মেননের সংসদ সদস্য পদ বাতিল করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করুন : আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী

ইসলাম টাইমস ডেস্ক : হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও দারুল উলুম হাটহাজারীর মুঈনে মুহতামিম আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী আজ সংবাদপত্রে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে সম্প্রতি জাতীয় সংসদে কওমী মাদরাসাকে বিষবৃক্ষের সাথে তুলনা, ইসলামী অনুশাসনকে ‘মোল্লাতন্ত্র’, খতমে নবুওয়ত অস্বীকারকারী অমুসলিম কাদিয়ানীদের পক্ষে দালালী, হেফাজতে ইসলাম ও দেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় শীর্ষ আলেম শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফীসহ আলেম সমাজ ও জাতীয় কবিকে কটাক্ষ করে পতিত বামনেতা রাশেদ খান মেননের দেয়া অশালীন, আক্রমণাত্মক ও উস্কানিমূলক বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

হেফাজতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদীর প্রেরিত এক বিবৃতিতে আল্লামা বাবুনগরী এ প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, সাবেকমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন সংসদে দাঁড়িয়ে ইসলামের মৌলিক আকীদা খতমে নবুওয়ত অস্বীকারকারী কাফের কাদিয়ানীদের পক্ষে উদ্দেশ্যপ্রনোদিত বক্তব্য রেখেছেন। কুরআন হাদীস ও শরীয়তের বিধান হলো যারা আকীদায়ে খতমে নবুওয়ত স্বীকার করে না তারা কাফের ও অমুসলিম। আর যারা কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম মনে করেনা তারাও কাফের। মেনন সাহেব কাদিয়ানীদের পক্ষে ওকালতি করে প্রমাণ করেছেন তিনিও এই কুফরী আকীদায় বিশ্বাসী। সুতরাং খতমে নবুয়ত অস্বীকারকারী মেনন মুসলমান হতে পারে না।

আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী বলেন, পৃথিবীর অধিকাংশ মুসলিম রাষ্ট্র কাদিয়ানীদেরকে অমুসলিম সংখ্যালঘু ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশে কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করা হলে তারা অন্যদের মতো নাগরিক অধিকার নিয়ে এ দেশে বসবাস করবে, তাতে কোন আপত্তি থাকবে না।

আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী বলেন, উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনিধারা কওমি মাদরাসার শিক্ষা। ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনসহ ইসলাম ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, মুসলমানদের ঈমান আকীদা সংরক্ষণ, জনগণের মৌলিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কওমী মাদরাসা ও আলেমসমাজের ত্যাগ ও অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয়। কওমী শিক্ষার সাথে এদেশের আপামর জনসাধারণের গভীর সম্পর্ক। সরকারী সহযোগিতা ছাড়া দেশের লাখ লাখ ছাত্র-ছাত্রীদের ইসলামী শিক্ষা, নীতি-নৈতিকতা-সম্পন্ন আদর্শ নাগরিক তৈরী ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সন্তানদের সেবায় কাজ করছে আলেমসমাজ।

তিনি বলেন, ঘুষ, সুদ, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত শান্তিময় সমাজ বিনির্মাণ কওমী মাদরাসা অনন্য নজীর স্থাপন করেছে। রাশেদ খান মেনন কওমি মাদরাসাকে ‘বিষবৃক্ষ’ বলে আলেম-উলামা, ছাত্র শিক্ষক ও তৌহিদী জনতার অন্তরে আঘাত করেছে। কওমি মাদরাসাকে বিষবৃক্ষের সাথে তুলনা করে তিনি সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। তার বক্তব্য ইসলামী শিক্ষা, নাগরিক অধিকার ও রাষ্ট্রবিরোধী। দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব আমীরে হেফাজত আল্লামা শাহ আহমদ শফীকে নিয়ে যে অশালীন, কুরুচিপূর্ণ ও ঔদ্ধত্যমূলক বক্তব্য দিয়েছে, এজন্য তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন, রাশেদ খান মেনন সংসদে দাঁড়িয়ে হেফাজতের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে আলেমসমাজ ও ধর্মপ্রাণ জনগণকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছেন। মূলত কমিউনিষ্টরা এখন গণধিকৃত। মন্ত্রীত্ব হারিয়ে মেনন বেসামাল হয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করে ফায়দা লুটতে চায়। আমরা মনে করি, এরা বিদেশী অপশক্তির ক্রীড়নক হয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতেই অপতৎপরতা চালাচ্ছে। এসব বক্তব্য দিয়ে ইসলামবিদ্বেষী গোষ্ঠীর কৃপা পেতে চায়।

আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী ইসলামি শিক্ষা ও বিশ্বাসকে অবমাননা করায় মেননকে গ্রেফতারপূর্বক শাস্তি প্রদানের জন্য সরকারের নিকট দাবি জানিয়ে বলেন, ৯২% মুসলমানের দেশে নাস্তিক্যবাদের দোসর মেনন গংদের আস্ফালন মুসলমানরা সহ্য করবে না।  এ ধরনের ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য দিয়ে জাতীয় সংসদের সদস্য থাকতে পারে না। অবিলম্বে মেননের সংসদ সদস্য পদ বাতিল করে তার বিচার করুন। এ জাতীয় মুনাফেকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করুন।

পূর্ববর্তি সংবাদ‘রাশিয়ায় মুসলমানের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে’
পরবর্তি সংবাদপুরো কুরআন শরীফ হাতে লিখলেন বরিশালের হুমায়ুন