আবরার আবদুল্লাহ ।।
টঙ্গীর ইজতেমার মাঠে ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। ফলে সেখানে প্রবেশ করতে পারছেন না তাবলিগ জামাতের কোনো পক্ষ। আজ বুধবার সকাল থেকে এই নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।
টঙ্গীর ইজতেমার মাঠের দায়িত্বশীল মোঃ তারেক ইসলাম টাইমসকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তবে ইজতেমার ময়দানে অবস্থিত মাদরাসায় লেখাপড়া ও নামাজ, টিনশেড মসজিদ ও বেলাল পয়েন্টে আজান ও নামাজ হচ্ছে বলে তিনি জানান। যদিও এক্ষেত্রেও চলাচলে বিধি-নিষেধ রয়েছে।
মোঃ তারেক বলেন, মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকদের জন্য সীমানা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে যেন তারা এর বাইরে না যান এবং মসজিদে নামাজ পরবর্তী আমলগুলো সংক্ষিপ্তভাবে শেষ করা হচ্ছে।
ঠিক কী কারণে সরকার এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলো তা তিনি বলতে পারেননি।
আরও পড়ুন : কৌশলে ইজতেমা মাঠের মসজিদে শবগুজারি করতে চায় সাদপন্থীরা
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ওয়াইএম বেলালুর রহমান উভয়পক্ষের মতভিন্নতার কারণে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন।
তিনি গণমাধ্যম বলেন, ময়দানের মালামাল গোছানোর জন্য উভয় পক্ষের মুসল্লিরা ময়দানে কাজ করছেন। এ মালামাল অপসারণ নিয়ে সম্প্রতি দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধের কারণে উভয় পক্ষকে ময়দানে প্রবেশে নিষেধ করা হয়েছে। বুধবার সকাল থেকে পুরো ইজতেমা ময়দান পুলিশ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। কোনো পক্ষকেই ময়দানে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। দুই পক্ষের ঐক্যমত না হওয়া পর্যন্ত ইজতেমা মাঠ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে। উভয় পক্ষ ঐক্যমত হলে তাদের কাছে ময়দান ও মালামাল বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে ইজতেমা পরবর্তী মাঠের কাজ বিষয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সাদপন্থী আলেম মাওলানা আশরাফ আলী কৌশলে ইজতেমার মাঠে তাদের কাজ ও বৃহস্পতিবার টিনশেড মসজিদে শবগুজারির করার পক্ষে সমর্থন আদায় করে নেন।
আরও পড়ুন : ইজতেমার মাঠে সাদপন্থীদের প্রবেশে টঙ্গীবাসীর আপত্তি, সকাল থেকে কাজ বন্ধ
পরবর্তীতে যা টঙ্গী এলাকার সাধারণ মুসল্লি ও তাবলিগি সাথীরা মেনে নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তারা সাদপন্থীদের মাঠে প্রবেশের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে ২৫ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) লিখিত আবেদনপত্র জমা পুলিশ কমিশনার বরাবর।
আবেদনের পর সোমবার সকাল থেকে মাঠের কাজ বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় প্রশাসন। তারই ধারাধাহিকতায় আজ মাঠে ১৪৪ ধারা জারি করলো তারা।
উল্লেখ্য, ২২ ফেব্রুয়ারির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ সকালে সাদপন্থীদের মাঠে প্রবেশ করার কথা ছিলো।
















