এনাম হাসান জুনাইদ।।
“গতকাল স্বপ্ন দেখি, আমি একটি ভবনের ছাদের উপর দাঁড়িয়ে আছি। দেখতে পাচ্ছি অনেক দূরে একটি ভবন ধসে পড়েছে। ফোনে কেউ একজন বললেন, সেই ভবনের ভিতরে অনেক আলেম ছিলেন।… আমি দেখলাম, অনেক টুপি দাড়ি রুমালে সুশোভিত অনেক আলেম তাদেরকে উদ্ধারের জন্য সে দিকে যাচ্ছেন।
“ স্বপ্নের ব্যাখ্যা আমি জানি না। তবে এ কথা নিশ্চয় করে বলতে পারি, সোশ্যাল মিডিয়া জগতে বেলাল খান তেমনি এক ভবন, যার একার মাধ্যমে আল্লাহ অনেক আলেমের কাজ নিচ্ছেন। তার মৃত্যুতে আজ সেই ইমারত ধসে পড়ল।”
এভাবেই পাকিস্তানে আততায়ীদের হাতে নিহত তরুণ ব্লগার বেলাল খান এর উপর লেখা আবেগময় একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন পাকিস্তানের আরেক উদীয়মান তরুণ প্রতিভাবান আলেম মুফতি সৈয়দ আদনান কাকাখাইল।
পাকিস্তানের জনপ্রিয় তরুণ ব্লগার মোহাম্মদ বেলাল খান, যার ফলোয়ারের সংখ্যা টুইটারে ১৬০০০ এবং ইউটিউবে ৪৮০০০, রবিবার রাতে আততায়ীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শহীদ হয়েছেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রোববার রাতে অপরিচিত নম্বর থেকে তাকে জি নাইন এলাকায় যেতে বলা হয়। সেখানে দুর্বৃত্তরা তাকে ধরে জঙ্গলে নিয়ে যায়। এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে হত্যা করে। সেখানে গুলির আওয়াজ শোনা গেছে বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দাদের সমালোচনার কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে বলা হয়েছে। জানা যায়, হত্যার কয়েক ঘন্টা আগেই তিনি পাকিস্তানের নবনিযুক্ত গোয়েন্দা লে. জে. ফয়েজ হামিদীর কঠোর সমালোচনা করেছিলেন।
হত্যাকাণ্ড নিয়ে বেলালের বাবা আব্দুল্লাহ বলছেন, তার ছেলের সাথে ব্যক্তিগতভাবে কারো শত্রুতা ছিল না। তার ছেলে সব সময় ইসলামের পক্ষে কাজ করেছে। ইসলাম ও মুসলমানদের পক্ষে কথা বলেছে।
‘ আমার ছেলের একটাই অপরাধ। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাহাবাদের পক্ষে সে কথা বলতো,’ বলেন বিলালের বাবা। ‘ আমি আমার ছেলেকে নিয়ে গর্বিত,’ যোগ করেন আব্দুল্লাহ।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বদর ও উহুদ নিয়ে বিতর্কিত একটি ভিডিও বক্তব্য পাকিস্তানে বেশ হৈচৈ সৃষ্টি করে। সাহাবাদের শানে প্রধানমন্ত্রীর বেআদবীমূলক বক্তব্য সাধারণ মানুষের হৃদয়কে ক্ষতবিক্ষত করে।
পাকিস্তানের যে সব দল (শিয়া) প্রকাশ্য সভা-সমাবেশে ও সোশ্যাল মিডিয়ায় সাহাবাদের গালিগালাজ করে, পাকিস্তানের নিরাপত্তার স্বার্থে তাদেরকে প্রকাশ্যে সাহাবাদের উদ্দেশ্যে গালিগালাজ না করার আহ্বান জানিয়ে সম্প্রতি একটি ভিডিও বক্তব্য দেন মোহাম্মদ বেলাল খান। বলা হয়, এটাই তার শেষ বক্তব্য।
কিছুদিন আগে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে পাকিস্তানের প্রসিদ্ধ আলেম মাওলানা সামিউল হককে। তারপর মাওলানা তাকি উসমানীর উপর হামলা ঘটনা ঘটেছে, যাতে তার সফরসঙ্গী তিনজন শহীদ হয়েছেন। সম্প্রতি ইসলামের পক্ষে কথা বলা এক জনপ্রিয় তরুণ ইসলামী অ্যাকটিভিস্ট মুহাম্মদ বেলাল খানকে একই কায়দায় হত্যা করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্নজন এই হত্যাকাণ্ডগুলোকে একই সূত্রে গাাঁথা এবং একই শ্রেণীর লোক এ ঘটনাগুলো ঘটিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন।
বেলাল খানের হত্যাকান্ডে পাকিস্তানের বিশিষ্ট আলেম মাওলানা যাহেদ রাশেদী, মাওলানা আদনান কাকাখাইলসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনগুলো নিন্দা জানিয়েছেন।
পাকিস্তানের মানবাধিকার মন্ত্রী শিরীন মাজার হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বলেন, সরকারকে অবশ্যই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করতে হবে।
তিনি বলেন ‘আমি এই হত্যাকান্ডের কঠোরভাবে নিন্দা জানাচ্ছি। কারো সাথে মতবিরোধ কখনোই তাকে হত্যা করার কারণ হতে পারে না। সরকারকে অবশ্যই বিষয়টি তদন্ত করে অপরাধীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
















