অবশেষে ৭ মার্চ শপথ নিবেন গণফোরামের দুই নেতা

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: বহু নাটকীয়তার পর অবশেষে সাংসদ হিসেবে শপথ নেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন  একাদশ সংসদ নির্বাচনে গণফোরাম থেকে বিজয়ী দুই নেতা, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ও মোকাব্বির খান।

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ শপথ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে শনিবার (২মার্চ) বিকেলে চিঠি দেন এই দুই নেতা। তবে তাঁদের চিঠির বিষয়ে কিছুই জানেন না গণফোরাম ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা।

চিঠি দেওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ও মোকাব্বির খান। এ প্রসঙ্গে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ শনিবার সাংবাদিকদেরকে বলেন, ‘আমি শপথ নেব। শত প্রতিকূলতার মধ্যে জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন, তাদের ভোটের সেই মর্যাদা দিতেই আমি শপথ নেব।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়েছি। কিন্তু নির্বাচন করতে হলে নিবন্ধিত দলের সদস্য হতে হয়, তাই আমি গণফোরামের সদস্য হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি। এখন তারা যদি আমাকে দল থেকে বহিষ্কার করে, সেটিকে আমি কেয়ার করি না। তাদের যা সিদ্ধান্ত নেয়ার, নিতে পারে।’

অন্যদিকে মোকাব্বির খান শনিবার সাংবাদিকদেরকে বলেন, ‘আমি দলের (গণফোরাম) সিদ্ধান্ত নিয়েই মার্চের প্রথম সপ্তাহে শপথ নেব। দলের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে কথা বলেই শপথ নিতে যাচ্ছি। তিনি শপথের বিষয়ে ইতিবাচক।’

এদিকে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু সাংবাদিকদেরকে জানান, ‘আমরা (জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট) এখন পর্যন্ত শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্তে বহাল আছি। এখন কেউ সেই সিদ্ধান্ত অমান্য করে শপথ গ্রহণ করলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যদি বহিষ্কারের নিয়ম হয়, তাহলে তাদের বহিষ্কার করা হবে।’

এ প্রসঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমকে বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ মৌলভীবাজার-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন। আর মোকাব্বির খান গণফোরামের দলীয় প্রতীক উদীয়মান সূর্য নিয়ে সিলেট-২ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। তারা দু’জনই ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরামের স্থায়ী কমিটির সদস্য।

৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হলেও দলীয় সিদ্ধান্তে এতদিন শপথ নেননি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর এবং মোকাব্বির খান। তবে এবার তারা দল এবং জোটের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করেই স্বাধীনতার এ মাসেই শপথ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত রয়েছে, একাদশ সংসদ নির্বাচনে জোট থেকে নির্বাচিত ৮ জনের কেউই শপথ গ্রহণ করবেন না। জোটের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শপথ গ্রহণ করলে তাদের দল থেকে বহিষ্কার করার চিন্তা রয়েছে গণফোরামের।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘কোনও নির্বাচনে কোনও রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোনও ব্যক্তি সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহা হইলে সংসদে তাহার আসন শূন্য হইবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোনও নির্বাচনে সংসদ-সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না।’

 

পূর্ববর্তি সংবাদফতুল্লায় অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার
পরবর্তি সংবাদহাসপাতালে ওবায়দুল কাদের