ভারতীয় চলচ্চিত্রে ইসলাম অবমাননার নতুন প্রবণতা!

আতাউর রহমান খসরু ।।

ভারতীয় চলচ্চিত্রে ইসলামি মূল্যবোধের প্রতি তাচ্ছিল্য প্রকাশের নতুন ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। জানা গেছে, ভারতের চলচ্চিত্র পরিচালক সঞ্জয় লীলা বানসালি প্রাচীন প্রেমের উপখ্যান অবলম্বনে নতুন চলচ্চিত্র নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন। তার নতুন এই চলচ্চিত্রের নাম ঠিক করা হয়েছে ‘ইনশাআল্লাহ’। মুসলিম সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ –যা পবিত্র কুরআনেও ব্যবহৃত হয়েছে সেই নামে একটি প্রেমের ছবি নির্মাণের ঘোষণা আহত করেছে পাক-ভারত উপমহাদেশের দ্বীনপ্রাণ মুসলিমদের। তাদের কেউ কেউ সামাজিক মাধ্যমেও তাদের ক্ষোভের কথা প্রকাশ করেছেন।

অবশ্য ভারতীয় চলচ্চিত্রে ইসলাম ও মুসলিম অবমাননার বিষয়টি নতুন নয়। এ পর্যন্ত বহু চলচ্চিত্রে মুসলিমদের সন্ত্রাসী ও জঙ্গি, মুসলিম শাসকদের দখলদার ও অত্যাচারী হিসেবে চিত্রায়িত করার চেষ্টা হয়েছে। ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম নেতাদের দেশপ্রেম নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে ভারতীয় চলচ্চিত্রে।

সঞ্জয় লীলা বানসালি এই পর্যন্ত একাধিক ঐতিহাসিক ঘটনাকে উপজীব্য করে সিনেমা তৈরি করে নানাভাবে সমালোচিত হয়েছেন। বিশেষত সুলতান আলাউদ্দিন খিলজি ও রাণী পদ্মবতির ঘটনা উপজীব্য করে তৈরি চলচ্চিত্রের জন্য তিনি হিন্দু-মুসলিম সবার কাছেই সমালোচিত হয়েছেন। এই ছবিতে সুলতান আলাউদ্দিন খিলজিকে তিনি লাম্পট্যের প্রতিকৃতি হিসেবে তুলেছেন ধরেছেন। যার তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদ খোদ ভারতের একাধিক অমুসলিম ঐতিহাসিকও করেছেন।

বহুল আলোচিত ও সমালোচিত এই পরিচালক এবার ইসলামি সংস্কৃতির অংশ ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দকে তার পরবর্তী চলচ্চিত্রের নাম নির্ধারণ করেছেন। পরিচালক ও এই চলচ্চিত্রের নায়ক-নায়িকা ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দকে চমকপ্রদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মনে করা হচ্ছে, তিনি মানুষের ভেতর চমক সৃষ্টির জন্যই ইসলামি সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ ঘনিষ্ঠ শব্দটিকে চলচ্চিত্রের টাইটেল হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

অবশ্য ভারতীয় চলচ্চিত্রে ইসলামি শব্দ ব্যবহারের প্রবণতা রীতি মতো বাড়ছে। যার প্রভাব পড়ছে প্রতিবেশী দেশগুলোর চলচ্চিত্রের উপর। ফলে এখন অনেক অশ্লীল গান ও আপত্তিকর চিত্রের সঙ্গে ইসলামি সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ সংশ্লিষ্ট শব্দ জুড়ে দেওয়ার প্রবণতা শুরু হয়েছে।

টঙ্গী দারুল উলুম মাদরাসার প্রিন্সিপাল মুফতি মাসউদুল করীম চলচ্চিত্র পরিপালকদের এই প্রবণতাকে ভয়ঙ্কর বলে অভিহিত করেন। তিনি মনে করেন, আর্থিক লাভ, বিতর্ক সৃষ্টি করে প্রচার পাওয়া ও সুচিন্তিতভাবে ইসলাম ও মুসলমানকে অপমাণিত করার জন্য তারা এসব করছেন। জাগতিক স্বার্থে অন্যের ধর্মানুভূতি আঘাত করা কোনো সভ্য মানুষের কাজ হতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দটি মুসলিম সংস্কৃতির অংশ। এটাকে অশ্লীল প্রেমের চলচ্চিত্রে ব্যবহার করা মোটেও উচিৎ হবে না। আমি মনে করি, ইসলাম নিষিদ্ধ একটি বিষয়ে মহান আল্লাহর নামযুক্ত কোনো শব্দ ব্যবহার করা তার নামের প্রতি অবমাননার শামিল। এটা মহান আল্লাহর শান (মর্যাদা) বিরোধী। তার নামের প্রতি অবিচার। ‘আল্লাহ’ নামে আল্লাহর প্রার্থনা শুধু মুসলিমরাই করে। সুতরাং তা মুসলিমদের উপর আঘাত।

মুফতি মাসউদুল করীম বলেন, ভারতের বিবাদমান সমাজে এই চলচ্চিত্র নতুন করে সংঘাত তৈরি করতে পারে। প্রতিবেশী দেশেও তার রেশ পরতে পারে। তাই এখনই এই চলচ্চিত্রের নাম পরিবর্তনের দাবি উঠানো দরকার।

যদি বলা হয়, ইনশাআল্লাহ একটি সামাজিক শব্দে পরিণত হয়েছে এবং অনেক অমুসলিমও দৈনন্দিন জীবনে তা ব্যবহার করেন। সে হিসেবে ‘ইনশাআল্লাহ’কে ধর্মনিরপেক্ষ জায়গায় থেকে দেখার সুযোগ আছে কী না? উত্তরে তিনি বলেন, না, সে সুযোগটা নেই। কারণ, আল্লাহ শব্দটিকে ধর্মনিরপেক্ষ জায়গা থেকে দেখার সুযোগ নেই। আর একজন অমুসলিম আল্লাহর নাম নিলে বাধা দেওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু আল্লাহ শব্দের অপব্যবহার ও অপমানের সুযোগ তো কাউকে দেওয়া যায় না।

পূর্ববর্তি সংবাদমুসলিমবিদ্বেষী সেই বৌদ্ধ-রাখাইন নেতার ২০ বছরের জেল 
পরবর্তি সংবাদনেত্রকোনায় ছাত্রী হোস্টেলে উত্যক্তকারী বখাটে আটক