নোয়াখালীর সুবর্ণচরে নারী কনস্টেবলের আত্মহত্যা

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বার থানা কোয়ার্টার থেকে শিপ্রা রানী দাস (২২) নামে এক কনস্টেবলের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের দাবি মাদকাসক্ত ও অর্থলোভী স্বামী পুলিশ সদস্য রাজিব দে’র কারণে সে আত্মহত্যা করেছে।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা চর জব্বর থানার পাশের ব্যারাকে শিপ্রারাণী দাস (২৪) নামে ওই কনস্টেবল সিলিং ফেনে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সহকর্মী আত্মহত্যার ৩ ঘণ্টা পর ব্যারাকের অপর নারী কনস্টেবল থানা থেকে এসে দরজা খুলে ঢুকে ফেনের সঙ্গে শিপ্রা রাণী দাসকে ঝুলন্ত দেখে ওসিকে জানান। ওসিসহ অপর পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে এসে নারী কনস্টেবলের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেন।

শিপ্রা রাণী দাসসহ ৫ জন নারী পুলিশ কনস্টেবল থানার পাশের ব্যারাকে থাকতেন। শুক্রবার সকাল ১০টায় ব্যারাকের ওই কক্ষের অপর নারী কনস্টেবলদের থানায় যেতে অনুরোধ করে শিপ্রারাণী দাস ব্যারাকে একাই থেকে যান। সবাই চলে গেলে শিপ্রারাণী দাস সিলিং ফেনের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। দুপুর দেড়টায় থানার ডিউটি অফিসার কনস্টেবল শিপ্রারাণী দাসকে থানায় আসতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে কল করলে রিসিভ না করায় সন্দেহ হয়। এতে তিনি অপর নারী কনস্টেবলদের ব্যারাকে পাঠান। তারা এসে জানালা দিয়ে দেখতে পান শিপ্রা রাণী দাস ফেনের সঙ্গে ঝুলে আছেন। এ সময় তারা ওসিকে জানান। খবর পেয়ে ওসিসহ পুলিশ এসে দরজা ভেঙে লাশ নিচে নামান।

একটি সূত্র জানায়, পারিবারিক কলহের জের ধরে কনস্টেবল শিপ্রারাণী দাস আত্মহত্যা করেছেন। শিপ্রারাণী কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার উপজেলার ফুলতলা গ্রামের পুলিশ কনস্টেবল রাজিবের স্ত্রী। রাজিব চাঁদপুর থানায় কর্মরত।

নিহত শিপ্রার মা সরনা রানী দাস গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শিপ্রার বাবা কয়েক বছর আগে মারা যান। ২০১৪ সালে শিপ্রা পুলিশে যোগদান করে। দেবীদ্বার এলাকার রাজিবের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে ২০১৭ সালের ১০ জুলাই তাদের বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের সময় রাজিবকে নগদ এক লাখ টাকা চার ভরি স্বর্ণ ও আসবাপত্র দেওয়া হয়। রাজিব বর্তমানে চট্টগ্রামে কর্মরত আছে।

তিনি অভিযোগ করেন, রাজিব মাদকাসক্ত। পুলিশে চাকরি করলেও বিভিন্ন সময় টাকার জন্য সে শিপ্রাকে মারধর করতো। তিনি অন্যের বাড়িতে কাজ করে নিজের সংসার চালান তাই তার পক্ষে রাজিবকে কোনো টাকা দেওয়া সম্ভব হতো না। শিপ্রা চরজব্বার থানায় বদলি হয়ে যাওয়ার পর রাজিবের ভয়ে গত ৪ মাস ধরে শিপ্রার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না।

ওসি (তদন্ত) মো. ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে জানান, নারী কনস্টেবল শিপ্রারাণী দাস পারিবারিক কলহের জের ধরে আত্মহত্যা করতে পারেন। পুলিশ সুপারসহ অপর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেবেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) হাসান মোহাম্মদ জনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, চর জব্বর থানার নারী কনস্টেবল শিপ্রারাণী দাসের সঙ্গে তার স্বামীর পারিবারিক কলহের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে খতিয়ে দেখা হবে।

থানা সূত্র জানায়, কনস্টেবল শিপ্রারাণী দাস গত ৩-৪ বছর আগে একাই চর জব্বর থানায় যোগদান করেন।

শিপ্রারাণী দাসের আত্মহত্যার খবরে পুলিশ সুপার ইলিয়াছ শরীফ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ জনিসহ (সদর সার্কেল) অপর পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। থানায় জিডি করে কনস্টেবলের লাশ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

পূর্ববর্তি সংবাদবুড়িগঙ্গায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যানের বদলি
পরবর্তি সংবাদফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্মেলন করছে আয়ারল্যান্ড