আবরার আবদুল্লাহ ।।
বিগত কয়েক মাস দেশের সাধারণ মুসল্লিদের দৃষ্টি আবদ্ধ ছিলো টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমার দিকে। কী হবে এবারের ইজতেমায়? ইজতেমা কী হবে? নাকি হবে না? হলে তা কেমন হবে? বিশেষত ১ ডিসেম্বর টঙ্গীর ইজতেমার মাঠে সাদপন্থীদের ভয়াবহ সন্ত্রাসী আক্রমণের পর ইজতেমা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছিলো সর্ব মহলে। সরকারও বিষয়টি চিন্তিত ছিলেন তা একাধিক জানায়।
ব্যবস্থা, আয়োজন ও প্রস্তুতি সবকিছু মিলিয়ে ইজতেমার তারিখও পিছিয়েছে কয়েকবার। সরকার অভিন্ন ইজতেমার কথা বললেও শেষ পর্যন্ত তা করা সম্ভব হয়নি। পৃথক পৃথক ইজতেমা করেছেন তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষ। যদিও দুই ইজতেমার চিত্র ছিলো সম্পূর্ণ ভিন্ন। একটাতে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা গেলেও অপরটিতে দেখা গেছে সংকট ও হাহাকার।
ইজতেমায় সাধারণ মানুষের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উলামায়ে কেরাম, মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষক, তাবলিগের সাথী ও সাধারণ দ্বীনদার মানুষ সবাই সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
তারা মনে করছেন, এবারের ইজতেমা মানুষের চোখ খুলে দিয়েছে। সাদপন্থীদের অনেক প্রশ্ন ও অপপ্রচারের উত্তর দিয়ে গেছে দুটি পৃথক ইজতেমা। সাদপন্থীদের বরাবরের দাবি ছিলো সারা দেশের সাধারণ সাথীরা তাদের সাথে আছেন। উলামায়ে কেরামের সাথে মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষক ও ‘মূলধারা’ থেকে বিচ্যূত কিছু সাধারণ সাথী ছাড়া আর কেউ নেই। এবারের ইজতেমা তাদের এই দাবি ভুল বলে প্রমাণ করেছে বলে অনেকেই মনে করছেন।
বিষয়টি সরকারেও দৃষ্টিতে পড়েছে বলে দাবি করেছেন তাবলিগ জামাতের গুরুত্বপূর্ণ একাধিক দায়িত্বশীল। নাম না প্রকাশের শর্তে তারা ইসলাম টাইমসকে বলেছেন, টঙ্গীর ইজতেমার মাঠে দায়িত্বপালনকারী বিভিন্ন বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা তাদের বলেছেন, সাদপন্থীরা যে তাবলিগ জামাত থেকে বিচ্যূত এবং তাদের সাথে সাধারণ সাথীরাও নেই -তা বুঝতে তাদের বাকি নেই। এমনকি ইজতেমার নামে (সাদপন্থীরা) অনর্থক সরকারি অর্থ ও বাহিনীগুলোর সময় নষ্ট করায় বিরক্তি প্রকাশ করেছেন একজন শীর্ষ কর্মকর্তা।
অন্যদিকে ইজতেমার সফল বাস্তবায়ন সাধারণ সাথীদের মনোবল বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মুফতি কেফায়াতুল্লাহ আযহারী। তিনি বলেন, এবারের ইজতেমার অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো, সাধারণ সাথী ও উলামায়ে কেরামের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। যা দ্বীনি কাজকে আরও গতিশীল করবে এবং সাধারণ সাথীদের হিম্মত (সাহস) বহুগুণে বাড়িয়ে দেবে।
আমার জানা মতে, ইজতেমার পর একাধিক সাদপন্থীর ভুল ভেঙ্গেছে -বলেন তিনি।
ইজতেমার পর তাবলিগের কাজ কোন পদ্ধতি চলবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাবলিগের কাজের একটা সুর্নিদিষ্ট পদ্ধতি আছে। সেই পদ্ধতিতেই কাজ চলবে। তবে উলামায়ে কেরামের অংশগ্রহণ বাড়ায় কাজের গতিও অনেক বাড়বে।
ইজতেমার পর তাবলিগের কাজের যে ক্ষেত্র দেশব্যাপী তৈরি হয়েছে তা কাজে লাগাতে হলে সবার আন্তরিক অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন মুফতি কেফায়াতুল্লাহ আযহারী।
আগের মতো ওয়াজাহাতি জোড় হবে কী না -এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, যেহেতু উলামায়ে এসব কাজ দ্বীনি দায়িত্ব হিসেবে করতেন এবং কাজের প্রয়োজনও শেষ হয়ে যায়নি তাই হয়তো দ্বীনি এসব কাজ চলবে। কিন্তু মুরব্বিদের সিদ্ধান্তের আগে কিছুই বলা উচিৎ হবে না।
তবে খুব শীঘ্রই যে তাবলিগ জামাতের মুরব্বি ও দেশের শীর্ষ আলেমগণ বসে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবেন তিনি তা ইসলাম টাইমসকে নিশ্চিত করেন।
















