যেভাবে আগাচ্ছে পঞ্চগড়ের খতমে নবুওয়াত মহাসম্মেলনের প্রস্তুতি

আবরার আবদুল্লাহ ।।

পঞ্চগড়ে আগামী ১৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য খতমে নবুওয়াত মহাসম্মেলনের কাজ এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে সম্মেলনের প্রায় পঞ্চাশভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় উলামায়ে কেরাম। তারা বলছেন, ঐতিহাসিক এই মহাসম্মেলন পঞ্চগড়বাসীর মাঝে বিপুল সাড়া ফেলেছে এবং তারা মহাসম্মেলনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

আজ পঞ্চগড়ের খতমে নবুওয়াত মহাসম্মেলনের প্রস্তুতি বিষয়ে জানতে চাইলে আবু তাহমিদা বলেন, আলহামদুলিল্লাহ! মহাসম্মেলনের প্রস্তুতি যথারীতি এগিয়ে চলেছে। প্রস্তুতির কাজে স্থানীয় উলামায়ে কেরামের নেতৃত্বে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করছেন। প্রশাসনও তাদের জায়গা থেকে সহযোগিতা করছে। সমাজের সাধারণ মানুষ নিজ দায়িত্ব মনে করে মহাসম্মেলনের প্রচার-প্রসারের কাজ করছে।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে মাঠের অর্ধেক কাজ শেষ হয়েছে। প্রশাসনের কক্ষ থেকে আমাদেরকে স্বেচ্ছাসেবকদের তালিকা দিতে বলা হয়েছে। তাদেরকে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ ও নির্দেশনা দেবেন বলে তারা জানিয়েছেন। আমরা তাদের কাছে স্বেচ্ছাসেবকদের তালিকা প্রদান করেছি।

স্থানীয় উলামায়ে কেরাম এই কাজের নেতৃত্ব দিলেও ঢাকার উলামায়ে কেরামের সঙ্গে তাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় উলামায়ে কেরাম।

পঞ্চগড়ের খতমে নবুওয়াত মহাসম্মেলনের সার্বিক খোঁজ-খবর রাখছেন খতমে নবুওয়াত মারকাজের পরিচালক মুফতি শোয়াইব ইবরাহিম। তিনি স্থানীয় উলামায়ে কেরামের এই উদ্যোগের প্রসংশা করে বলেন, পঞ্চগড় বাংলাদেশে কাদিয়ানি প্রভাবিত একটি এলাকা। এখানে তারা দীর্ঘদিন পরিকল্পিতভাবে কাজ করে আসছে। বহু মানুষ তাদের ধোঁকায় ঈমানহারা হয়েছে। এর বিপরীতে ‘আমরা ঢাকাবাসী’ এক সময় কিছু কাজ করেছিলো। আমার জানা মতে, খতমে নবুওয়াত বিষয়ক অন্য কোনো সংগঠনের উল্লেখযোগ্য কোনো কার্যক্রম নেই সেখানে। এরপরও স্থানীয় উলামায়ে কেরাম যে একটি মহাসম্মেলনের উদ্যোগ নিয়েছেন সেটাই প্রসংশনীয়। স্থানীয় আলেমরা সম্মিলিত খতমে নবুওয়াত সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে সম্মেলনের আয়োজন করছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ছাড়াই পঞ্চগড়ের উলামায়ে কেরাম ও স্থানীয় মুসলমান যেভাবে কথিত কাদিয়ানি ইজতেমার বিরুদ্ধে একটি সফল আন্দোলন করে তুলেছিলো তা প্রসংশার দাবিদার।’

সম্মেলনের প্রস্তুতি ও ভবিষ্যত প্রভাব সম্পর্কে মুফতি শোয়াই ইবরাহিম বলেন, ‘আমার সঙ্গে তাদের যতোটুকু যোগাযোগ তাতে বুঝতে পারছি যে, সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আলেমরা মহাসম্মেলনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। বিশেষত জনপ্রতিনিধিদেরকে সম্মেলনের কাজে সম্পৃক্ত করেছে –এটা একটি ইতিবাচক দিক। জেলার প্রায় প্রতিটি মসজিদে মহাসম্মেলন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ হচ্ছে। একইভাবে পঞ্চগড়ের আলেমদের একটি প্রতিনিধি দল জাতীয় পর্যায়ের বিশিষ্ট আলেমদের কাছে যাচ্ছেন। এখনও তাদের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় রয়েছেন। তারা খতমে নবুওয়াত আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত উল্লেখযোগ্য সংগঠনগুলোকে মহাসম্মেলনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং সংগঠন প্রধান ও মুরব্বিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছেন। সেই হিসেবে আমার সাথেও তাদের যোগাযোগ হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমার ধারণা, এই সম্মেলনে স্থানীয় জনগণের উপর বিপুল প্রভাব পড়বে। প্রশাসনও কাদিয়ানিদের আসল রূপ জানতে পারবে। স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক সচেতনতা তৈরিতে সম্মেলন বিশেষ ভূমিকা পালন করবে।’

মুফতি শোয়াইব ইবরাহিম সাধারণভাবে উলামায়ে কেরাম ও সাধারণ মানুষকে খতমে নবুওয়াত মহাসম্মেলন সফল করার আহবান জানান।

পূর্ববর্তি সংবাদসামান্য বৃষ্টিতেই ঢাকায় প্রচণ্ড জলাবদ্ধতা
পরবর্তি সংবাদআরেক দফায় বাড়ল হজ্ব নিবন্ধনের সময়