ঋণ প্রদাণের হার কমেছে তবুও ব্যাংকে দেখা দিয়েছে তারল্য সংকট

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসের ব্যবধানে ব্যাংক খাতের অতিরিক্ত তারল্য কমেছে ৬হাজার কোটি টাকারও ওপরে। এতে বাড়ছে আন্তঃব্যাংক মুদ্রা বাজারে সুদের হার। যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হারে পৌঁছেছে। অথচ বেসরকারি খাতে ঋণ দেওয়ার হার (ঋণ প্রবৃদ্ধি) কমিয়ে দিয়েছে ব্যাংক। গত ফেব্রুয়ারিতে ঋণ প্রবৃদ্ধির হার ছিল ১২.৫৪ শতাংশ। গত কয়েক বছরের মধ্যে ঋণ প্রবৃদ্ধি এত কমতে দেখা যায়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোতে নগদ টাকার সংকট বেড়ে যাওয়ায় গত ৩ এপ্রিলে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজার থেকে ১০.৫০ শতাংশ সুদে টাকা ধার নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত পাঁচ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এর আগে সর্বশেষ ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে সর্বোচ্চ সুদহার উঠেছিল ৯.৭৫ শতাংশ।

এ প্রসঙ্গে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে  বলেন, ‘২০১৮ সালের পুরোটা সময় ধরেই তারল্য সংকট ছিল। এ বছরও বিনিয়োগযোগ্য তারল্যের অভাবে অনেক ব্যাংক চাহিদামতো ঋণ বিতরণ করতে পারেনি। এ কারণে ফেব্রুয়ারিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২.৫৪ শতাংশ।

এর আগে ২০১৩ সালের শুরুতে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ঋণ প্রবাহে ভাটা পড়ে। যা পরের বছরেও প্রলম্বিত হওয়ায় ঋণ প্রবাহে মন্দাভাব দেখা দেয়। ২০১৪ সাল জুড়ে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি কমে ১৩ শতাংশে নেমে আসে। কিন্তু ২০১৫ সাল থেকে রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর হয়। ঋণের প্রবৃদ্ধিও বাড়তে থাকে। ব্যাংকগুলো আগ্রাসীভাবে ঋণ বিতরণ করতে থাকে। ২০১৮ সালের শুরুতে এই প্রবৃদ্ধি ১৯ শতাংশে পৌঁছায়। গত ফেব্রুয়ারিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২.৫৪ শতাংশ।

এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘ব্যাংক খাতে এখন তারল্য সংকট রয়েছে। এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের টার্গেট অনুযায়ী বেসরকারি খাতে ঋণ যাচ্ছে না।’

কয়েক বছর ধরে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিরাজ করলেও বিনিয়োগ পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী জুন পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা ১৬.৫০ শতাংশ নির্ধারণ করলেও এটি ১৩ শতাংশেরও নিচে নেমে এসেছে।

জানা গেছে, ব্যাংকগুলো একদিকে আগের মত আমানত সংগ্রহ করতে পারছে না অনেক ব্যাংক। অন্যদিকে আসন্ন রমজান উপলক্ষে পণ্য আমদানিতে নিয়মিত ডলার কিনতে হচ্ছে ব্যাংকগুলোকে। ফলে ব্যাংকগুলোর হাতে থাকা নগদ টাকা ক্রমেই কমে যাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে মোট আমানত ছিল ১০ লাখ ১৪ হাজার ৬০৯ কোটি টাকা। একই সময়ে সরকারি-বেসরকারি খাতে মোট ১০ লাখ ৮৭ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো। এর মধ্যে বেসরকারি খাতে ব্যাংকঋণ ছিল ৯ লাখ ৭০ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকা।

 

 

পূর্ববর্তি সংবাদবরগুনায় আবারও ধসে পড়লো স্কুলের ছাদ
পরবর্তি সংবাদনরসিংদীতে একই পরিবারের ৪জন অগ্নিদগ্ধ