শাহ মুহাম্মাদ খালিদ ।। টঙ্গী থেকে
ইজতেমার প্রথম দিন, রাত সাড়ে এগারোটা। ধীরে ধীরে সাথীরা শুয়ে পড়ছেন। অনেকে দিনের বয়ানগুলো মুজাকারা করছেন। কোথাও চলছে খুসুসি তাশকিল, এক চিল্লা, তিন চিল্লা, এক সালের তাশকিল। ময়দানের পশ্চিম দিকে তুরাগ পাড়ে মোমেনশাহির যে খিত্তা, সেখানে গিয়ে খুঁজছিলাম প্রফেসর হাফিজুদ্দীনকে। তিনি এই খিত্তার জিম্মাদার। লোকজন একটি টানানো মশারির দিকে ইশারা করে দেখিয়ে দিল। মশারির কাছে গিয়ে দেখা গেল প্রফেসর সাহেব সবেমাত্র শুয়েছেন। ঘুমাননি এখনো। প্রতিবেদককে দেখে উঠে বসলেন। দাওয়াত ও তাবলিগ নিয়ে খোলামেলা অনেক কথা বললেন তাবলিগের কাজে অগ্রসর জেলার এই জিম্মাদার।
প্রফেসর হাফিজুদ্দিন শুরুতেই মারাত্মক জায়গা সংকটের কথা বললেন। পুরো খিত্তা লোকে লোকারণ্য। ইজতেমা শুরু হয়ে গেলেও মোমেনশাহী থেকে অনেক সাথী এখনো রাস্তার জ্যাম ঠেলে আসছে। তাদেরকে কোথায় জায়গা দেবেন তা নিয়ে যথেষ্ট পেরেশানির মধ্যে আছেন তিনি। কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ময়মনসিংহের মানুষের উপর আলেম উলামার প্রভাব অনেক আগ থেকেই বেশি। এখানকার দ্বীনি কাজগুলোর নেতৃ্ত্ব তারাই দেন। সেই হিসেবে প্রচুর সংখ্যক আলেম দাওয়াতি মেহনতের সাথে জড়িত এবং উলামাদের সাথে পরামর্শ করেই অন্যান্য দ্বীনি কাজের মতো দাওয়াত-তাবলিগের কাজ পরিচালিত হয়।
তিনি আরও জানান, তাদের জেলা থেকে যে প্রচুর সংখ্যক মানুষ ইজতেমায় অংশগ্রহণ করেছেন তাদের অধিকাংশই সাধারণ সাথী।
বাংলাদেশের একেবারে উত্তর সীমান্তে নীলফামারী ও কুড়িগ্রাম জেলার অবস্থান। এ দুটি এলাকা থেকেও বিপুল পরিমাণ সাধারণ সাথী এসেছেন। কথা হয় নীলফামারী জেলার খিত্তা জিম্মাদার মাওলানা আনিসুর রহমানের সাথে। তিনি জানান, তাদের এই জেলায় ওলামায়ে কেরামের পাশাপাশি মাওলানা সাদের অনুসারীরাও সমানভাবে তৎপর ছিলো। তবে এখন অনেকেরই ভুল ভেঙ্গেছে এবং তারা সঠিক পদ্ধতি দাওয়াতি মেহনতে যুক্ত হওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছে। তবে এখনও নীলফামারী কেন্দ্রীয় মারকাজ মাওলানা সাদের অনুসারীদের দখলে রয়েছে।
মাওলানা আনিসের মতে, এখন নীলফামারীর ৫০ ভাগ সাথী আলমি শুরার সাথে, ৩০ ভাগ মাওলানা সাদের অনুসারী এবং ২০ ভাগ দোটানার মধ্যে আছেন। এই ২০ শতাংশ মানুষ উভয় পক্ষের আমলেই শরিক হচ্ছেন। মা
পাশেই কুড়িগ্রাম জেলার খিত্তা। যিম্মাদার মাওলানা ফরিদ। এখানকার অবস্থাও অনেকটা নীলফামারীর মতোই। কেন্দ্রীয় মারকাজ সাদপন্থীদের হাতে। তবে মাওলানা ফরিদের দাবি সাথীরা এখন ফিরতে শুরু করেছেন শুরু করেছেন। তবে উলামায়ে কেরামের নেতৃত্বে সাধারণ সাথীরা নতুন একটি মসজিদকে মারকাজ বানিয়ে কাজ করছেন।
তবে তিনি মনে করেন, আমাদের উচিৎ বিবাদ-বিরোধ পরিহার করে বেশি মেহনত করা এবং আল্লাহর কাছে সব সাথী ভাইয়ের জন্য হেদায়েতের দোয়া করা। তারা যেন ভুলের পথ পরিহার করে সঠিক পথে চলতে পারে।
















