ফরিদাবাদে আজকের বৈঠক: নির্ধারিত চার বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নিলেন হাইআর দায়িত্বশীলগণ

ইসলাম টাইমস প্রতিবেদন: গত বছরের দাওরা পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের তারীখ নির্ধারণ, প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পেশ, তাকমীলে পরীক্ষা দেওয়ার মান-পদ্ধতি ও চলতি বছরের পরীক্ষা বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ চার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বৈঠকে বসেছিলেন কওমি মাদরাসার সম্মিলিত শিক্ষাবোর্ড হাইআতুল উলয়ার দায়িত্বশীলগণ।

আজ শনিবার ২২ জুন রাজধানীর জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম ফরিদাবাদ মাদরাসায় বোর্ডের চেয়ারম্যান ও মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার পরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সভাপতিত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে উপস্থিত হাইআতুল উলয়ার সদস্য, ঢাকার আরজাবাদ মাদরাসার মোহতামিম মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া ইসলাম টাইমসকে বলেন, বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের তারীখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৩ জুন।

এদিকে হাইআতুল উলয়ার অপর সদস্য মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু বলেন, প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে দোষী সনাক্ত করে তদন্ত কমিটি বৈঠকে তাদের প্রতিবেদন পেশ করেছে। দোষীদের ব্যাপারে শিগগিরই আইনি প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হবে।

মাওলানা রাজু ইসলাম টাইমসকে আরো জানান, প্রশ্নফাঁস এড়ানো ও পরীক্ষা পদ্ধতিকে আরো যুগোপযোগী করা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। এ লক্ষ্যে সাত সদস্যের একটি সাব-কমিটিও গঠন করেছে বোর্ড। সাত সদস্যের নতুন এ কমিটি পারস্পরিক পর্যালোচনার মাধ্যমে হইয়াতুল উলইয়ার পরবর্তী বৈঠকে পরীক্ষা পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার সুপারিশ করবে। সাব কমিটির সুপালিশের ভিত্তিতে পরবর্তী বৈঠকে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে।

এদিকে তাকমীলে পরীক্ষা দিতে হলে দেশের পরিচিত ৬টি কওমি মাদরাসাভিত্তিক শিক্ষাবোর্ডের যে কোন একটি বোর্ড থেকে মেশকাত জামাতের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক জানিয়ে হাইআতুল উলয়ার আরেক সদস্য সুনামগঞ্জের জামিয়া মাদানিয়া মাদরাসার মোহতামিম মাওলানা আবদুল বাছির জানান, চলতি বছর থেকে দাওরায়ে হাদীস পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন করার সময় প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর ব্যাপারে যাচাই-বাছাই করবে বোর্ড। ইতিপূর্বে দাওরায়ে হাদীস শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাপূর্বক রেজিস্ট্রেশন ও আবেদন প্রক্রিয়ায় শিথীলতা থাকলেও  চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকে রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতিতে কঠোরতা অবলম্বন করা হবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এসময়  বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, ‘আল হাইআতুল উলয়ার কো চেয়ারম্যান মাওলানা আশরাফ আলী, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মাওলানা আযহার আলী আনোয়ার শাহ, মাওলানা আব্দুল হালিম বুখারি, মাওলানা মাহফুজুল হক, মুফতি রুহুল আমীন, মুফতি ফয়য়জুল্লাহ,  মাওলানা নুরুল হুদা ফয়জী, মাওলানা আব্দুর রহিম, মাওলানা আব্দুর রশিদ, মাওলানা শামসুদ্দিন জিয়া, মাওলানা আব্দুল হামিদ (মধুপুরের পীর), মুফতি মোহাম্মদ ওয়াক্কাস, মাওলানা তাজুল ইসলাম কাসেমী, মাওলানা শামসুল হক,  মাওলানা মুশতাক আহমদ প্রমুখ।

পূর্ববর্তি সংবাদদেশে বর্তমানে ঋণ খেলাপির পরিমাণ ১ লাখ ২ হাজার ৩১৫ কোটি টাকা
পরবর্তি সংবাদবিমান বিধ্বস্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ৯ আরোহী নিহত