আবরার আবদুল্লাহ ।।
ক্রমেই যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ভারত ও পাকিস্তান। গতকাল মঙ্গলবার পাকিস্তানের সীমানা লঙ্ঘন করে ভারতীয় বিমান বাহিনীর হামলা চেষ্টার পর সীমান্তে উভয় দেশের সেনাদের মধ্যে ভারি গোলা বিনিময় শুরু হয়েছে। এতে চার পাকিস্তানি বেসামরিক নাগরিক ও ১২ ভারতীয় সেনা আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
গতকালের বিমান হামলার প্রতিবাদে আজ পাকিস্তান সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে বিমান হামলা করেছে। পাকিস্তান দাবি করছে, কাশ্মীরে বোমা বর্ষণের সময় পাকিস্তানের সীমানা ঢুকে পড়া দুটি ভারতীয় যুদ্ধ বিমান ভূপাতিত করেছে তারা। এ সময় দুইজন পাইলটকেও আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে ভারত বলছে, তারাও পাকিস্তানের এফ-১৬ যুদ্ধ বিমান বিধ্বস্ত করেছে। তবে উভয় দেশ বিমান ভূপাতিত করার ঘটনা অস্বীকার করেছে। পাকিস্তান বলছে, তারা এই অভিযানে এফ-১৬ বিমান ব্যবহারই করেনি।
অন্যদিকে পাকিস্তান আকাশ সীমানায় জরুরি অবস্থা জারি করে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সব ধরনের বিমান চলাচল নিষিদ্ধ করেছে করেছে। সীমান্তবর্তী বিমানবন্দরগুলো সামরিক বাহিনীর কাছেও হস্তান্তর করেছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচলা কর্তৃপক্ষ। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সীমান্তবর্তী ১০ বিমানবন্দনে বিমান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে ভারত।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারতের সকল যুদ্ধবিমানকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান দেশের নিরাপত্তা পরিষদের সঙ্গে বৈঠক শেষ করেছেন। পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের হাতেই রয়েছে পরমাণু বোমা সংরক্ষণ ও ব্যবহারের অধিকার।
ইমরান খান জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে বলেছেন, আমরা এখনও যুদ্ধ এড়াতে চাই। আজ সকালে যে হামলা হয়েছে তা আমাদের সামর্থ্য বোঝানোর জন্য হয়েছে। পাল্টা আক্রমণের জন্য নয়। আমাদের বাধ্য করলে তার পরিণতি যে ভালো হবে না সেটা বোঝানোই উদ্দেশ ছিলো আমাদের। আশা করি, ভারত সেটা বুঝতে পেরেছে।
তিনি ভাষণে, একাধিকবার ভারতকে আলোচনার আহবান জানিয়েছেন।
ভারত-পাকিস্তানের বাহিনী প্রধানরাও যুদ্ধের জন্য নিজ নিজ বাহিনীর প্রস্তুতির ঘোষণা দিয়েছেন। যদিও উভয় দেশ চলছে, তারা যুদ্ধ এড়াতে চান।
তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পাকিস্তান-ভারতকে সংযত আচরণের আহবান জানিয়েছে।
সূত্র : ডন, ডেইলি পাকিস্তান ও এনডিটিভি
















