তারিক বিন মুজিব ।।
উলামাবাজার মাদরাসা। প্রকৃত নাম দারুল উলূম আল হুসাইনিয়া। ফেনী জেলা শহর থেকে দক্ষিণে সাগর-স্নাত উপজেলা সোনাগাজীর চরচান্দিয়া গ্রামে অবস্থিত দেশবিখ্যাত এ মাদরাসা। অবিভক্ত ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর সিপাহসালার, শাইখুল ইসালাম সাইয়েদ হুসাইন আহমাদ মাদানী রাহিমাহুল্লাহ-এর নামে মাদরাসার নাম রাখা হয় দারুল উলূম হুসাইনিয়া।
ফেনীসহ বৃহত্তর নোয়াখালীতে আলেমদের প্রভাব স্বভাতই বেশি। সমগ্র বাংলাদেশে ইসলাম চর্চায় বৃহত্তর নোয়াখালীর আলেমদের অবদান অন্য যেকোনো জায়গার তুলনায় বেশি। তাই চরচান্দিয়া গ্রামে মাদরাসা প্রতিষ্ঠা হলে মাদরাসাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বাজারের নাম দেয়া হয় উলামাবাজার। সে অঞ্চলের জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সমর্থক আলেম ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এ-বাজারের পত্তন করেন বলে জানা যায়।
১৩৬৫ হিজরী। ফেনী জেলার কৃতি সন্তান, হুসাইন আহমদ মাদানী রহ.-এর একান্ত অনুরক্ত এলাকার জন-প্রতিনিধি হাকীম মাওলানা আব্দুল হক রাহ.-এর উদ্যোগ এবং তার সহযোগীদের প্রচেষ্টায় এ মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। উলামাবাজার মাদরাসা এতদঞ্চলের বৃহত্তম দ্বীনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
মাদরাসার প্রতিষ্ঠাকালীন মোহতামিম ছিলেন হযরত মাওলানা ফজলুল হক বাকী রাহ.। তার পরে মাদরাসা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন উলামাবাজারের হুজুর বলে খ্যাত হযরত মাওলানা আবদুল হালীম রহ.। তিনি ছিলেন থানবী রহ.-এর মুজায মাওলানা নূর বখশ শর্শর্দী হুজুর রহ.-এর খলিফা। তাঁর সময়ে মাদরাসা জাহেরী বাতেনী উভয় দিক থেকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে এবং দেশব্যাপী সুখ্যাতি লাভ করে।

পরবর্তীতে মুহতামিমের দায়িত্ব পালন করেন হযরত মাদানী রাহ.-এর শাগরিদ এবং হযরত হাফেজ্জী হুযুর রাহ.-এর বিশিষ্ট খলিফা, ফেনী অঞ্চলে বড় হুযুর বলে পরিচিত হযরত মাওলানা সাইয়্যেদ আহমদ রহ.। মাদরাসার পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের ঈমান আমলের ইসলাহের জন্য তিনি সময়ে সময়ে ইসলাহি মজলিসের আয়োজন করতেন। ইবাদত বন্দেগিতে তিনি ছিলেন সালাফের নমুনা। শত বছর বয়সেও রমজানে তারাবীর নামায দাঁড়িয়ে আদায় করতেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামায নিয়মিত মসজিদে আদায় করতেন। দীর্ঘসময় আওয়াবীন ও তাহাজ্জুদ পডতেন। ফজরের নামাযের পর ইশরাক পর্যন্ত প্রায় একঘণ্টা মুরাকাবা করতেন।
মাদরাসার বর্তমান মোহতামিম উর্দু ভাষা ও সাহিত্যে শক্তিমান লেখক মাওলানা নূরুল ইসলাম আদীব ছাহেব হুযুর। তিনি দেশের প্রখ্যাত মুহাদ্দিস হযরত মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ সন্দীপী রাহ.-এর খাস শাগরিদ এবং হযরত মাওলানা আব্দুল হালীম রাহ.-এর খলীফা।
দেশের শীর্ষস্থানীয় এ মাদরাসায় বর্তমানে প্রায় ১৮ শত তালিবুল ইলম পড়াশোনা করছেন। মাদরাসার উস্তায মুফতি ইমদাদুল্লাহর সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।
















