ধর্মীয় শিক্ষার অভাব: বাড়তে পারে রোহিঙ্গাদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: মিয়ানমার সেনাসন্ত্রাসীদের হামলার মুখে মানসিকভাবে দুর্বল, বিচ্ছিন্ন এবং ক্ষুব্ধ বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। তারা সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে খুবই ধর্মপরায়ণ। ফলে তারা অনেকটা নীরিহ ও মার্জিত। কিন্তু তাদের মাঝে ‍এই ধর্মপরায়নতা ধরে রাখার পর্যাপ্ত শিক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় তারা ধীরে ধীরে বিপথে যাচ্ছে। এমনটাই মনে করছেন পর্যবেক্ষকগণ।

নরওয়ের ইউনিভার্সিটি অব অসলো’র উগ্রবাদ বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মুবাশ্বের হাসান বলেন, সরকারের পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা উচিত। রোহিঙ্গা শিশুরা মানসিকভাবে দুর্বল, বিচ্ছিন্ন এবং ক্ষুব্ধ। পাশাপাশি তারা সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে খুবই ধর্মপরায়ণ।

বাংলাদেশের স্কুলগুলোতে রোহিঙ্গা শিশুদের পড়ার অধিকার নেই। ফলে তারা শিক্ষা গ্রহণের জন্য ধাবিত হচ্ছে মাদ্রাসার দিকে। বাংলাদেশী স্কুলগুলো থেকে রোহিঙ্গা শিশুদের বের করে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সরকারের এমন নীতির সমালোচনা করেছে অধিকার বিষয়ক গ্রুপগুলো। অন্যদিকে দাতব্য সংস্থাগুলো ও জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ রোহিঙ্গা শিশুদের ১৮০০ অস্থায়ী স্থাপনায় শিক্ষা দিচ্ছে। সেখানে প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার শিশু পড়াশোনা করছে। কিন্তু কোথাও তাদের ধর্মীয় ও মানবিক শিক্ষা দেয়া হচ্ছে না। এর ফলে তাদের উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এই ফারাক পূরণ করতে গিয়ে রোহিঙ্গা গ্রুপগুলো এবং বাংলাদেশী ধর্মীয় গ্রুপগুলো এক হাজারের বেশি মাদ্রাসা স্থাপন করেছে। সেখানে মৌলিক আরবি শিক্ষা থেকে শুরু করে গ্রাজুয়েট স্তর পর্যন্ত ধর্মীয় শিক্ষার সবটাই দেয়া হচ্ছে।

মাদ্রাসায় পড়ে এমন এক রোহিঙ্গা শিশুর  পিতা মোহাম্মদ খালেক বলেন, পড়াশোনা নিয়ে আমার সন্তানের জন্য ব্যস্ত থাকা উত্তম। তা নাহলে সে ক্যাম্পের এদিক-ওদিক ঘোরাফিরা করবে। তাতে তার স্বভাব নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।

স্থানীয় একটি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক বলেছেন, আমরা জাতীয়তার ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে ব্যবধান করি না। বিশেষ করে যখন তাদের মধ্যে শিক্ষার দৃঢ় আগ্রহ থাকে এবং তারা আল্লাহর পথে থাকতে চায়। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

 

পূর্ববর্তি সংবাদতামাকমুক্ত দেশ গড়তে ধারাবাহিকভাবে বাড়ানো হচ্ছে সিগারেটের দাম
পরবর্তি সংবাদসিদ্ধিরগঞ্জে গার্মেন্টস কর্মকর্তার গায়ে থুথু ফেলায় অর্ধশতাধিক গাড়ি ভাঙচুর