ইসলাম টাইমস ডেস্ক: জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ’র মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেছেন, ‘২০১৩ সালে শিক্ষার আধুনিকায়নের নামে নতুন একটি বাতিল বিষয়বস্তু ডারউইনের ‘বিবর্তনবাদ’ শিক্ষা নবম-দশম শ্রেণী থেকে শুরু করে মাস্টার্স শ্রেণী পর্যন্ত পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই শিক্ষার মাধ্যমে কোমলমতি লক্ষ লক্ষ মুসলিম শিক্ষার্থীর মননে নাস্তিক্যবাদের বীজ এবং চিন্তা-চেতনার বুনন চলছে।
আজ (২৮ জুন) শুক্রবার এক বিবৃতিতে আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী ২০১৩ সালের পরে পাঠ্যবইয়ে ‘বিবর্তনবাদ’ অন্তর্ভুক্তির নিন্দা জানান এবং সরকারের প্রতি অবিলম্বে ইসলামী বিশ্বাস ও জাতি বিনাশী ‘বিবর্তনবাদ’-এর শিক্ষা বাতিল ও নিষিদ্ধের দাবি জানান।
বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি, সাধারণ বিজ্ঞান, নবম ও দশম শ্রেণী, পৃষ্ঠা নং- ১০০ থেকে ১১২ পর্যন্ত, জীব বিজ্ঞান, নবম ও দশম শ্রেণী, পৃষ্ঠা নং- ২৭০ থেকে ২৭৬ পর্যন্ত, জীব বিজ্ঞান ২য় পত্র, (গাজী পাবলিশার্স-ঢাকা), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী, পৃষ্ঠা নং- ২৮৭ থেকে ৩০০ পর্যন্ত, সমাজ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী, পৃষ্ঠা নং- ২৫১ থেকে ২৫৬ পর্যন্ত পাঠ বিবর্তনবাদের আলোকেই লেখা হয়েছে। স্নাতক পর্যায়ে বির্বতনের উপর স্বতন্ত্র পূর্ণাঙ্গ বই রয়েছে।
বিবৃতিতে আল্লামা কাসেমী আরো বলেন, বিবর্তনবাদের প্রতিপাদ্যবিষয় হলো, সৃষ্টিকর্তার ধারণা থেকে মানুষকে বের করে দেয়া। কারণ, ডারউইনবাদ বা নব্যডারউইনবাদ বা ঊাড়ষঁঃরড়হ-এর বক্তব্য- ‘সবকিছু প্রকৃতি থেকে সৃষ্টি হয়েছে। একটি ভাইরাস, এরপর একটি ব্যাকটেরিয়া, এর থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন বছর ধরে একটি থেকে অপরটি, এমন করে করে সমস্ত উদ্ভিদ ও প্রাণীজগত সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ ও বানরের পূর্বপুরুষ একই ছিল’।
আল্লামা কাসেমী বলেন, পৃথিবীর অনেক বিজ্ঞানী বিবর্তনবাদের সাথে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তারা নিশ্চিত করেছেন, পৃথিবীতে কখনো এভাবে বিবর্তনের মতো ঘটনা ঘটেনি। বিবর্তন ঘটে প্রজাতির বয়স, আকৃতি, বৈশিষ্ট্য-এর উপরে। কিন্তু বিবর্তনের দ্বারা নতুন প্রজাতির কখনো উদ্ভব হয় না। পৃথিবীর প্রায় ৯৯% মেডিকেল ডাক্তারগণ মানুষ ও বানরের পূর্বপুরুষ যে এক, এটা স্বীকার করেন না। কোষ বিজ্ঞান বা আণবিক বিজ্ঞান দ্বারা বিবর্তনকে প্রমাণ করা যায় না। বিবর্তন যদি কোন প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক বিষয়বস্তু হতো, তবে উন্নত দেশসমূহ যেমন- আমেরিকা, ইসরাইল, তুরস্ক, রুমানিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া প্রমুখ দেশে বির্বতন শিক্ষাকে নিষিদ্ধ করা হতো না। প্রশ্ন হল- এত বিরোধ থাকার পরেও কেন পৃথিবীতে এই শিক্ষা অব্যাহত রয়েছে। বেশিরভাগ বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এটা শিক্ষার রাজনৈতিকিকরণ। মানুষকে নীতি-নৈতিকতা ও আদর্শিক চেতনাবোধ থেকে বের করে আত্মকেন্দ্রিক ভোগবাদে মশগুল রাখার জন্য এই বিবর্তনবাদের শিক্ষা পুঁজিবাদের কাছে খুবই জনপ্রিয় অস্ত্র।
আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, এভাবে পুরো জাতির এত বড় সর্বনাশ আমরা করতে দিতে পারি না। আমরা এমন জাতি বিনাশী উদ্যোগ চুপচাপ দেখে যেতে পারি না। তিনি এ বিষয়ে দেশের আলেম সমাজ, অভিভাবকমহল, রাজনীতিবিদ ও জনসাধারণকে সচেতন ও সোচ্চার হওয়ার তাগিদ দেন এবং সরকারের প্রতি অনতিবিলম্বে ‘বিবর্তনবাদ’ শিক্ষা বাতিলের জোর আহ্বান জানান।
















