মিশরে ৯ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর: মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ছিল প্রবল বিরোধিতা

মুহাম্মাদ শোয়াইব ।।

বুধবার (২০ ফেব্রুয়ারি) মিশরীয় কর্তৃপক্ষ সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল হিশাম বারাকাতকে হত্যার দায়ে ৯ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। তবে মানবাধিতার সংস্থাগুলো বলছে, আসামীদের কাছ থেকে নির্যাতন করে স্বীকারোক্তি নিয়ে তাদেরকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে। এ ঘটনা নিয়ে মিশরজুড়ে স্যোশাল মিডিয়ায় নিন্দার ঝড় বইছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মিশরের প্রেসিডেন্ট আব্দুল ফাত্তাহ আস সিসি মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার কয়েক ঘন্টা পর এক পতিক্রিয়ায় বলেছেন, “বিচার বিভাগের কাজে কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারে না”।

বুধবার সাড়ে নয়টায় এই ফাঁসি কার্যকর করার পর নিহতদের লাশ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর আগের সপ্তাহেও মিশরে তিনজনকে ফাঁসি দেয়া হয়। গত দুই সপ্তাহে এটি তৃতীয়বারের মতো ফাঁসি কার্যকরের ঘটনা।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, “মিশরীয় কর্তৃপক্ষের বিচারব্যবস্থার বিচারে যে নয়জন আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে তারা নাগরিক নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে”।

সংস্থাটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণের জন্য মৃত্যুদণ্ডের আইন অবিলম্বে বাতিল, বিচারিক স্বাধীনতার অগ্রাধিকার এবং মিশরীয় আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে।

অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মৃত্যুদণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে এবং হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ড বিচার নয়; বরং দেশে অবিচারের পরিমাপের প্রমাণ বলে আখ্যায়িত করে বলেছে, “এই মৃত্যুদন্ড মিশরে মৃত্যুদন্ডের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার সম্পর্কে একটি স্পষ্ট চিহ্ন। গত তিন সপ্তাহে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা ব্যক্তিদের সংখ্যা ১৫ তে পৌঁছেছে”।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করাদের একজন হলেন মাহমুদ আল-আহমাদি। তিনি আদালতে দাঁড়িয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন করে জানিয়েছেন, তদন্তের সময় কীভাবে বৈদ্যুতিক শক ব্যবহার করে স্বীকারোক্তি নেয়া হয়েছে। তিনি তার শরীরের বিভিন্ন ক্ষতস্থানও দেখিয়েছিলেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মূলত মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক থাকার কারণেই তাদেরকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসি দেয়া হয়েছে।
মুসলিম ব্রাদারহুড মৃত্যুদণ্ড বন্ধ করার জন্য আন্তর্জাতিক আপিল প্রক্রিয়াধিন থাকা সত্ত্বেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করায় জন্য গভীর ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে।

দলটি এক বিবৃতিতে আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর শহীদদের ওপর গায়েবানা জানাযা পড়ার জন্য সব উদারপন্থীদের প্রতি আহ্বান জানায়।

অন্যদিকে মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে মিশরীয় নাগরিকরা ইস্তানবুলে তাদের দেশের কনস্যুলেটের সামনে জড়ো হন। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ফাঁসি-সংস্কৃতি বন্ধ করার জন্য মিশরের ওপর চাপ প্রয়োগ করার আহ্বান জানান। তারা বলেন, আসামীরা স্বাধীন বিচার বিভাগের সামনে দাঁড়ানোর সুযোগ পাইনি। এই বিচারবিভাগ সরকারের আজ্ঞাবহ। এই বিচারবিভাগের কাছে কেউই ন্যায়বিচার আশা করতে পারে না।

মিশরীয় কর্তৃপক্ষ বুধবার সকালে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল হিশাম বারাকাতকে হত্যার ঘটনায় নয়জন ব্যক্তির মৃত্যুদন্ডের ফাঁসির রায় দেয়। যাদের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছে তারা হলেন, আহমেদ তাহা, আবু আল কাসিম আহমদ, আহমদ জামাল হিজাজী, মাহমুদ আল আহমাদী, আবু বকর আস সায়্যিদ, আব্দুল রহমান সুলাইমান, আহমদ মুহাম্মদ, আহমদ মাহরুস সায়্যিদ ও ইসলাম মুহাম্মদ।

উল্লেখ্য, মিশরের প্রধান কৌঁসুলি (অ্যাটর্নি জেনারেল) হিশাম বারাকাত বোমা হামলায় নিহত হয়েছেন ২০১৫ সালে।
মিশরে প্রহসনের বিচারে ইসলামপন্থী ও সেক্যুলার রাজনৈতিক কর্মীদের গণবিচারে যে মৃত্যুদণ্ড ও দীর্ঘমেয়াদী সাজা দেয়া হচ্ছে তার পক্ষে জোরালো ভূমিকা রাখছিলেন বারাকাত। তাই তার মৃত্যুদন্ডের জন্য ইসলামপন্থীদের সন্দেহ করে ফাঁসি দেয়া হয়। আন্তর্জাতিক সমপ্রদায় এই বিচারের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।

সূত্র: আলজাজিরা

পূর্ববর্তি সংবাদচকবাজার ট্র্যাজেডি: নোয়াখালীতে শোকের ছায়া
পরবর্তি সংবাদঅগ্নিকাণ্ড নিয়ে বিএনপির মন্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন: তথ্যমন্ত্রী