কুলাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বজনদের আহাজারি

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া আন্তঃনগর উপবন এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় আহত ও নিহতদের দেখতে  স্বজনেরা   ভিড় জমিয়েছেন কুলাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।  এ সময় নিখোঁজদের স্বজনদের অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।

কুলাউড়ার বুকশিমুল গ্রামের বাসিন্দা আনু মিয়া কলেজ পড়ুয়া ছেলে শাকিলের খোঁজে এসে বলেন, উপবন এক্সপ্রেসে করে তার ছেলে ঢাকায় যাচ্ছিল। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে ছুটে এসেছেন।

এখন পর্যন্ত ছেলে শাকিলের খোঁজ পাননি জানিয়ে আনু মিয়া বলেন, মুঠোফোনেও ছেলেকে পাচ্ছেন না তিনি। চিকিৎসা নিতে আসা রুবেল নামের এক যাত্রী জানান, রেলের নিচে অনেক লাশ এখনো চাপা পড়ে আছে।

কুলাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল ফটক থেকে ভেতর পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অনেক মানুষ অ্যাম্বুলেন্সে থামিয়ে আহতদের খোঁজ করেন।

রোববার রাত পৌনে ১২টার দিকে উপবন এক্সপ্রেস ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। এতে ঘটনাস্থলে সাত জনের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ২৫০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুরুল হক সাত জন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করছেন।

ঘটনাস্থল থেকে কুলাউড়া উপজেলার চেয়ারম্যান এ এক এম সফি আহমদ (সলমান) গণমাধ্যমকে জানান, আমরা চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছি। এর মধ্যে তিনজন নারী ও একজন পুরুষ রয়েছেন। নিহত একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি কুলাউড়ার সাবেক পৌর মেয়রের ভাই আব্দুল বারির স্ত্রী বলে জানা গেছে। বাকিদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সাংবাদিকরা বলেন, ঘটনাস্থলে ৫ জন ও কুলাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল স্টেশন থেকে ২০০ মিটার দূরে কালামিয়া বাজার সংলগ্ন একটি ব্রিজে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

জানা গেছে, সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে ভারী যান চলাচল বন্ধ থাকায় ট্রেনের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন ঢাকাগামী যাত্রীরা। ফলে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী নিয়ে ট্রেনটি সিলেট থেকে ছেড়ে যায়।

 

পূর্ববর্তি সংবাদকুলাউড়ায় গভীর রাতে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা, নিহত ৭, আহত ২৫০
পরবর্তি সংবাদইস্তানবুলের মেয়র পদে বিরোধী প্রার্থীর বিজয়, অভিনন্দন জানালেন এরদোগান