আবু আম্মার লাবিব ।।
বহু নাটকীয়তা ও ঘটনা প্রবাহের মধ্য দিয়ে আগামী ১৪-১৬ অনুষ্ঠিত হচ্ছে যাচ্ছে তাবলিগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমা। নিয়মানুযায়ী যা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো অন্তত আরও দুই মাস আগে। কিন্তু তাবলিগ জামাতের দুইপক্ষের বাদ-বিতণ্ডা, ১ ডিসেম্বরের রক্তক্ষয়ী হামলা ও জাতীয় নির্বাচন নানা কারণে ইজতেমার তারিখ পিছিয়ে গেছে বারবার।
তবে শেষ পর্যন্ত ইজতেমা হচ্ছে এটাই দ্বীনপ্রাণ সাধারণ মানুষের স্বস্তি। তারা চান আগামীর ইজতেমা হোক সব ধরনের শঙ্কা ও সংশয় মুক্ত এবং আল্লাহর রহমত ও দ্বীনি সাফল্যে ভরপুর।

ইজতেমার সাফল্যের জন্য প্রত্যাশা ও প্রচেষ্টার অভাব নেই দ্বীনদার মানুষের মধ্যে। আজ টঙ্গীর ইজতেমার মাঠে গিয়ে অন্তত তাই মনে হয়েছে এই প্রতিবেদকের। যদিও এখনো ইজতেমার মাঠের গায়ে বিদ্যমান ১ ডিসেম্বর সাদপন্থী সন্ত্রাসীদের ভয়াবহ আক্রমণের ক্ষত। ইজমেতার মাঠের লোহার গেটে, টিনের ঘরে, মাঠে বাঁশ-খুঁটিতে এবং ইজতেমার মাঠে কাজ করতে আসা মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষক ও সাধারণ তাবলিগি সাথীদের গায়ে রয়েছে সেই নৃশংসতার চিহ্ন। কিন্তু আশ্চর্য! ইজতেমার পুরো প্রস্তুতিতে নেই তার কোনো ছাপ। মাঠের প্রস্তুতি ও সাথীদের আন্তরিকতা দেখলে বোঝার উপায় নেই মাত্র কয়েকদিন আগেই তারা কোনো সন্ত্রাসী হামলার আক্রান্ত হয়েছিলেন।
সেটা কেন এবং কীভাবেই তা সম্ভব? সাভার মদীনাতুল মাদরাসার শিক্ষক হাফেজ মাওলানা ওমর ফারুক বলেন, সেই দিনের কথা হয়তো মৃত্যু পর্যন্ত মনে থাকবে। ওরা আমাকে, আমার মাদরাসা নিষ্পাপ ছাত্রদেরকে রক্তাক্ত করেছিলো। কিন্তু কিছু মন্দ মানুষের উপর রাগ করে তো দ্বীনি কাজ থেকে পিছিয়ে থাকা যায় না। আমরা কাজ করছি আল্লাহর জন্য। আল্লাহই আমাদের প্রতিদান দেবেন।

শুধু মাওলানা ওমর ফারুক নন, ১ ডিসেম্বরের হামলার দাগ গায়ে নিয়ে মাঠে কাজ করছেন আরও অসংখ্য মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষক ও তাবলিগি সাথী। তবে আজকের দিনে মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকই বেশি। আজ যারা কাজ করছিলেন তাদের ৭০ ভাগই মাদরাসার মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষক। কারণ অনুসন্ধানে জানা গেলো আজ মাঠের কাজের দায়িত্ব নিয়েছেন ঢাকা ও ঢাকার পার্শ্ববর্তী মাদরাসাগুলো। অন্তত ১০ হাজার লোকের একটি স্বেচ্ছাসেবী দলের আজ মাঠে কাজ করার কথা।
প্রতিবেদকের সাথে ঢাকার শায়খ যাকারিয়া রহ. ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, সাভারের কয়েকটি মাদরাসা, গাজীপুরের টঙ্গী ও কালীগঞ্জের কয়েকটি মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকের সঙ্গে দেখা ও কথা হয়। মাদরাসার ছাত্রদের সাথে সাথে তাল মিলিয়ে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজের একদল শিক্ষার্থীকেও মাঠে কাজ করতে দেখা গেছে। তারা জানান, সরস্বতী পূজার ছুটি থাকায় তারা মাঠের কাজে যুক্ত হয়েছেন।
সাধারণ সাথীদের উপস্থিতির হার কম হওয়ার কারণ জানতে চাইলে দায়িত্বশীলরা বলেন, আজ আলেমরা মাঠের কাজের দায়িত্ব নেওয়ায় সাধারণ সাথীদের উপস্থিতির হার কম। আগামীকাল থেকে সাধারণ সাথীরা হালকা অনুযায়ী ভাগ হয়ে দলে দলে মাঠের কাজে যোগ দেবেন। কাজের চাহিদানুযায়ী মাদরাসাগুলোও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

প্রতিবেদক ইজতেমা মাঠের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণ তথা বিদেশি কামরার পার্শ্ববর্তী গেট দিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন এবং বাটা গেট দিয়ে বের হন। এই জায়গাটুকুর অধিকাংশ কাজই শেষ হয়েছে। শুধু কিছু কিছু জায়গার উপরের চট লাগানোর কাজ অবশিষ্ট আছে -যা আজকালের মধ্যে শেষ হবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা। এছাড়াও মাইক ও বিদ্যুতায়ণের কাজ চলছে পুরোদমে।
ইজতেমার মাঠে চলাচলের জন্য রাস্তা তৈরির কাজও শেষ পর্যায়ে। রাস্তা তৈরির কাজে নিযুক্তদের আশা আগামীকালের ভেতর মাঠের সব রাস্তা চলাচলের উপযুক্ত হবে যাবে। ইনশাআল্লাহ!
তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের বিরোধ এখনও অব্যাহত থাকা এবং ১ ডিসেম্বর ইজতেমার মাঠে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পরও ইজতেমার নিরাপত্তায় পুলিশ ও প্রশাসন খুব বেশি তৎপর নন। মাঠের সাথীরাও অবশ্য তার প্রয়োজন বোধ করছেন না। তারা মনে করছেন, আন্তরিকতাপূর্ণ পরিবেশেই তারা মাঠের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারবেন এবং নিরাপদভাবেই ইজতেমা শেষ হবে।
বিপুল পুলিশি পাহারা না থাকলেও প্রশাসন মাঠের কাজের কীভাবে চলছে তার খোঁজ-খবর নিয়মিতই রাখছেন বলে জানান মাঠের দায়িত্বশীলরা।

মাঠের কাজের তদারকির দায়িত্ব পাওয়া স্থানীয় এমপি ও যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল মাঠের কাজের খোঁজ নিতে আজও মাঠে আসেন। দুপুর ১টার দিকে তিনি মাঠে প্রবেশ করেন এবং মাঠের কাজের সার্বিক খোঁজ খবর নেন। ইজতেমার মাঠের দায়িত্বশীল ড. আসগর আলী ও জমির আলী তাকে সার্বিক কাজের অবস্থা জানান। এ সময় জাহিদ আহসান রাসেল মাঠের কাজে যে কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হলে তা জানানো অনুরোধ করেন এবং তার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
আর তাবলিগের নিয়মিত তালিম, গাশত ও তাশকিলের পাশাপাশি ইজতেমার সাফল্য কামনা করে চলছে সব সময় দোয়ার আমল।
















