ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে মুসলিম বিরোধী সন্ত্রাসী হামলা, দু’জন বাংলাদেশীসহ নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৯ জন

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটো মসজিদে মুসলিম অভিবাসন বিরোধী বন্দুকধারীর সন্ত্রাসী হামলায় ৪৯ জন নিহত হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এর আগে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন নিশ্চিত করেছিলেন যে ৪০ জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় অন্তত ২০ জন গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।

প্রধানমন্ত্রী আরডার্ন একে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে এটি দেশটির ইতিহাসের “কালো দিনগুলোর” একটি।

পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, হামলাকারী সন্দেহে তিনজন পুরুষ এবং একজন নারীকে আটক করা হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে আরও হামলাকারী পালিয়ে গিয়ে থাকতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন জানিয়েছেন আটককৃতদের একজন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক।

তিনি সন্দেহভাজন হামলাকারীকে একজন “মৌলবাদী, অতি-ডানপন্থী সহিংস সন্ত্রাসী” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

হামলাকারীরা নিজেদেরকে নিউজিল্যান্ডসহ ইউরোপের দেশগুলোতে মুসলিম অভিবাসন বিরোধী হিসেবে পরিচয় দিয়েছে।

এর আগে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম জানায়, নিউজিল্যান্ডের অন্যতম বড় এই শহরটির পরিস্থিতিকে পুলিশ “সংকটময় ঘটনা” হিসেবে উল্লেখ করে সবাইকে সতর্ক করেছে।

আল নূর মসজিদ ভবনের ভেতরে বেশ কয়েকজনকে আহত অবস্থায় দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা ঘটনার পর স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছিলেন।

বন্দুকধারীর হামলায় অন্তত দু’জন বাংলাদেশী নিহত হয়েছেন বলে সেখানে বাংলাদেশী দূতাবাসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

দূতাবাসের অনারারী কনসাল শফিকুর রহমার ভুইয়া জানিয়েছেন, দু’জন বাংলাদেশীর পরিচয় সম্পর্কে তাঁরা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হয়েছেন।

এছাড়া মসজিদে হামলার ঘটনায় অন্তত পাঁচজন বাংলাদেশী আহত হয়েছেন বলে বাংলাদেশের দূতাবাস এখন পর্যন্ত খবর পেয়েছে। এদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানানো হয় । এ হামলার ঘটনার পর দু’জন বাংলাদেশী নিখোঁজ রয়েছেন।

শহরের পরিস্থিতি ভীতিময়

ক্রাইস্টচার্চের সব স্কুল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ।

খবরে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বন্দুকধারীর হাত থেকে নিজেদের জীবন বাঁচার জন্য লোকেরা প্রাণভয়ে দৌড়াচ্ছিলেন।

মোহন ইব্রাহীম নামে একজন নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড সংবাদপত্রকে বলেছেন, “শুরুতে আমরা ভেবেছিলাম এটা হয়তো বৈদ্যুতিক শকের কোনও ব্যাপার, কিন্তু একটু পরেই সবাই দৌড়াতে শুরু করলো”।

“এখনো ভেতরে আমার বন্ধুরা রয়েছে” এ কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “আমি আমার বন্ধুদের ডাকতে থাকি কিন্তু সেখানে অনেকেই আছে, কারও কথা শুনতে পারিনি। আমার বন্ধু বেঁচে আছে কি-না সেটা নিয়ে আমি আমি ভীত।”

শহরতলীর লিনউড এলাকার আরও একটি মসজিদ থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

ক্যাথেড্রাল স্কয়ারে হাজার খানেক শিশুর জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় পদক্ষেপ নেয়ার দাবিতে শোভাযাত্রা হওয়ার কথা ছিল। সেখান থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

পুলিশ বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য তারা সর্বশক্তি নিয়ে কাজ করছেন।

পরবর্তী নোটিশ না দেয়া পর্যন্ত স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়ি থেকে বের হতে এবং রাস্তায় নামতে নিষেধ করা হয়েছে।

পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত স্কুলও বন্ধ থাকবে বলে পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন।

খবর সূত্র: বিবিসি ও রয়টার্স।

পূর্ববর্তি সংবাদক্রাইস্টচার্চে মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় প্রধানমন্ত্রীর শোক
পরবর্তি সংবাদকে এই উগ্র মুসলিম বিদ্বেষী হামলাকারী?