ইসলাম টাইমস প্রতিবেদন: ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত হওয়ার খবর বর্তমান সময়ের অন্যতম আলোচিত ইস্যু। ঢাকার বাড্ডা, কেরানিগঞ্জ, নারায়ানগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মৌলভিবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় গণপিটুনিতে একাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বাক-প্রতিবন্ধী, মানসিক রোগী এমনকি সন্তানের ভর্তি সংক্রান্ত তথ্য জানতে স্কুলে গিয়ে গণপিটুনিতে নিরীহ নারীর নিহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। এছাড়াও সারাদেশে গণপিটুনিতে মারাত্মক আহত হয়েছেন অনেকেই।
কী কারণে গণপিটুনি দিয়ে হত্যাপ্রবণতা সম্প্রতি বেড়ে গেছে এবং এর প্রতিকার কী সে বিষয়ে কথা বলা হয় বিশিষ্ট মুহাদ্দিস ও লেখক মাওলানা লিয়াকত আলী এবং প্রসিদ্ধ আলোচক ও লেখক ড.মাওলানা আ ফ ম খালিদ হোসেনের সঙ্গে।
মাওলানা লিয়াকত আলী বলেন, গণপিটুনিতে নিহত হওয়া নিঃসন্দেহে মর্মান্তিক। নিরাপত্তাহীনতা এখন এতদূর পৌঁছেছে যে কেউ নিজেকে নিরাপদ ভাবতে পারছে না। নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয়, আইনের প্রতি জনগণের অনাস্থা এবং বিচারহীনতাই গণপিটুনি দিয়ে হত্যাকাণ্ডের অন্যতম কারণ।
এদিকে অধ্যাপক মাওলানা আ ফ ম খালিদ হোসেনে বলেন, বিচারের বিলম্বিত প্রক্রিয়া, আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকা এ জাতীয় হত্যাকাণ্ডের অন্যতম কারণ। মানুষ যখন প্রশাসনের প্রতি পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে না পারে তখন আইন নিজেদের হাতে তুলে নেয়।
তবে সম্প্রতি কী কারণে এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে সেটা পৃথক করে বিশ্লেষণ করা উচিত। মানুষ একটা আতঙ্ক থেকে এই কাজ করতে ‘উদ্বুদ্ধ’ হচ্ছে। পদ্মা সেতু ইস্যুকে গুজব বলা হলেও অপহরণের ঘটনা তো ঘটছে। পুলিশ বলছে, গুজবে বিশ্বাস করবেন না কিন্তু বাস্তবে তো বেশ কয়েক জায়গায় অপহরণের তথ্য পাওয়া গেছে। তাই মানুষ বিচারের প্রতি বা প্রশাসনের যথাযথ পদক্ষেপের প্রতি সন্দিহান হয়েই এই দুর্ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছে।
প্রতিকার প্রসঙ্গে ড. খালিদ বলেন, মানবপাচারের ঘটনা তো দেশে নতুন নয়। এ বিষয়ে ২০১২ সালে আইনও প্রণয়ন করা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত ট্রাইবুনাল গঠন করে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করা হয়নি। তাই আইনের সঠিক প্রয়োগ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এ জাতীয় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কমিয়ে আনতে পারে। তবে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রশাসনের উদ্যোগে জায়গায় জায়গায় সেমিনার করার পাশাপাশি দেশের আলেম সমাজের উচিত তাদের প্রতি মানুষের যে শ্রদ্ধাবোধ আছে সেটা কাজে লাগিয়ে জনগণকে এ ব্যাপারে সচেতন করা।
মাওলানা লিয়াকত আলীর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, সরকার ও প্রশাসনের যথাযথ পদক্ষেপ, জনসচেতনতা এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধই পারে এ মর্মান্তিক অপরাধ প্রবণতাকে কমিয়ে আনতে।
















