রিফাতের খুনিরা স্থানীয় রাজনীতিতে ক্ষমতাধর পক্ষ

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: রিফাত শরীফের খুনিরা স্থানীয় রাজনীতিতে ক্ষমতাধর পক্ষ। এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম আসামী দুই জন হলেন সাব্বির হোসেন নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড ও রিফাত ফারাজী। রাজনৈতিকভাবে এরা দুই জনই ক্ষমতাধর।

দৈনিক ইত্তেফাকের এক অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়,  রিফাত ফারাজীর আপন খালু বর্তমান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন। এছাড়া রিফাতের চাচাতো দাদা মরহুম লতিফ ফারাজী ২০ বছর আগে ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। আর বর্তমান এমপি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর ছেলে সুনাম দেবনাথের ক্যাডার হিসেবেই পরিচিত নয়ন। এছাড়া বরগুনা পৌরসভার কাউন্সিলর রইসুল ইসলাম রিপনের ছেলে জনির ডান হাত হিসেবেও পরিচিত নয়ন। পাশাপাশি মাদক ব্যবসার বিপুল অর্থ তো আছেই তাদের।

 

সংবাদমাধ্যম সূত্রে আরও জানা যায়,   ২০১৭ সালের ৫ মার্চ রাতে নয়নের বাসায় অভিযান চালায় বরগুনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় বিপুল পরিমাণ মাদক, দুইটি দেশীয় অস্ত্র ও এক সহযোগীসহ নয়নকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার বাসা থেকে উদ্ধার করা মাদকের মধ্যে ছিল ৩০০ পিস ইয়াবা, ১২ বোতল ফেনসিডিল ও ১০০ গ্রাম হেরোইন।

বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবীর মোহাম্মদ হোসেন বলেন, নয়ন বন্ডের মাদক বাণিজ্যের কথা আমরা জানি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এর আগে নয়ন ও তার সহযোগীরা গ্রেফতার হয়ে জেল খেটেছে; কিন্তু বারবারই তারা জামিনে বেরিয়ে যায়।

আরেক খুনি রিফাত ফারাজী বরগুনা সদর উপজেলার রায়েরতবক গ্রামের দুলাল ফারাজীর ছেলে। দুলাল ফারাজী সাবেক জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মরহুম লতিফ ফারাজীর ভাতিজা। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দুলাল ফারাজীর ভায়রা। স্থানীয়রা জানান, মাদক ব্যবসা, মাদক সেবন ও ছিনতাইসহ নানা অপকর্মে যুক্ত ছিলেন রিফাত ফারাজী। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে স্থানীয়দের কাছে একটি আতঙ্কের নাম রিফাত ফারাজী। রিফাতের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন এমন মানুষের সংখ্যা কম নয়।

পূর্ববর্তি সংবাদমাদারীপুরে পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগে ঘুষ-বাণিজ্য, ৪ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে
পরবর্তি সংবাদবগুড়ায় ট্রাকচাপায় নিহত ২ জন, আহত ২ জন