আবু মুআজ ।।
পঞ্চগড়ের আহমদনগরের কথিত কাদিয়ানি ইজতেমা বন্ধের দাবিতে পঞ্চগড়সহ দেশের সর্বস্তরের মুসলিম জনগণ ও উলামায়ে কেরামের তীব্র প্রতিবাদ ও আন্দোলনের মুখেও প্রশাসন তা আয়োজনের অনুমতি দিয়েছে। তবে মুসলিম জনসাধারণের দাবির প্রেক্ষিতে ইজতেমার উপর কিছু বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে আজ এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার, পৌর মেয়র, স্থানীয় তিন জন চেয়ারম্যান, ওলামায়ে কেরাম, তৌহিদ জনতা এবং কাদিয়ানি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি দল।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাদিয়ানিদের ওপর আরোপ করা বিধি-নিষেধগুলো হলো :
এক. কাদিয়ানিদের কথিত জমায়েতে বিদেশি কোনো লোকজন আসতে পারবে না।
দুই. পঞ্চগড়ের বাইরের কোনো জেলা থেকে কোনো কাদিয়ানি এসে জমায়েত হতে পারবে না।
তিন. ছোট পরিসরে সীমিতভাবে তাদের জমায়েত করতে হবে।
বৈঠকে পঞ্চগড় কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল করিমের নেতৃত্বে জেলার কয়েকজন আলেম ও মুসলিম প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন।
এ সময় ওলামায়ে কেরাম প্রশাসনের কাছে জানতে চান, যদি তারা এসব শর্ত ভঙ্গ করে তখন কী হবে?
উত্তরে প্রশাসন বলেন, কাদিয়ানিরা প্রশাসনের বিধি-নিষেধ অমান্য করলে ১৪৪ ধারা জারি করা হবে এবং কোনো ধরনের জমায়েত করতে দেওয়া হবে না।
এদিকে ইসলামী যুবসমাজ পঞ্চগড় নামে একটি সংগঠন কাদিয়ানিদের পক্ষাবলম্বনকারী এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানান। তারা এর প্রতিবাদে আজ (সোমবার) বাদ মাগরিব পঞ্চগড় শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও আগামী কাল শহরে মানববন্ধন করবেন বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন : কাদিয়ানীদের পক্ষাবলম্বনকারী রেলমন্ত্রী সুজনের পদত্যাগ দাবি আলেমদের
উল্লেখ্য, শেষনবীকে অস্বীকারকারী কাদিয়ানি জামাত পঞ্চগড়ে আগামী ২২-২৫ ফেব্রুয়ারি ‘জাতীয় ইজতেমা’ করার ঘোষণা দিয়েছে এবং ইজতেমা সফল করতে ইতোমধ্যে নানা ধরনের প্রতারণামূলক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। তাতে কার্যক্রমে সাধারণ মুসলমানরা বিভ্রান্ত হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয় সচেতন মহলের। এতে এলাকার মুসলমানদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তারা মুসলিম নামধারী এই অমুসলিম সম্প্রদায়ের ইজতেমাসহ সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছেন।
















