শ্রীলঙ্কা হামলা: একদিন পর সন্দেহে ন্যাশনাল তাওহিদ জামাত!

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: ইস্টার সানডেতে শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় নিশ্চিতভাবে কোনো গ্রুপকে চিহ্নিত করার খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী  ‘আন্তর্জাতিক সংশ্লিষ্টতা’র কথা বললেও একদিন পর সন্দেহের তীর তাক করা হয়েছে দেশটির ‘ইসলামি উগ্রবাদী’ সংগঠন ন্যাশনাল তাওহিদ জামাত (এনটিজে)-এর দিকে। স্পষ্ট প্রমাণের সূূত্রে নয়, ধারণা ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে অপরাধী চিহ্নায়নের কাজশুরু হয়েছে ।  এভাবেই মর্মান্তিক এ হামলার ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৪ জনকে আটক করার খবরও পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে এসব খবর জানা গেছে ।

রবিবারের এই হামলায় ২৯০ জন নিহত ও পাঁচ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। শ্রীলঙ্কার কর্মকর্তারা সোমবার দাবি করেছেন, এনটিজে’র সদস্যরা তিনটি গির্জা ও তিনটি হোটেলে আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছে। অপরদিকে কোনো কোনো নিরাপত্তা বিশ্লেষক ধারণা প্রকাশ করেছেন, এনটিজে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর লঙ্কান শাখা।

অবশ্য নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এশিয়ার একজন সিনিয়র সন্ত্রাসদমন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, হামলাটি চালাতে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা ও দক্ষ কমান্ডার প্রয়োজন হয়েছে। যা শ্রীলঙ্কার ওই সংগঠনের থাকার কথা না।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মিরর’র অনলাইন সংস্করণের এক খবরে বলা হয়েছে, আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীদের সবাই শ্রীলঙ্কার নাগরিক। সরকারের দাবি, হামলার অন্তত ১০ দিন আগেই সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল।

শ্রীলঙ্কার পুলিশ হামলায় ন্যাশনাল তাওহিদ জামাতের সংশ্লিষ্টতাকে কেন্দ্রে রেখে তদন্ত শুরু করেছে। আর দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার মুখপাত্র রজিথা সেনারত্ন আশঙ্কা করেছেন, সিরিজ বিস্ফোরণের ঘটনায় আন্তর্জাতিক যোগসূত্র থাকতে পারে। দেশটির প্রেসিডেন্ট মৈত্রিপালা সিরিসেনার কার্যালয়ও জানিয়েছে, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে লঙ্কান জঙ্গিদের প্রতি বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের সমর্থন ও সহযোগিতার ইঙ্গিত রয়েছে। পরে তিনি হামলাটির নেপথ্যে স্থানীয় ‘ইসলামি উগ্রবাদী গোষ্ঠী’ ন্যাশনাল তৌহিদ জামাত রয়েছে বলে জানিয়েছেন। তবে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সংগঠনটি বা কারও পক্ষ থেকে হামলার দায় স্বীকার করা হয়নি।

সোমবার রাতে রাশিয়ান সংবাদ সংস্থা ‘তাশ’ মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক আলআরাবিয়া টিভির একটি টুইটের সূত্র দিয়ে জানিয়েছে, শ্রীলঙ্কা ভিত্তিক তৌহিদ জামাতের একটি অঙ্গ সংগঠন হামলার দায় স্বীকার করেছে। যদিও ওই সংগঠনটি কোথায় কীভাবে দায় স্বীকার করেছে, তার বিস্তারিত কোনো তথ্য কোনো গণমাধ্যমই বলছে না।

সন্দেহ করা হচ্ছে, শ্রীলঙ্কা তাওহিদ জামাত (এসএলটিজে) থেকে বিভক্ত হওয়া একটি উগ্র ইসলামি গোষ্ঠী হলো ন্যাশনাল তাওহিদ জামাত। সন্দেহকারীরা দাবি করছেন, রবিবারের হামলার আগে থেকেই এনটিজের বিরুদ্ধে ইসলামি উগ্রবাদী মতাদর্শ প্রচার ও বৌদ্ধ মূর্তি ভাঙচুরের অভিযোগ ছিল। ২০১৬ সালে সংগঠনটির সেক্রেটারি আব্দুল রাজিককে সাম্প্রদায়িক উসকানির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে তিনি ক্ষমাও চেয়েছিলেন।

এদিকে এক নিরাপত্তা বিশ্লেষক দাবি করেছেন, এনটিজে শ্রীলঙ্কার আইএস শাখা। হামলাকারী শ্রীলঙ্কান নাগরিকরা মধ্যপ্রাচ্যের সিরিয়া ও ইরাকে আইএসে যোগ দিয়েছিল। সিঙ্গাপুরভিত্তিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক রোহান গুনারত্নে জানান, আইএস সমর্থকরা অনলাইনে হামলার ঘটনায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে।

হামলার নিখুঁত ব্যবস্থাপনার কথা তুলে ধরে সন্ত্রাসদমন বিশেষজ্ঞ আলটো লাবেটুবুন ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, আইএস ও আল-কায়েদা এমন হামলা চালিয়ে থাকে। তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কায় এমন সমন্বিত হামলার ঘটনা অস্বাভাবিক। মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এমন হামলার ঘটনা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় শুধু আইএস ও আল-কায়েদা এর নেপথ্যে রয়েছে।

 

পূর্ববর্তি সংবাদসাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহর মৃত্যুর খবরকে গুজব বললেন তার মেয়ে
পরবর্তি সংবাদআজ দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী