হাইয়াতুল উলয়ার বৈঠক : গাইড বই ও মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধে কঠোর হওয়ার সিদ্ধান্ত

আবরার আবদুল্লাহ ।।

কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের গাইড ও গাইডনির্ভর নোট বই পড়া এবং মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধ করতে আরও কঠোর হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সম্মিলিত কওমি শিক্ষাবোর্ড আল হাইয়াতুল উলয়া লিল-জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ। এই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে সারা দেশের মাদরাসা পরিচালকদের।

আজ ঢাকার ফরিদাবাদ মাদরাসায় হাইয়াতুল উলয়ার শীর্ষ বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়। হাইয়াতুল উলয়ার চেয়ারম্যান আল্লামা আহমদ শফী এই বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন।

বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের মহাসচিব ও হাইয়াতুল উলয়ার সদস্য মাওলানা আবদুল কুদ্দুস ইসলাম টাইমসকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, লেখাপড়ার মান ঠিক রাখতেই আমরা ছাত্রদের মোবাইল ফোন ব্যবহার এবং গাইড পড়া বন্ধ করতে চাই। কারণ, মোবাইল শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার মনোযোগ যেভাবে নষ্ট করছে, একইভাবে তাদের মধ্যে চারিত্রিক অনেক ত্রুটি ও স্খলন তৈরি করছে। তারা অনেক অনৈতিক বিষয়ে জড়িয়ে পড়ছে মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে। আর গাইড সহজলভ্য হওয়ার কারণে মূল কিতাবের সঙ্গে দিনদিন সম্পর্কহীন হয়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

তিনি আরও বলেন, মাদরাসাগুলোয় এই বিষয়ে নির্দেশনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত হবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে। যেন তারা ছাত্রদের গাইড ও মোবাইল ব্যবহারে কঠোর হন এবং তা বন্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

গাইড বন্ধে হাইয়াতুল উলয়া প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও কথা বলবেন বলে জানান মাওলানা আবদুল কুদ্দুস। তিনি বলেন, সরকারিভাবেই গাইড প্রকাশ করা আইনত নিষিদ্ধ এবং তা মাদরাসার লেখাপড়ার মান ধ্বংস করে ফেলছে সুতরাং তা বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থায় আমরা নিবো ইনশাআল্লাহ!

বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন, আল্লামা আশরাফ আলী, আল্লামা আজহার আলী আনোয়ার শাহ, মুফতি রুহুল আমিন, মাওলানা মুহিব্বুল হক, মুফতী মোহাম্মদ ওয়াক্কাস, মাওলানা মাহফুজুল হক, মুফতি নুরুল আমিন, মুফতি মোহাম্মদ আলী, মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া, মাওলানা মুসলেহুদ্দীন রাজু, মাওলানা আনাস মাদানী, মাওলানা যোবায়ের আহমদ চৌধুরী প্রমুখ।

পূর্ববর্তি সংবাদনিউজিল্যান্ডে খ্রিস্টান জঙ্গির হামলার ১৫ লাখ ভিডিও মুছে ফেলেছে ফেসবুক
পরবর্তি সংবাদগুম বা নিখোঁজ: ফিরে আসা ব্যক্তিরা কেন মুখ খোলেন না