ওলিউর রহমান।।
বরগুনায় স্ত্রীর সামনে প্রকাশ্যে চাপাতি-রামদা দিয়ে কুপিয়ে রিফাত হত্যার ঘটনাটি হৃদয়বিদারক। তবে এসব লোমহর্ষক ঘটনা এখন আর মানুষকে আঘাত করে না তেমন। দেশের মানুষ ক্রমেই অভ্যস্থ হয়ে ওঠছে হত্যাকাণ্ডের নিত্য নতুন তরিকা দেখে।
তিনমাসের ব্যবধানে দেশবাসী দেখল চারটি ‘আকর্ষণীয়’ হত্যাকাণ্ড। প্রত্যেক পরবর্তী ঘটনা পূর্ববর্তী ঘটনার চেয়ে ভয়াবহ। বেদনাদায়ক। হৃদয়বিদারক।
ফেনীর নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে, বনানীতে এক রোযাদারকে ইফতারের মুহূর্তে চলন্ত গাড়ি থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে, কিশোরগঞ্জে তানিয়াকে ধর্ষণের পর মাথার খুলি উড়িয়ে এবং গতকাল বরগুনায় রিফাতকে দিন-দুপুরে স্ত্রীর সামনে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনা যেমন বর্তমানে দেশের নৈমিত্তিক ঘটনা তেমনি অভিনব পদ্ধতির সব হত্যাকাণ্ডও এখন সাধারণ খবর। সংবাদমাধ্যমে এসব খবর ছাপার পর কী কী হতে পারে, কে কী বলতে পারে তা এখন দেশের প্রায় সবাই জানে। তাই এসব ভয়াবহ খবর এখন আর মানুষকে আহত করে না তেমন। আসলে একস্থানে আঘাত বারবার করলে তা সহনীয় হয়ে যায়। মানুষ ভাবতে থাকে, তরিকা যাই হোক আখের তো মৃত্যুই। দেশে তো কত মানুষই মরছে। সেদিনও সিলেটের কুলাউড়ায় কতজন মারা গেল!
কোনো অন্যায়ের প্রেক্ষিতে বিচারের সময় অপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার পাশাপাশি আরেকটি অন্যতম উদ্দেশ্য থাকে, সমাজে এই অপকর্ম যেন বন্ধ হয়। অপরাধীর উপর আরোপিত শাস্তি যেন সমাজের মানুষের জন্য দৃষ্টান্ত হয়।
ইসলামের যে ফৌজদারি দণ্ডবিধি ও বিচার ব্যবস্থা তাতে এ বিষয়টি লক্ষ্য রাখা হয়েছে পূর্ণমাত্রায়। যিনার শাস্তিস্বরূপ বেত্রাঘাত বা রজম করতে হবে প্রকাশ্যে। যেন সমাজের অন্যরা শিক্ষা নেয়। একজনকে শাস্তি প্রয়োগ যে অন্যদের অপরাধের প্রবণতাকে কমিয়ে দেয় সেজন্যই কুরআনে কিসাসের ব্যাপারে বলা হয়েছে – ‘কিসাসে তোমাদের জন্য রয়েছে প্রাণ’।
কিন্তু আমাদের দেশে ধর্ষণ, হত্যাকাণ্ডসহ অন্যান্য অপরাধের বিচারের যে দীর্ঘতম প্রক্রিয়া ও আইনের যে ফাক-ফোকর তা যাদের মধ্যে অপরাধের প্রবণতা বেশি তাদেরকে অভয় দেয় যেন! তাৎক্ষণিক কোনো শাস্তি নেই জেনে নৃশংসতম পদ্ধতিতে একেকজন ক্রিমিনালকে তার জিঘাংসা চরিতার্থ করতে সাহস যোগায়। দীর্ঘতম প্রক্রিয়ায় মুক্তিও পেয়ে যেতে পারে মনে করে অনেক ‘ভালো’ মানুষও হত্যাকাণ্ডের মতো ভয়াবহ ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে।
সাধারণ মানুষের জীবন এখন বড্ড অনিরাপদ। কে কখন কোথায় দুর্ঘটনার শিকার হবে বলা মুশকিল। জনগণ এখন নিজের জান এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। ব্যক্তির মর্যাদা ও সামাজিক অবস্থানকে এখন পরোয়া করা হয় না। সাবেক মন্ত্রীর আত্মীয়ও এখন ‘দুর্ঘটনা’র শিকার হয়।
মানুষ এখন শঙ্কিত, হত্যার পরবর্তী পদ্ধতিটা কী? আর সেটি কি তার ক্ষেত্রে বা তার পরিবারের কারো ক্ষেত্রেই প্রয়োগ হবে কি না!
















