বাস চাপায় শিক্ষার্থী নিহত, সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

ইসলাম টাইমস ডেস্ক : রাজধানীর রামপুরা সড়কে বাসচাপায় একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন শিক্ষার্থীরা। ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র আতিকুল ইসলামের অনুরোধের পরও তারা সড়ক ছেড়ে যায়নি।

বেলা ১১টার দিকে তিনি যমুনা ফিউচার পার্ক এলাকায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন।

শিক্ষার্থীরা ঘাতক সুপ্রভাত পরিবহনের রুট পারমিট বাতিল, ঘাতক চালকের ফাঁসির দাবিসহ ১২ দফা দাবিতে নানা স্লোগান দিচ্ছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সড়ক ছাড়বে না বলে জানিয়েছে তারা।

ছাত্র বিক্ষোভে অচল হয়ে পড়েছে রাজধানীর ব্যস্ততম বাড্ডা-রামপুরা সড়ক।

১২ দফা দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-

১. ১০ দিনের মধ্যে সুপ্রভাত বাসের চালক, হেলপার ও মালিকের ফাঁসি;

২. সু-প্রভাত ও জাবালে নূরসহ যেসব বাস আজ ও এর আগে দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে সেসব বাসের রুট পারমিট বাতিল;

৩. চালক হেলপারের ডোপ টেস্ট;

৪. বাস-সহ গণপরিবহনের চালক-হেলপারের আইডি কার্ড ভিজিবল করা;

৫. বসুন্ধরা আবাসিক/যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে জেব্রা ক্রসিংসহ নিহত আবরারের নামে ফুটওভার ব্রিজ করতে হবে দুই মাসের মধ্যে।

প্রসঙ্গত, রাজধানীর নর্দা-বসুন্ধরা এলাকায় দ্রুতগতিতে চালিয়ে যাওয়া যাত্রীবাহী বাসের চাপায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আটক করা হয়েছে বেপরোয়া গতিতে চালিয়ে যাওয়া ওই বাসচালককে এবং জব্দ করা হয়েছে বাসটিকে।

নিহত শিক্ষার্থীর নাম আবরার আহমেদ চৌধুরী। তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালে (বিইউপি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বিইউপির ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। তার বাবা আরিফ আহমেদ চৌধুরী।

মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে ওই শিক্ষার্থী রাস্তা পারাপারের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আবরার বসুন্ধরা এলাকায় থাকতেন। আবরারের লাশ রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, শিক্ষার্থীদের বহনকারী বিইউপির একটি বাস সকালে বসুন্ধরা এলাকায় সড়কে দাঁড়িয়েছিল। সকাল সোয়া ৭টার দিকে আবরার বাসে উঠতে যাচ্ছিলেন। এ সময় পাশে থাকা গাজীপুরগামী সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাস তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।

একই পরিবহনের অপর একটি বাসকে ওভারটেক করার জন্য বেপরোয়া গতিতে সুপ্রভাত পরিবহনের বাসটি চালাচ্ছিলেন চালক। দুর্ঘটনার পর নিহত ছাত্রের সহপাঠীরা বাসটি আটক করেন। এ সময় চালক ও হেলপার পালানোর চেষ্টা করেন। পরে চালক সিরাজুল ইসলামকে ধরে ফেলেন শিক্ষার্থীরা।

রাজধানীতে ‘ট্রাফিক শৃঙ্খলা সপ্তাহ’ চলার মধ্যেই এ দুর্ঘটনা ঘটল। নিহত শিক্ষার্থী নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে জড়িত ছিলেন।

পূর্ববর্তি সংবাদরাঙামাটিতে আওয়ামী লীগের উপজেলা সভাপতিকে গুলি করে হত্যা
পরবর্তি সংবাদক্ষমতার দখল নিতে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা খুনোখুনিতে লিপ্ত : মির্জা ফখরুল