চকবাজার ট্রাজেডি : অনেক বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন তরুণ আলেম কাউসার আহমদ

আবরার আবদুল্লাহ ।।

জীবনে বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন লালবাগ মাদরাসার সাবেক শিক্ষার্থী হাফেজ মাওলানা কাউসার আহমদ। কিন্তু সেই স্বপ্ন আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে গতকাল। গতকাল চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন তিনি। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান কাউসারের মধ্যে ছিলো এগিয়ে যাওয়ার অফূরন্ত স্পৃহা। এগিয়ে থাকতে চাইতেন সবকিছুতেই।

তিনি যখন মাদরাসায় পড়তেন তখনও নিজের সামর্থ্যের চেয়ে একটু এগিয়ে থাকার প্রয়াস ছিলো তার মধ্যে। হাফেজ মাওলানা কাউসার সম্পর্কে এমনটিই জানালেন তার হিফজখানার সহপাঠী ও ফাতেহ টুয়েন্টিফোর ডটকমের নির্বাহী সম্পাদক মাওলানা ইফতেখার জামিল।

তিনি বলেন, হিফজখানায় আমরা এক সাথে পড়েছিলাম। কিতাবখানায় তিনি আমার এক বছরের সিনিয়র ছিলেন। একজন অমায়িক ব্যবহারের মানুষ ছিলেন। সবার সাথেই মিশতেন, সবার প্রিয়জন ছিলেন। কারো সাথে তার সম্পর্ক খারাপ এমন শোনা যেতো না। তার একটি জিনিস আমার ভালো লাগতো, তাহলো নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা। পরিশ্রমী ছিলেন তিনি।

তিনি আরও জানান, কাউসার ভাই খুব গরিব ঘরের সন্তান ছিলেন না। কিন্তু তার বড় হওয়ার স্বপ্ন ছিলো। এই স্বপ্ন পূরণের জন্য অনেক স্ট্রাগল করেছেন তিনি।

অগ্নিকাণ্ডে নিহত হাফেজ মাওলানা কাউসার আহমদ জামিয়া কোরআনিয়া, লালবাগ থেকে হিফজ ও দাওরা হাদিস সম্পন্ন করেন। সাথে সাথে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ-এর চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। একই সঙ্গে উভয় ধারায় যুক্ত হওয়ায় মাদরাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই জায়গায় কিছুটা অনিয়মিত হয়ে যান। বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বছর পেছনে পড়েন আর মাদরাসার ক্লাসে হয়ে পড়েন অনিয়মিত। তবে থেমে যাননি কোথাও।

লেখাপড়ার পাশাপাশি কাউসার আহমদ চকবাজারের মদিনা মেডিকেল হল ক্লিনিক চালাতেন। এই ক্লিনিকে শেয়ার ছিলো তার। গতকাল এই ক্লিনিকেই মৃত্যু হয়েছে তরুণ এই আলেমের।

কাউসারের দুই সন্তান

হাফেজ মাওলানা কাউসার আহমদ বিয়েও করেছিলেন। দুইটি ফুটফুটে যমজ সন্তানও আছে তার। আবদুল্লাহ ও মেহজাবীন। মা, দাদি ও চাচাদের কোলে উঠে বাবাকে খুঁজতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে আসে তারা দুই ভাই-বোন। ওদের মায়াভরা মুখ দেখে চোখ মোছেন অনেকেই।

গতকাল নিখোঁজ হওয়ার পর আজ দুপুর পর্যন্ত লাশ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না কাউসারের। আজ বিকালে লাশের সন্ধান পাওয়া যায়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত (সন্ধ্যা ৬টা) কাউসারের বুঝে পায়নি তার পরিবার।

পূর্ববর্তি সংবাদসবর : মুমিনের বিপদে সান্ত্বনার পরশ
পরবর্তি সংবাদযারা আগুনে পুড়ে মারা যান তারাও শাহাদাতের মর্যাদা পান