আবরার আবদুল্লাহ ।।
আগামী ২৮-৩০ মার্চ বরিশাল শহরে ৩ দিনব্যাপী ইজতেমা করবে সাদপন্থীরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ইজতেমা করার অনুমতি পেয়েছে তারা। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ বলছে, তিন শর্তে সাদপন্থীদের এই ইজতেমার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তাহলো, মাওলানা সাদের মতবাদ প্রচার কিংবা উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়া যাবে না, এইচএসসি পরীক্ষা আসন্ন হওয়ায় মাইকের শব্দ নিয়ন্ত্রিত রাখতে হবে এবং আয়োজকদের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে।
গণমাধ্যমে প্রকাশ বরিশালের স্থানীয় আলেমরাও শর্ত সাপেক্ষে সাদপন্থীদের ইজতেমা করার বিষয়টি মেনে নিয়েছেন। জামিয়া ইসলামিয়া মাহমুদিয়া, বরিশালের প্রিন্সিপাল ও জেলা হেফাজতের আমির হাফেজ মাওলানা ওবায়দুর রহমান মাহবুবকে উদ্ধৃত করে উলামাদের অনাপত্তির বিষয়টি দাবি করা হয়।
এই ব্যাপারে যোগাযোগ করলে শর্ত সাপেক্ষে সাদপন্থীদের ইজতেমা হওয়ার বিষয়ে উলামায়ে কেরাম সম্মত হয়েছেন বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
তবে গণমাধ্যমে প্রকাশিত শর্তগুলো ছাড়া আরও শর্ত রয়েছে বলে তিনি জানান। মাওলানা মাহবুব বলেন, মাইক বাজানো ও শৃঙ্খলার শর্ত প্রশাসনের। আমাদের পৃথক ৩টি শর্ত রয়েছে। তাহলো, এক. মাওলানা সাদ ও তার আনুগত্যের ব্যাপারে কোনো কথা বলা যাবে না। এই ব্যাপারে কাউকে উদ্বুদ্ধ করা যাবে না।
দুই. নিজামুদ্দিনের আনুগত্যের ব্যাপারে কাউকে উদ্বুদ্ধ করা যাবে না এবং সেখানে যেতেও উৎসাহিত করা যাবে না।
তিন. মাওলানা সাদের যেসব বিভ্রান্তিকর বক্তব্য রয়েছে তা উদ্ধৃত করা যাবে না।
পুরো বিষয়টি তুলে ধরে মাওলানা ওবায়দুর রহমান মাহবুব বলেন, বরিশালের উলামায়ে কেরাম প্রথম থেকেই এই ইজতেমার বিরোধিতা করে আসছিলেন। কিন্তু প্রশাসন বারবার বলছিলো, আপস-মিমাংসা করে নিতে । আমরা বলেছিলাম, দ্বীনের ব্যাপারে আপস করার সুযোগ কোথায়? তখন প্রশাসন বললো, আপনাদের আপত্তির জায়গাগুলো বলেন। আমরা আপত্তির বিষয়গুলো বললে তারা আমাদের বলে এসব বিষয়ে কোনো আলোচনা হবে না। তবুও আমরা চাই না কোনো সংঘাতের পরিবেশ হোক। আপনারা দয়া করে বিষয়টা মেনে নিন। আমরা তখন বললাম, মৌখিক শর্ত দিলে হবে না। লিখিত শর্ত দিতে হবে। অতপর গত বৃহস্পতিবার রাতে বিএমপির উপকমিশনার (দক্ষিণ) মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঁইয়ার উপস্থিতিতে তার কার্যালয়ে দু’পক্ষের সভা হয়। সভায় সাদপন্থীরা আমাদের এসব শর্ত লিখিতভাবে মেনে নেয়।
তিনি আরও জানান, প্রশাসনের অনুরোধ ও সংঘাত এড়ানোর জন্যই উলামায়ে কেরাম উল্লিখিত শর্ত সাপেক্ষে ইজতেমা করতে দিতে সম্মত হয়েছে।
মাওলানা ওবায়দুর রহমান মাহবুবকে প্রশ্ন করেছিলাম, সাদপন্থীরা কী শর্ত মানবে? উত্তরে তিনি বলেন, একই প্রশ্ন আমরা প্রশাসনের কাছে করেছিলাম। তারা আমাদের বলেছেন, ইজতেমার স্থানে আমাদের র্যাব-পুলিশ-ডিবিসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য থাকবে এই ধরনের কোনো আলোচনা হলে সাথে সাথে ইজতেমা বন্ধ করে দেওয়া হবে। তারা এটাও বলেছেন যে, আমাদের পক্ষ থেকে তথ্য-প্রমাণসহ এমন কোনো অভিযোগ প্রশাসনকে জানালেও তারা ইজতেমা বন্ধ করে দেবেন।
















