তুহিন খান ।।
র্যাগ বন্ধের জন্য রাখিবন্ধন হইলো বাঙালি সেক্যুলারের সেই চিরাচরিত ক্যালকেশিয়ান সুশীল বিপ্লব। র্যাগ বন্ধ মানে র্যাগ বন্ধ। এইটা বন্ধ করার জন্য অন্যকিছু চালু করা লাগবে কেন? আর, রাখিবন্ধনের সাথে র্যাগের সম্পর্ক কী? র্যাগ বন্ধ করার জন্য—
এক. ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করেন।
দুই. ছাত্র হিশাবে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করেন।
তিন. গেস্টরুম আর গণরুম কালচার বন্ধ করেন।
চার. ছাত্রলীগের গুণ্ডামি বন্ধ করেন।
পাঁচ. প্রশাসনের চামচামি বন্ধ করেন।
এ সমস্ত না কইরা, র্যাগ বন্ধের জন্য করা হইতেছে রাখিবন্ধন! মানে ঘাস-ফুল-লতা-পাতার কোন শেষ নাই। ১০ বছর পরে বলা হবে, রাখিবন্ধন জাবির ঐতিহ্য। হাজার বছরের ঐতিহ্য। যারা মানবা না, তারা জাবির শত্রু, জাতির শত্রু। তাদের র্যাগ দেওয়া হবে। রাখিবন্ধন র্যাগ কালচারের কোন প্রতিকার না। আমাদের কালচারাল জগতটা এখনও যে মেরুদণ্ডহীন, ক্যালকেশিয়ান শিক্ষা ও সংস্কৃতির ঘোরে আচ্ছন্ন, ‘হাজার বছরের বাঙালি’ ডিসকোর্সের ব্রাহ্মন্যবাদী চিন্তাধারায় অভ্যস্ত—তা জাবির এইসব কর্মকাণ্ডে আবারো বোঝা গেল।
রাখিবন্ধন একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান। আমরা এটিরে শ্রদ্ধা করি। কিন্তু এইটা র্যাগিংয়ের কোন প্রতিকার না৷ র্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে যেসব বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, সেইগুলি নেওয়া হউক। আসল ব্যাপারগুলি এড়ায়ে, মূল জায়গায় হাত না দিয়ে, উলটা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে ফাটল ধরানো সুশীল বিল্পব সবসময়ই শোষক এবং জালেমদেরই সেফসাইড দেয়। এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে গিয়া আমাদের কোন ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক ক্যাচালে/আবেগে না জড়িয়ে, রাজনৈতিক বাস্তবতাটা সোজাসাপ্টা বোঝা উচিত।
(ফেসবুক পোস্ট থেকে নেওয়া। লেখকের নিজস্ব লেখ্যরীতিতেই লেখাটি প্রকাশিত)
















