ইসলাম টাইমস ডেস্ক: পাঠ্যবইয়ে ‘বিবর্তনবাদ’ পাঠদান বিষয়ে আলোচনার জন্য রাজধানীর জামিয়া হোসাইনিয়া আরজাবাদ মাদরাসা মিলনায়তনে গতকাল (১৫ জুলাই) ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী জেলাসমূহের খতীব ও বক্তাদের নিয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ-্এর সহসভাপতি শায়খুল হাদীস আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক’র সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রেখেছেন- মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব, মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়া, মাওলানা খোরশেদ আলম কাসেমী, মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, মাওলানা লোকমান মাজহারী, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ূবী, মাওলানা মামুনুল হক, মাওলানা হাসান জামিল, মাওলানা হামিদ জহিরী প্রমুখ।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ’র মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী।
সভায় বক্তারা একমত পোষণ করে বলেন যে, মুসলিম শিক্ষার্থীদের মননে নাস্তিক্যবাদের বীজ বুননের অসৎ উদ্দেশ্যেই ২০১৩ সালে একযোগে মাধ্যমিক স্তর থেকে উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক স্তর পর্যন্ত পাঠ্যবইয়ে ডারউইনের ‘বিবর্তনবাদ’ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিবর্তনবাদ মানুষ ও বানরের পূর্ব পুরুষ একই সাব্যস্ত করে। এই মতবাদ পবিত্র কুরআনের আয়াতের সম্পূর্ণ বিরোধী এক কুফরী মতবাদ। কারণ, পবিত্র কুরআনের অসংখ্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে বলেছেন, মানব জাতির উৎপত্তি হযরত আদম ও হাওয়া (আ.) থেকেই শুরু হয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, ইসলাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিরোধী নয়। বরং জ্ঞানের চর্চা ও গবেষণাকে ইসলাম উৎসাহিত করে। কিন্তু বিজ্ঞান চর্চার নামে মুসলমানদের ঈমান-আক্বিদা বিনষ্টের ষড়যন্ত্র মেনে নেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা এমনটা চলতে দিতে পারি না।
সভায় বক্তারা সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান ও দাবি জানিয়ে বলেন, আমরা চাই এই বিষয়ে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে ওঠার আগেই অবিলম্বে ঈমান-আক্বিদা বিরোধী এবং পবিত্র কুরআনের অসংখ্য আয়াতের সাথে সাংঘর্ষিক কুফরি এই মতবাদের পাঠ পাঠ্যবইয়ে নিষিদ্ধ করা হোক। অন্যথায় আমরা একযোগে বক্তৃতা-বিবৃতির মাধ্যমে দেশব্যাপী নাস্তিক্যবাদি এই পাঠদানের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নিয়ে মাঠে নামব এবং উলামায়ে কেরামের নেতৃত্বে জনগণকে সাথে নিয়ে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে এই ঈমানী দাবি পুরণ করবো, ইনশাআল্লাহ।
















