হজ্ব আল্লাহ পাকের ইশক ও মুহাববতের পরিচায়ক ইবাদত: আল্লামা আবদুল হাই পাহাড়পুরী রহ.

হজ্বের তাৎপর্য ও প্রাণ নিয়ে উলামা-মাশায়েখদের আলোচনায় হৃদয় সমৃদ্ধ হয়। হজ্ব সম্পর্কে প্রায় ১১ বছর আগে শায়খুল হাদিস আল্লামা আবদুল হাই পাহাড়পুরী রহ.-এর একটি ছোট্ট অথচ তাৎপর্যপূর্ণ সাক্ষাৎকার প্রকাশ হয়েছিল মাসিক আলকাউসারে। সেটি এখানে পুনঃপ্রকাশ করা হলো।

ইবাদত হিসেবে হজ্বের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?

আল্লাহ পাকের ইবাদত অনেক। কোনো ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহ পাকের গোলামী প্রকাশ করা মাকছুদ, কোনো ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহ পাকের প্রতি বান্দার ইশক ও মুহাববত প্রকাশ করা মাকছুদ। নামাযের দ্বারা পুরোপুরি আল্লাহ পাকের দাসত্ব ও গোলামী প্রকাশ করা মাকছুদ। আর হজ্ব দ্বারা মকছুদ হল বান্দার পক্ষ থেকে আল্লাহ পাকের প্রতি ইশক ও মুহাববত প্রকাশ করা।

বান্দা যখন মুমিন হয়, কালিমায়ে তাইয়্যেবা পাঠ করে তখন কালিমার প্রথম অংশে দু’টি স্বীকারোক্তি তার পক্ষ থেকে করা হয়ে যায়। একটি হচ্ছে, মাওলা! আমি তোমার বান্দা, তোমার দাস। অপরটি হচ্ছে, মাওলা! তুমি আমার মাহবুব। আমি তোমার আশেক। কালিমার এ দু’টি দাবির মধ্য থেকে একটির প্রমাণ পেশ করে নামায। নামায আবদিয়্যাত বা দাসত্বের প্রমাণ পেশ করে। আর অপরটি অর্থাৎ ইশক ও মুহাববতের প্রমাণ পেশ করে হজ।

হজ্বের আমলগুলোর মধ্যে দাসত্ব কিংবা ইশক -কোনটার প্রভাব বেশি?

হজ্বের আমলগুলো ইশক ও মুহাববতে ভরপুর। একজন আশেক বা প্রেমিক তার মা’শুক বা প্রেমাষ্পদের জন্য যা যা করে বা করতে পারে হজ্বে সবই করা হয়। বাড়ি থেকে হাজী তালবিয়া পড়তে পড়তে রওয়ানা হন। নিজের সাধারণ পোশাক ত্যাগ করে ইহরামের কাপড় পরেন, ইহরাম বাধেন। এভাবে মা’শুক-আল্লাহ পাকের ঘর পর্যন্ত পৌঁছতে পৌঁছতে অনেক কিছুই করেন। পায়ে জুতা থাকে না, গায়ে সেলাই করা কাপড়ও থাকে না, খোশবু লাগানো হয় না ইত্যাদি। আশেক যেভাবে মা’শুকের বাড়ির চারপাশে ঘুরতে থাকে সেখানে গিয়েও বান্দা সেভাবে ঘুরতে থাকে। হজ্ব হল মুহাববতের প্রকাশক্ষেত্র। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত হজ্বের সব আমলে মুহাববতেরই প্রকাশ করা হয়। নামায দ্বারা বান্দার বন্দেগীর দাবি আর হজ্ব দ্বারা আশেকের ইশকের দাবি পূরণ করা হয়।

হজ্বে যাওয়ার আগে একজন হজ্বযাত্রীর কিভাবে প্রস্তুত হওয়া দরকার?

হজ্বে যাওয়ার আগে দিলকে ভালো করে প্রস্ত্তত করে নিতে হবে। আল্লাহ পাকের ইশক ও মুহাববতে দিলকে পরিপূর্ণ করতে হবে। হজ্বের মাসায়েল ভালোভাবে শিখে নিতে হবে। তারপর হজ্বে রওয়ানা হতে হবে। প্রস্তুতি নিতে হবে এমনভাবে, যেন হজ্বের প্রত্যেকটি আমল আল্লাহ পাকের মুহাববত ও ইশকের পরিচায়ক হয়। অনেকের জিন্দেগীতে হজ্ব একবার আসে, বার বার আসে না। এজন্য প্রস্তুতিটাকে পূর্ণাঙ্গ করতে হবে। মোটামুটিভাবে হজ্বের রূহ হল, আল্লাহ পাকের পূর্ণ মুহাববত অর্জন এবং আল্লাহর রাহে কুরবানীর প্রশিক্ষণ। নামাযের মধ্য দিয়ে বন্দেগী আর হজ্বের মধ্য দিয়ে মুহাববতের নযরানা আল্লাহ পাকের দরবারে পেশ করে বান্দা। #

সাক্ষাৎকার গ্রহণ: শরীফ মুহাম্মদ

পূর্ববর্তি সংবাদদুধে ভেজাল ধরায় অধ্যাপক ফারুককে হয়রানির অভিযোগ
পরবর্তি সংবাদভারতের হারে বাংলাদেশে ব্যাপক উল্লাসের কারণ কী: দুই বিশ্ববিদ্যালয়-অধ্যাপকের বিশ্লেষণ