ইসলাম টাইমস ডেস্ক : আর ক’দিন বাদেই ভারতের জাতীয় নির্বাচন। নির্বাচন কেন্দ্র করে তৎপর ভারতের রাজনীতিকরা। আবার পছন্দের দল ও প্রার্থীর জন্য নিজ নিজ অবস্থান থেকে লড়াই করছেন সামাজিক ও ধর্মীয় নেতারা। তবে অন্যবারের তুলনায় নীরব মুসলিম সংগঠন ও তার নেতারা। কিন্তু কেন? বিবিসি বাংলা তার এক প্রতিবেদনে এর কারণ ব্যাখ্যা করেছে।
প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী বিজেপির মুসলিম বিদ্বেষী রাষ্ট্রপরিচালনা নীতি মুসলিমদের করণীয় ঠিক করে দিয়েছে। তাই মুসলিম নেতাদের বলে দেওয়ার দরকার হচ্ছে না ভারতীয় মুসলিমদের কাকে ভোট দেওয়া উচিত।
ভারতের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিজেপির শাসন আমলে ভারতের মুসলিমরা যেভাবে নিগৃহিত হয়েছে এবং রাষ্ট্রযন্ত্র যেভাবে মুসলিম সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে তাতে বিজেপি সরকারই মুসলিম ভোটারদের করণীয় ঠিক করে দিয়েছে।
তাদের ধারণা, এবার মুসলিমরা তাদের নেতাদের বক্তব্যের অপেক্ষা না করেই বিজেপি বিরোধী প্রার্থীর সম্ভাবনা যাচাই করবে। বিজেপি বিরোধী যে প্রার্থীর সম্ভাবনা যতো বেশি তাকেই মুসলিমরা বেছে নেবেন।
দিল্লির সিনিয়র সাংবাদিক স্মিতা গুপ্তা বলেন, `বিজেপি যবে থেকে দেশে শক্তিশালী হয়েছে তখন থেকেই মুসলিমরা কিন্তু সচরাচর দেখেন, বিজেপির বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী কোন্ দলের। এই মুহূর্তে যেমন আমি পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে সফর করছি, এখানেও যেমন মুসলিমরা দেখছেন বিজেপিকে হারানোর ক্ষমতা কোন্ কেন্দ্রে কার বেশি -কোথাও সেটা সমাজবাদী-বসপা জোট, কোথাও আবার কংগ্রেস।’
ভারতের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, একুশ শতকের ভারতে মুসলিম ভোটাররাও এখন যথারীতি অনেক পরিণত। তাই তারাই ঠিক করবে তার এলাকায় কোন প্রার্থীর দ্বারা মুসলিম স্বার্থ রক্ষা পাবে।
ভারতীয় মুসলিম মহিলা আন্দোলনে’র নেত্রী সাফিয়া নিয়াজ বিষয়টিকে এভাবে তুলে ধরেন, ‘কথা হলো, ভারতে মুসলিমদের সামনে এখন অপশনটাই বা কী? নিশ্চয় এমন একটা সাম্প্রদায়িক দলকে তারা বেছে নেবে না যারা প্রকাশ্যে তাদের আক্রমণ করছে? কিন্তু কংগ্রেস বা অন্য তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলোই বা মুসলিমদের উন্নয়নে কী করেছে? কাজেই কম খারাপটা বেছে নেওয়াই বোধহয় একমাত্র রাস্তা।
















