অ্যান্টার্কটিকায় তুর্কি গবেষকদের যাত্রা শুরুর গল্প

আবরার আবদুল্লাহ ।।

দ্বিতীয় মুসলিম দেশ হিসেবে তুরস্ক অ্যান্টার্কটিকায় নিজস্ব গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করেছে। এর আগে প্রথম মুসলিম দেশ হিসেবে পাকিস্তান ১৯৯১ সালে অ্যান্টার্কটিকায় জাতির পিতা মুহাম্মদ আলি জিন্নাহ-এর নামে একটি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করে। তবে পাকিস্তানের কেন্দ্রটিতে শুধু গ্রীষ্মকালেই গবেষণার কাজ হয়।

নবনির্মিত তুর্কি গবেষণা কেন্দ্রটি মূলত আবহাওয়া ও পরিবেশ নিয়ে গবেষণা করবে। যেমন, বাতাসের গতি, বাতাসের চাপ, বৈশ্বিক উষ্ণতা, সূর্যরশ্মি, বরফের গভীরতা, বরফের গলে যাওয়া ইত্যাদি। বর্তমান এই গবেষণা প্রকল্পের মেয়াদ ঘোষণা করা হয়েছে দুই বছর।

Antarktis Türkei errichtet Polarstation (picture-alliance/AA/O.E. Kizil)

এটা তুরস্কের তৃতীয় অ্যান্টার্কটিকা গবেষণা প্রকল্প। এর আগের দুটি গবেষণা প্রকল্পের সময় তুর্কি গবেষকরা অন্যদেশের গবেষণা কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছিলেন। বর্তমানে অ্যান্টার্কটিকায় ৫০টি দেশের গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে। তবে অধিকাংশ কেন্দ্র আমেরিকা, বৃটেন, রাশিয়া, চীন, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া কর্তৃক স্থাপিত। এসব দেশের একাধিক কেন্দ্র রয়েছে। এছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, কানাডা, আর্জেন্টিনাসহ বেশ কিছু দেশের একটি করে গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে।

তুরস্ক মূলত একটি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করেছে। তুরস্কের কৃষি ও বন মন্ত্রণালয়ের আবহাওয়া বিভাগের কেন্দ্রটিতে গবেষণার কাজ চলবে।

Antarktis Türkei errichtet Polarstation (picture-alliance/AA/O.E. Kizil)

কেন্দ্র স্থাপনের জন্য গত ফেব্রুয়ারিতে একটি তুর্কি দল অ্যান্টার্কটিকা অভিযানে বের হয়। ৩০ দিনব্যাপী এই অভিযানে তারা ৬৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দ্বীপ হোর্সশে-তে একটি স্থায়ী গবেষণাকেন্দ্র স্থাপন করে। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও মাত্র চারদিনে তারা কেন্দ্রের প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম হন।

অভিযানে অংশগ্রহণকারী প্রকৌশলী মুহাম্মদ ওয়াকিলামজ নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, আমাদেরকে প্রচণ্ড বাতাস ও ঠাণ্ডা সহ্য করতে হয়েছে। গবেষকরা তাপমাত্রা, শৈত্য, চাপ ও তুষারপাতের উপর গবেষণা করতে পারবেন।

Antarktis Türkei errichtet Polarstation (picture-alliance/AA/O.E. Kizil)

তিনি আরও বলেন, প্রচণ্ড বাতাসের মধ্যে আসবাবপত্র বহন করা অত্যন্ত কঠিন ছিলো। জাহাজ থেকে প্রথমে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে প্রায় ৬ টন ওজনের সরঞ্জাম দ্বীপে নামানো হয়। এরপর পাহাড়ের উপর অবস্থিত কেন্দ্রে তা নিয়ে যাওয়া হয়।

এখন আবহাওয়ার উপর গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নেওয়া হলেও ভবিষ্যতে দীর্ঘ মেয়াদি গবেষণা প্রকল্পের জন্য আরও সরঞ্জাম নেওয়া হবে বলে জানান এই প্রকৌশলী।

গবেষকরা সংগৃহীত তথ্য স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেবেন। যেন তার উপর দেশে অবস্থানকারী গবেষকরা গবেষণা করতে পারেন।

তুরস্ক ২০১৬ সালে চিকিৎসক, উদ্ভিদ বিজ্ঞানী, ভূগোলবিদ, সমুদ্র গবেষক ও পরিবেশ বিজ্ঞানীদের একটি দল পাঠান অ্যান্টার্কটিকাতে। তারা বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের উপর গবেষণা করেন।

গত শতাব্দীর শুরুভাগে ব্রিটিশ রাজকীয় নৌ বাহিনী সর্বপ্রথম অ্যান্টার্কটিকায় গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করে। ১৯০৪ সালে প্রথম সামরিক ঘাটি স্থাপন করে। ১৯৪০-৪৫ সালে তারা সেখানে একটি স্থায়ী ও আধুনিক সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করে। কিন্তু ১৯৫৯ সালে স্বাক্ষরিক এক আন্তর্জাতিক চুক্তির আলোকে অ্যান্টার্কটিকা অঞ্চলটি শান্তিপূর্ণ গবেষণার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।

অ্যান্টার্কটিকায় অবস্থিত স্থায়ী কেন্দ্রগুলোর কোনো কোনোটায় শুধু গ্রীষ্মকালে গবেষকরা যান। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গবেষকদের পাশাপাশি পর্যটকদেরও ভিড় বাড়ছে সেখানে। যদিও তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল।

সূত্র : উইকিপিডিয়া, টিআরটি ওয়ার্ল্ড, ডয়চে ভেলে, ওয়াশেন ওয়াইড

পূর্ববর্তি সংবাদআলেমদের মাধ্যমে ক্ষমতায় গেলেও বিএনপি-জামায়াত তাদের জন্য কিছু করেনি: তথ্যমন্ত্রী
পরবর্তি সংবাদযারা গরু-ছাগলের মতো বিক্রি হয় তারা দালাল: ড. কামাল