আবরার আবদুল্লাহ ।।
দ্য বেলজিয়ান ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (ভিএসএসই) এক রিপোর্টে বলেছে, পশ্চিম ইউরোপের উগ্র ডানপন্থীদের ভেতর নেতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কোনো কোনো ডানপন্থী নেতা তাদের অনুসারীদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ গ্রহণের আহবান জানিয়েছে। সেটা বৈধ ও অবৈধ উভয় পদ্ধতিতেই হতে পারে। গোয়েন্দা সংস্থাটি তাদের ২০১৮ সালের রিপোর্টের আলোকে এই মন্তব্য করেছে।
ভিএসএসই-এর পর্যবেক্ষণ হলো, পশ্চিম ইউরোপের অন্যান্য দেশের মতো বেলজিয়ামেও উগ্র ডানপন্থীরা পুরোপুরি সক্রিয়। ইউরোপের রাজনৈতিক আবহে পরিবর্তন এসেছে। পূর্বের নাৎসিবাদের মতো অতি উগ্র ডানপন্থার সৃষ্টি হচ্ছে সেখানে।
দশ বছর আগেও অতি ডানপন্থী শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদীরা প্যারিসের কোনো হলে কনসার্ট করলে একশো মানুষ হয়তো উপস্থিত হতো, অথচ তাদের উত্তরসূরীরাই এখন ইউরোপীয় রাজনীতির সামনের কাতারে চলে এসেছে।
কনসার্ট বা অন্যান্য সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের বিষয়টি উদাহরণ হিসেবেই বলা হয়েছে। তবে ভয়ের কথা হলো, তারা নাৎসিবাদের পুনর্জাগরণের প্রত্যাশার কথা গোপন করে না। যা একটি সাংস্কৃতি নৈরাজ্যকে উৎসাহিত করে। কখনও কখনও তারা অন্যান্য ক্ষেত্রে শৃংখলা ভঙ্গের ডাক দিয়ে থাকে।
ভিএসএসই বলছে ইউরোপের শরণার্থী সংকট (২০১৫-২০১৬), মুসলিম বিদ্বেষ ও শরণার্থী বিরোধী কার্যক্রম উগ্র ডানপন্থীদের উত্থানে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে কাজ করেছে। গত দশ বছরে এর সঙ্গে জাতীয়তাবাদের সংমিশ্রণে তাকে চরমপন্থার প্রতি ঠেলে দিয়েছে।
এসব সংগঠন একটি রক্ষণশীল পৃথিবী গড়ে তুলতে চায়। তারা চায় ইউরোপের খ্রিস্টীয় চরিত্র প্রতিষ্ঠিত হোক। অনেক ক্ষেত্রে তারা সাফল্যও পাচ্ছে।
ভিএসএসই বলছে, উগ্র ডানপন্থী শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদীদের একটি অংশ সহিংস ও সশস্ত্র আন্দোলনে বিশ্বাস করে না। যদিও তারা উগ্রবাদী ও অন্যের উপর শ্রেষ্ঠত্বে বিশ্বাসী। তবে একটি অংশ তাদের অনুসারীদের অস্ত্র প্রশিক্ষন নিতে বলেছে। এর পেছনে তারা যুক্তি হিসেবে উল্লেখ করে যে, মুসলিম বিশ্ব ও খ্রিস্টান ইউরোপের সঙ্গে সংঘাত আসন্ন। সুতরাং তাদের এখনই প্রস্তুত হতে হবে।
ভিএসএসই আরও বলেছে, ইন্টারনেট ও সামাজিক মাধ্যম বৈষম্য বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। তাহলো, অপপ্রচার ও নিজেদেরকে বঞ্চিত হিসেবে উপস্থাপন করা।
সূত্র : আনাদুলু এজেন্সি
















