রলোভন দেখাতে পারবে না।

গ. স্থানীয়দের বাইরে যারা কাদিয়ানি ইজতেমায় অংশ নেবে তাদেরকে অবশ্যই নিজস্ব এড়িয়ায় রাখতে হবে। এই কাজে শহরের কোনো হোটেল বা স্থাপনা ব্যবহার করা যাবে না।

ঘ. মুসলিম জণসাধারণ ও উলামায়ে কেরাম কর্তৃক ঘোষিত ২১-২৫ ফেব্রুয়ারির সমাবেশ কাদিয়ানি ইজতেমার পরে অনুষ্ঠিত হবে।

ঙ. ইজতেমায় বিতরণের জন্য আনা কম্বল প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হবে এবং প্রশাসনের অধীনে দুস্থ মানুষের মাঝে বিতরণ করা হবে।

বৈঠকে মুসলিমদেরকে যেন কাদিয়ানিরা বিভ্রান্ত করতে না পারে সেজন্য প্রশাসন সতর্ক ভূমিকা রাখবে বলে আশ্বস্ত করেন জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন।

তিনি বলেন, আমি একজন মুসলিম। কোটি টাকা দিয়েও কেউ আমার ঈমান কিনতে পারবে না। তাই আপনারা নিশ্চিত থাকুন প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব আলহাজ মুফতি আনম আবদুল করীম, আলহাজ মাওলানা আবদুল হান্নান, মাওলানা মাহমুদুল আলম ও জেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ আজিজুল ইসলাম।

প্রশাসনের পক্ষে জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন ও এডিশনাল এসপিসহ পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পূর্ববর্তি সংবাদহাসপাতাল ত্যাগ করলেন আল্লামা বাবুনগরী
পরবর্তি সংবাদচট্টগ্রাম নাজিরহাট বড় মাদরাসার মাহফিল ৭ ও ৮ ফেব্রুয়ারি