ইসলাম টাইমস ডেস্ক: সুনামগঞ্জের কয়েকটি উপজেলায় লাখো মানুষ বন্যার পানিতে আটকা পড়েছেন। শুকনো খাবারে কোনো মতে পার হচ্ছে তাদের দিনরাত। টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে নেমে আসা পানি থৈ থৈ করছে বাড়ির চারপাশে। কারও কারও ঘরেও প্রবেশ করেছে তা। ঘর থেকে বের হতে পারছেন না তারা। বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নিয়েই তারা পড়ে আছেন । দুর্ভোগের শেষ নেই। অপেক্ষায় থেকেও পাচ্ছেন না পর্যাপ্ত ত্রাণ। খাবার পানির সংকট চলছে । দুর্ভোগের এই খবর পাওয়া গেছে সুনামগঞ্জের সদর, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, দোয়ারাবাজার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে।
এসব উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে।
সুনামগঞ্জের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৮৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ওইসব উপজেলার বেশিরভাগ সড়ক পানিতে নিমজ্জিত হয়ে আছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ১৪ হাজার ৫০০ ঘরবাড়িতে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। আর লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
বিশ্বম্ভরপুরের বহু বাসিন্দার ঘরে পাঁচ দিন আগে বন্যার পানি প্রবেশ করে। সেই থেকে চুলায় আগুন জ্বালাতে পারছেন না তারা। দোকান থেকে শুকনো খাবার কিনে এনে রাখা ছিল সামান্য। অল্প অল্প করে তাই খাচ্ছেন।
সলুকাবাদ ইউনিয়নের সাক্তারপাড় গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, ‘মানুষ তো কোনও রকমে খেয়েপরে বেঁচে আছে। কিন্তু গবাদিপশু, হাঁসমুরগি নিয়ে কৃষকরা সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন। প্রতিটি গোয়ালায় বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এতে গবাদিপশুকে উঁচু জায়গায় সরিয়ে নিতে হচ্ছে।’
সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের লালপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রহিম বলেন, ‘সরকার ত্রাণ দিচ্ছে। কিন্তু সবাই তা পাচ্ছে না। ত্রাণের পরিমাণ আরও বাড়ানো প্রয়োজন। নগদ টাকা, শুকনো খাবার ও ওষুধ বেশি দরকার।’
লালপুর গ্রামের মাছচাষি মো. দারু মিয়া বলেন, ‘আমার গ্রামের আলাল মিয়া, রুহুল আমিন, জাহের মিয়া, বিরাজ মিয়া, জহুর মিয়া, মানিক মিয়া, লাল মিয়া, জয়নাল আবেদীনসহ ২৫ জন চাষির মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। এতে ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।’
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, ‘জেলায় সবচেয়ে বেশি বন্যা আক্রান্ত উপজেলা তাহিরপুর। দক্ষিণ বড়দল, উত্তর বড়দল, শ্রীপুর দক্ষিণ, শ্রীপুর উত্তর, বাদাঘাট, বালিজুড়িসহ ছয়টি ইউনিয়নের বেশিরভাগ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। আনুমানিক পাঁচ হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি বিনষ্ট হয়েছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাত্র দুই হাজার ৬০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে; যা চাহিদার তুলনায় নগণ্য। শুকনো খাবারের প্যাকেটের পরিমাণ আরও বাড়ানো প্রয়োজন।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু বকর সিদ্দিক ভুইয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘সুরমা নদীর পানি ৮ দশমিক ৪ থেকে ৮ দশমিক ৬-এর মধ্যে ওঠানামা করছে। পানি এখন স্থির অবস্থায় রয়েছে। আগামী কয়েক দিন আরও বৃষ্টি হবে ও পাহাড়ি ঢল নামবে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পানি বৃদ্ধিও অব্যাহত থাকবে।’
জানা গেছে, ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় নগদ ১০ লাখ টাকা, ৩০০ টন চাল ও চার হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার দিয়েছে। প্রতি প্যাকেট শুকনো খাবারে চাল, ডাল, তেল, লবণ, চিনিসহ সাড়ে ১৬ কেজি সামগ্রী থাকে। তবে এবার খাবারের প্যাকেটে মোমবাতি ও দেশলাই নেই।’
















