প্রো-ভিসির ড্রাইভারের জামাতাকে অপহরণ করে শিকল দিয়ে মেরেছে ছাত্রলীগ কর্মীরা!

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসির (উপ-উপাচার্য) গাড়িচালকের জামাতাকে অপহরণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মীর বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে লোহার শিকল দিয়ে বেধড়ক মারধর করে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে ওই ছাত্রলীগ কর্মীরা।

শনিবার ভোরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় তিনজনকে হাতেনাতে আটক করা গেলেও বাকি দুজন পালিয়েছে। তবে ৫ জনের বিরুদ্ধেই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর।

অভিযুক্ত ও আটকরা হলেন- সঞ্জয় ঘোষ (নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ-৪৪ ব্যাচ বা ২০১৪-১৫ সেশন), মো. আল রাজি সরকার (সরকার ও রাজনীতি বিভাগ-৪৫) ও রায়হান পাটোয়ারি (ভূ-তাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগ-৪৫)। এরা সবাই শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানার অনুসারী।

পালাতক দুজন হলেন- শাহ মোস্তাক সৈকত (কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ-৪৫) ও মোকাররম শিবলু (দর্শন-৪৫)।

এর আগে গত বছর অক্টোবর মাসে ছিনতাইয়ের অভিযোগে রায়হান পাটোয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২ বছরের জন্য বহিষ্কার হন। আর সঞ্জয়ের বিরুদ্ধে রয়েছে মাদক ব্যবসার গুরুতর অভিযোগ। এ ছাড়া অভিযুক্ত সবাই মাদক গ্রহণ করে বলে তাদের ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছে।

ছিনতাই ও মারধরের শিকার মনির হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য মো. নুরুল আলমের গাড়িচালক আলমগীর হোসেনের জামাতা।

আহত মনির হোসেন বলেন, ‘শনিবার ভোরে আমি ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশে শ্বশুরের বাসা থেকে বের হই। পথিমধ্যে বিশমাইলের ঢাল থেকে কয়েকজন যুবক আমাকে ইজিবাইকে তুলে বোটানিক্যাল গার্ডেনে নিয়ে আসে। তারা আমার কাছে থাকা মোবাইল, মানিব্যাগ যা ছিল সবই নিয়ে নেয়। পরে আমার কাছে আরও এক লাখ টাকা দাবি করে। তারা আমার পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে আমাকে মাদস ব্যবসায়ী সাজানোর হুমকি দেয়। তারা আমার পরিবারের কাছে ফোনে টাকা পাঠাতে বলে। এ সময় তারা আমাকে লোহার শিকল দিয়ে ব্যাপক মারপিট করে। এরপর আমি পরিবারকে ফোন দিয়ে আমার অবস্থা জানাই।’

পরে মনিরের পরিবারের লোকজন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীরা মিলে ইজিবাইকচালকের সহযোগিতায় ছিনতাইকারীদের আটক করে।

আটককৃতদের নিরাপত্তা শাখায় হস্তান্তর করা হলে মুচলেকা নিয়ে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানা যুগান্তরকে বলেন, ‘কারো ব্যক্তিগত কাজের দায়ভার সংগঠন নেবে না। তবে যেহেতু তারা আমাদের সংগঠনের কর্মী তাই তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান যুগান্তরকে বলেন, ‘ভুক্তভোগী ব্যক্তি মামলা না করায় আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব। অভিযুক্ত পাঁচজনের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। রোববার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির সভা আহ্বান করা হয়েছে। সেখানে তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হবে।’

পূর্ববর্তি সংবাদপুলিশের বিরুদ্ধে ছিনতাই মামলা
পরবর্তি সংবাদইতিহাসের প্রাচীনতম আবাসিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল