ইসলাম টাইমস ডেস্ক: ‘উত্তাল সাগরে ট্রলার ডুবে যাওয়ার পর বাঁশ ধরে ভাসছিলাম ১৫ জন মানুষ। আমি ছাড়া সবার লাইফ জ্যাকেট ছিল। একে একে তলিয়ে যাচ্ছিলেন সহকর্মীরা। সব শেষে ছিলাম ভাইপো আর আমি। উদ্ধারের ৩ ঘণ্টা আগে ভাইপো তলিয়ে গেল। যখন বৃষ্টি হতো হা করে পান করতাম। কিন্তু মাছ আমার বাহুতে, ঘাড়ে কামড়াচ্ছিলো। দিন রাত কখনো ঘুমাইনি। বাবা, মা, ছেলে আর মেয়ের মুখটি ভেসে উঠছিল।’ বলছিলেন সাগর থেকে উদ্ধার হওয়া ভারতীয় জেলে রবীন্দ্রদাশ।
রবিন্দ্রদাশের ঘটনা যেন কুরআনের এই আয়াতেরই প্রতিচ্ছবি- তিনিই তোমাদের ভ্রমন করান স্থলে ও সাগরে। এমনকি যখন তোমরা নৌকাসমূহে আরোহণ করলে আর তা লোকজনকে অনুকূল হাওয়ায় বয়ে নিয়ে চলল এবং তাতে তারা আনন্দিত হল, নৌকাগুলোর উপর এল তীব্র বাতাস, আর সর্বদিক থেকে সেগুলোর উপর ঢেউ আসতে লাগল এবং তারা জানতে পারল যে, তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে, তখন ডাকতে লাগল আল্লাহকে তাঁর এবাদতে নিঃস্বার্থ হয়ে যদি তুমি আমাদেরকে এ বিপদ থেকে উদ্ধার করে তোল, তাহলে নিঃসন্দেহে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব।
তারপর যখন তাদেরকে আল্লাহ বাঁচিয়ে দিলেন, তখনই তারা পৃথিবীতে অনাচার করতে লাগল অন্যায় ভাবে। হে মানুষ! শোন, তোমাদের অনাচার তোমাদেরই উপর পড়বে। পার্থিব জীবনের সুফল ভোগ করে নাও-অতঃপর আমার নিকট প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তখন আমি বাতলে দেব, যা কিছু তোমরা করতে।
ভারতের গভীর সাগরে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ দাশ ওরফে কানু দাশ। খারাপ আবহাওয়ার কারণে ভারত সাগরের উপকূলে এক সপ্তাহ আগে তার মাছ ধরার ট্রলারটি ১৫ জন সঙ্গীসহ সাগরে ডুবে যায়।
রবীন্দ্রনাথ দাশের বাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায়। পেশায় জেলে। বাড়িতে তার বাবা-মা, স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে রয়েছে।
প্রায় এক সপ্তাহ ধরে না খেয়ে, উত্তাল সাগরের প্রচণ্ড ঢেউয়ের সঙ্গে যুদ্ধ করে তিনি কীভাবে বেঁচে ফিরলেন, সেটাই সবাইকে অবাক করছে। তার সঙ্গে ছিল তার ভাইপোসহ ১৫ জন সহকর্মী। লাইফ জ্যাকেট থাকলেও তারা একে একে সবাই পানিতে তলিয়ে গেছে। শুধু বেঁচে ফিরেছেন রবীন্দ্রনাথ একাই।
এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘যাদের সহযোগিতায় আমি নতুন জীবন ফিরে পেয়েছি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’
বুধবার বেলা ১১টার দিকে এমভি জাওয়াদের কুতুবদিয়া অবস্থান করার সময় জাহাজের টিম সদস্যরা একটি লোককে সাগরে ভেসে থাকতে দেখে জাহাজের মাস্টারকে জানান। তিনি সঙ্গে সঙ্গে কোস্ট গার্ড, বাংলাদেশ নেভি এবং পোর্টকে খুদে বার্তা পাঠিয়ে বিষয়টি জানান। তবে খারাপ আবহাওয়ার কারণে নেভি ও কোস্টগার্ড সদস্যরা দ্রুত আসতে পারবে না বলে জানায়।
তখন জাহাজের নাবিকরা ওই জেলেকে সাগর থেকে উদ্ধার করে। তখন থেকে রবীন্দ্রনাথ দাশকে উদ্ধারকারী জাহাজেই চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়েছিল।
কেএসআরএম গ্রুপের সিইও মেহেরুল করিম বলেন, আমরা প্রতিকূল পবিবেশে সম্পূর্ণ মানবিক বিবেচনায় ভারতীয় ওই জেলেকে গভীর সাগর থেকে উদ্ধার করেছি। যদিও উদ্ধারের পুরো প্রক্রিয়াটি সহজ ছিল না। রবীন্দ্রনাথ যেহেতু ভারতীয় নাগরিক তাই বেশকিছু প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাকে প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
















