আবরার আবদুল্লাহ ।।
টঙ্গীর ইজতমার মাঠে অবস্থিত টিনশেড মসজিদে শবগুজারিসহ সব ধরনের আমল উলামায়ে কেরামের অধীনে পরিচালিত হয়ে এলেও এখন কৌশলে সেখানে শবগুজারি করার চেষ্টা করছেন মাওলানা সাদের অনুসারীরা। টঙ্গীর মাঠে কাজ করার নামে তারা সেখানে শবগুজারি করার দাবি তুলেছেন।
মুফতি কেফায়াতুল্লাহ আযহারীসহ তাবলিগ জামাতের একাধিক সূত্র ইসলাম টাইমসকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
সূত্র জানায়, ইজতেমা মাঠের প্রস্তুতির কাজ উলামায়ে কেরামের অধীনে হবে বলে সিদ্ধান্ত হলেও মাঠের সামান খোলা এবং গুছিয়ে রাখার কাজ কারা করবে এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি তখন। এই বিষয়ে সিদ্ধান্তগ্রহণের জন্য গত শুক্রবার (২২ ফেব্রুয়ারি) গাজীপুরের পুলিশ সুপার বেলালুর রহমানের নেতৃত্বে তাবলিগ জামাতের উভয়পক্ষ বসেন।
আলোচনার এক পর্যায়ে নামাজের সময়ে হয়ে গেলে উভয়পক্ষের প্রতিনিধিরা নামাজ আদায় করতে চান। এ সময় সেখানে সাদপন্থী মাওলানা আশরাফ আলী ও অপর একজন সাথী উপস্থিত ছিলেন। অন্যান্যদের অনুপস্থিতিতে মাওলানা আশরাফ আলী এককভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ফেলেন এবং সিদ্ধান্তের পক্ষে সেই সাথীর স্বাক্ষর আদায় করে নেন।
সিদ্ধান্তে বলা হয়, মাঠ গোছানোর কাজ উলামায়ে কেরামের অধীনে ৪দিন অনুষ্ঠিত হবে এবং সাদপন্থীদের অধীনে ৪দিন হবে। সপ্তাহের প্রথম ৪দিন (শনি থেকে মঙ্গল) উলামায়ে কেরামের অধীনে হবে। এরপর ৪দিন (বুধ থেকে শনি) সাদপন্থীরা কাজ করবে। যেহেতু আগামী বৃহস্পতিবার এবং তার পরের সাদপন্থীদের কাজ থাকবে তাই এই সময় তারাই টঙ্গীর মাঠে শবগুজারি করবে।
অন্যান্য সাথীরা ফিরে এসে এই সিদ্ধান্ত দেখে তা মানতে অস্বীকার করেন। তারা বলেন, এককভাবে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত তারা মানতে পারেন না। তাছাড়া মাঠ গোছানোর কাজে সাদপন্থীদের প্রয়োজন নেই বলেও তারা মন্তব্য করেন।
উভয়পক্ষের মতভিন্নতা তৈরি হলে পুলিশ সুপার এই বিষয়ে উপর মহলকে অবগত করবেন জানিয়ে বৈঠক শেষ করেন।
উল্লেখ্য, টঙ্গীর ইজতেমার মাঠে অবস্থিত মসজিদ পরিচালনার সার্বিক দায়িত্ব শুরু থেকেই উলামায়ে কেরাম পালন করে আসছেন। এমনকি ইজতেমা পরবর্তী বৃহস্পতিবারও উলামায়ে কেরামের অধীনে টিনশেড মসজিদের শবগুজারি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
















